ভ্রমণ গাইড

সেন্টমার্টিন এখন উন্মুক্ত, কিন্তু জাহাজ চলছে না: কেন আটকে আছে, কবে চলতে পারে, এখন কী করবেন

১০ মাস পর ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য খুলেছে, কিন্তু কক্সবাজার থেকে একটি জাহাজও ছাড়েনি। কোন কোন অনুমোদন বাকি, জাহাজ কবে চলতে পারে, রাতে থাকা যাবে কি না, আর এখন যাঁরা যেতে চান তাঁদের কী করা উচিত, সব এক জায়গায়।

Unseen Bangladesh ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬ · ৯ মিনিটে পড়া English
সেন্টমার্টিন এখন উন্মুক্ত, কিন্তু জাহাজ চলছে না: কেন আটকে আছে, কবে চলতে পারে, এখন কী করবেন
ছবি: Crysis Rubel, cropped by JamesA, CC BY 2.0

ট্রিপ টিকেট

দ্বীপ খোলা
১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭
জাহাজ
১ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো অনুমতি নেই
সম্ভাব্য শুরু
৪–৭ নভেম্বর, কারও মতে ১৫ নভেম্বর
ঘাট
শুধু নুনিয়ারছড়া, কক্সবাজার শহর
হালনাগাদ
১ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন আবার পর্যটকদের জন্য খুলেছে। কাগজে-কলমে মৌসুম শুরু হয়ে গেছে, দ্বীপের হোটেল-রিসোর্টও তৈরি। কিন্তু সমস্যা একটাই: কক্সবাজার থেকে দ্বীপে যাওয়ার একটি জাহাজও এখনো চলার অনুমতি পায়নি। ফলে মৌসুমের প্রথম দিনে কোনো পর্যটক দ্বীপে যেতে পারেননি।

অনেকে টিকিট খুঁজছেন, কেউ কেউ ছুটি নিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছেও গেছেন। তাই এই লেখায় সহজ ভাষায় দেখে নেওয়া যাক: জাহাজ কেন আটকে আছে, কবে চলতে পারে, এবারের নিয়ম কী, আর এই মুহূর্তে আপনার কী করা উচিত।

এক নজরে

বিষয়এখনকার অবস্থা
দ্বীপ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে খোলা, চলবে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত
জাহাজ১ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো জাহাজ চলার অনুমতি পায়নি
সম্ভাব্য শুরুজাহাজমালিকদের আশা ৪–৬ নভেম্বর; কারও মতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত লাগতে পারে
কোথা থেকে যাবেনশুধু কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট
দিনে কতজনগড়ে সর্বোচ্চ ৩,৫০০ জন
ফিজনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি
রাতে থাকাসংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পুরো মৌসুমেই রাতে থাকা যাবে

দ্বীপ খোলা, তবু জাহাজ নেই কেন

সমস্যাটা দ্বীপে নয়, ঘাটে। সেন্টমার্টিনগামী প্রতিটি জাহাজকে চলার আগে কয়েকটি আলাদা অনুমোদন নিতে হয়। ১ নভেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কোনো জাহাজকে অনুমতি দেয়নি। প্রশাসন বলছে, জাহাজমালিকেরা প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেননি।

জাহাজমালিকদের সংগঠন সি-ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) তথ্য অনুযায়ী, যেসব অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন:

  • পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র: নতুন নিয়মে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিনে চলতে পারবে না।
  • নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন
  • বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট
  • কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন
  • জাহাজের ফিটনেস আর নিরাপত্তা পরীক্ষা: গত মৌসুমে একটি পর্যটকবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনার পর এবার এই পরীক্ষায় বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. এ মান্নান স্পষ্ট বলেছেন, ফিটনেস আর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হবে না।

এর পাশাপাশি আরেকটি কাজ বাকি: বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনলাইন নিবন্ধন আর ট্রাভেল পাসের সফটওয়্যার। এবারও টিকিট কাটার সময় অনলাইন নিবন্ধন বা কিউআর কোডসহ ট্রাভেল পাস লাগবে, কিন্তু মৌসুমের শুরুতে সেই ব্যবস্থাও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।

নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৫০টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।ম্যাপগুলো দেখুন →

জাহাজ কবে চলতে পারে

এখনো কোনো নিশ্চিত তারিখ নেই। বিভিন্ন পক্ষ থেকে যা জানা গেছে:

  • জাহাজমালিকেরা: স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে ৪, ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চালানো সম্ভব হতে পারে।
  • প্রশাসন: জেলা প্রশাসকের বরাতে খবরে এসেছে, ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ের বৈঠকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। জেলা প্রশাসকের দ্বীপে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকের কথাও আছে।
  • অন্যান্য অনুমান: কোনো কোনো সূত্র বলছে ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ বলছেন ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

তাই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আপাতত সেটাকে নিশ্চিত ধরে নেবেন না।

এবারের মৌসুমের নিয়ম

জাহাজ চালু হলে এই নিয়মগুলো মেনে যেতে হবে। বিস্তারিত আর সরকারি প্রজ্ঞাপনের ছবি আছে আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ২০২৬-২৭ লেখায়।

  • সময়: ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭। আগের মৌসুমের চেয়ে ১৫ দিন বেশি।
  • ঘাট: শুধু কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজে। টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ বা উখিয়া থেকে নৌপথে যাওয়া যাবে না।
  • পর্যটকের সংখ্যা: দিনে গড়ে সর্বোচ্চ ৩,৫০০ জন। আগে ছিল ২,০০০।
  • ফি: প্রত্যেক পর্যটকের জন্য ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।
  • নিবন্ধন: অনলাইন নিবন্ধন বা কিউআর কোডসহ ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট মিলবে না।
  • নিষেধ: একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল), রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান, বারবিকিউ আর মোটরচালিত যান। ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়ায় বিধিনিষেধ বহাল।

রাতে থাকা যাবে কি?

এ নিয়ে কয়েক দিন বিভ্রান্তি ছিল। ২৫ অক্টোবরের প্রথম প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে, রাতে থাকা যাবে ডিসেম্বর থেকে। পরে ২৭ অক্টোবরের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে পুরো মৌসুমেই, মানে নভেম্বর থেকেই, দিনে বেড়ানো আর রাতে থাকা দুটোই অনুমোদন করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামের তথ্যমতে, দ্বীপের ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ আর রেস্তোরাঁ অতিথিদের জন্য তৈরি।

সেন্টমার্টিনের নারিকেল বাগান
সেন্টমার্টিনের নারিকেল বাগানছবি: Ismailim, CC BY-SA 4.0
জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।ম্যাপগুলো দেখুন →

এখন যাঁরা যেতে চান, তাঁদের জন্য পরামর্শ

  • জাহাজের তারিখ ঘোষণার আগে নন-রিফান্ডেবল কিছু বুক করবেন না। দ্বীপের হোটেল, কক্সবাজারের বাস বা বিমানের টিকিট এমনভাবে কাটুন যাতে তারিখ বদলানো যায়।
  • দালাল বা অনলাইন পেজ থেকে "নিশ্চিত টিকিট" কিনবেন না। অনুমতিই যখন হয়নি, তখন কেউ নিশ্চিত টিকিট দিতে পারে না। অনুমোদিত জাহাজের টিকিট আর ট্রাভেল পাস সরকারি নিবন্ধনের মাধ্যমেই নিন।
  • টেকনাফ বা শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে ট্রলার খুঁজবেন না। এসব জায়গা থেকে নৌপথে যাওয়া নিষেধ, আর সাগরে ছোট নৌকায় যাওয়া বিপজ্জনকও।
  • ইতিমধ্যে কক্সবাজারে থাকলে দিনগুলো কাজে লাগান। হিমছড়ি, ইনানী সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, মহেশখালী বা রামু ঘুরে আসতে পারেন। পরিকল্পনা পাবেন আমাদের কক্সবাজার ৩ দিনের ট্যুর প্ল্যান আর কম খরচে কক্সবাজার লেখায়।
  • মৌসুমের শুরুর ভিড় এড়াতে চাইলে একটু পরে যান। জাহাজ চালুর প্রথম কয়েক দিন চাপ বেশি থাকবে, আর দিনে ৩,৫০০ জনের সীমা থাকায় টিকিট দ্রুত শেষ হতে পারে। শীত জমতে থাকা নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি সাগর সাধারণত শান্ত থাকে।
  • ঘোষণার দিকে নজর রাখুন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ আর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঘোষণাই চূড়ান্ত।

জাহাজের নাম, ভাড়া আর সময় দেখুন কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন জাহাজ ২০২৬-২৭ লেখায়, আর ট্রাভেল পাস কীভাবে পাবেন জানুন সেন্টমার্টিন ট্রাভেল পাস ২০২৬-২৭ লেখায়।

দ্বীপে কী দেখবেন, কোথায় থাকবেন, কত খরচ, সব পাবেন আমাদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইডে। দ্বীপের অবস্থান আর আশপাশের জায়গা দেখতে পারেন ম্যাপে।

দ্বীপটাকে বাঁচিয়ে রাখুন

সেন্টমার্টিন সরকারঘোষিত পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এত নিয়ম, পর্যটকের সীমা আর ফি, সবই এই ছোট্ট প্রবাল দ্বীপটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। প্রবাল বা শামুক-ঝিনুক তুলবেন না, প্লাস্টিক নেবেন না, আর যা নিয়ে যাবেন তা ফিরিয়ে আনবেন।

প্রশ্নোত্তর

সেন্টমার্টিন কি এখন খোলা?

হ্যাঁ, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খোলা, চলবে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। তবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো জাহাজ চলার অনুমতি পায়নি, তাই কার্যত এখনো যাওয়া যাচ্ছে না।

সেন্টমার্টিনে জাহাজ কবে চলবে?

নিশ্চিত তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। জাহাজমালিকেরা ৪ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে শুরুর আশা করছেন, ৪ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিভাগীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারও মতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত লাগতে পারে।

টেকনাফ থেকে কি সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে?

না। নতুন নিয়মে শুধু কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত জাহাজে যাওয়া যাবে। টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ বা উখিয়া থেকে নৌপথে যাওয়া নিষেধ।

নভেম্বরে কি সেন্টমার্টিনে রাতে থাকা যাবে?

হ্যাঁ। ২৭ অক্টোবরের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পুরো মৌসুমেই, নভেম্বর থেকেই, রাতে থাকা যাবে।

সেন্টমার্টিন যেতে কত টাকা ফি লাগবে?

জাহাজের ভাড়ার বাইরে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। টিকিটের সঙ্গে অনলাইন নিবন্ধন বা কিউআর কোডসহ ট্রাভেল পাস লাগবে।

এই লেখার জায়গাগুলোর পূর্ণ গাইড

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।