সেন্টমার্টিন ট্রাভেল পাস ২০২৬-২৭: কীভাবে পাবেন, কী কী লাগবে, ঘাটে কী দেখাবেন (ধাপে ধাপে)
ট্রাভেল পাস ছাড়া এবারও সেন্টমার্টিন যাওয়া যাবে না। পাসটা আসলে কী, আলাদা করে নিবন্ধন করতে হয় কি না, কার কাছ থেকে টিকিট কিনলে পাস মিলবে, কোন কাগজ লাগবে, নকল টিকিট চিনবেন কীভাবে, আর ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি সাইট ও টিকিট বিক্রির সর্বশেষ অবস্থা।

- পাস কী
- জাহাজের টিকিটে ছাপা কিউআর কোড
- আলাদা নিবন্ধন
- লাগে না, টিকিট কাটলেই পাস
- সরকারি সাইট
- travelpass.gov.bd (ট্যুরিজম বোর্ড)
- সঙ্গে রাখবেন
- প্রিন্ট করা টিকিট আর পরিচয়পত্র
- হালনাগাদ
- ১ নভেম্বর ২০২৬
ট্রিপ টিকেট
সেন্টমার্টিন যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে গেলে প্রথম যে প্রশ্নটা আসে: "ট্রাভেল পাস কোথায় পাব?" গত মৌসুম থেকে এই পাস ছাড়া দ্বীপে যাওয়া যায় না, আর ২০২৬-২৭ মৌসুমেও নিয়মটা বহাল। কিন্তু অনেকে ভাবেন পাসের জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়, কোথাও লাইনে দাঁড়াতে হয়। আসলে ব্যাপারটা অনেক সহজ।
এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখানো হলো: ট্রাভেল পাস আসলে কী, কীভাবে পাবেন, কী কী তথ্য আর কাগজ লাগবে, ঘাটে কী দেখাতে হবে, আর কোন ভুলগুলো করবেন না।
এক নজরে
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| ট্রাভেল পাস কী | জাহাজের টিকিটের সঙ্গে দেওয়া কিউআর কোড, এটাই আপনার পাস |
| আলাদা আবেদন লাগে? | না। অনুমোদিত জাহাজ বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট কাটলেই পাস তৈরি হয় |
| কে দেখভাল করে | বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, সাইট travelpass.gov.bd |
| কী তথ্য লাগে | প্রত্যেক যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর, পরিচয়পত্রের নম্বর |
| ঘাটে কী দেখাবেন | কিউআর কোডসহ প্রিন্ট করা টিকিট আর পরিচয়পত্র |
| কিউআর কোড ছাড়া টিকিট | নকল হিসেবে গণ্য হবে |
| দিনে কতজন | গড়ে সর্বোচ্চ ৩,৫০০ জন, পাসের সংখ্যাও এই সীমায় বাঁধা |
| বাড়তি খরচ | জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি |
ট্রাভেল পাস আসলে কী, কেন লাগে
সেন্টমার্টিন সরকারঘোষিত পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। দ্বীপে প্রতিদিন কতজন যাচ্ছেন, কারা যাচ্ছেন, আর কেউ সীমার বাইরে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ন্ত্রণ করতেই ট্রাভেল পাস চালু করা হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল: পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট কিনতে হবে, প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে, আর কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগের ওই নির্দেশনার সবকিছু এই মৌসুমেও বহাল থাকবে।
সহজ কথায়: আপনার জাহাজের টিকিটে ছাপা কিউআর কোডটাই আপনার ট্রাভেল পাস।
আলাদা নিবন্ধন লাগে কি?
না। গত মৌসুমে জাহাজ কোম্পানিগুলো স্পষ্ট বলেছে, ট্রাভেল পাসের জন্য পর্যটকদের আলাদা আবেদন করতে হয় না। অনুমোদিত জাহাজের কাউন্টার, তাদের ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের কাছ থেকে টিকিট কাটলে টিকিটের সঙ্গেই কিউআর কোডযুক্ত পাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়। এ বছরও প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাসের কাজটা টিকিট বুকিংয়ের পর জাহাজ কর্তৃপক্ষই করে দেয়।
একটা জিনিস মাথায় রাখুন: আগের কিছু খবরে ট্যুরিজম বোর্ডের অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে আলাদা নিবন্ধনের কথা এসেছিল। শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে টিকিটের সঙ্গে পাস দেওয়ার ব্যবস্থা। এ বছর নিয়মে কোনো বদল এলে আমরা এখানে জানাব।
নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৫০টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।ম্যাপগুলো দেখুন →


ধাপে ধাপে: যেভাবে পাস পাবেন
- তারিখ ঠিক করুন। কবে যাবেন আর রাতে থাকবেন কি না, সেটা আগে ঠিক করুন। এ বছর নভেম্বর থেকেই রাতে থাকা যাবে।
- অনুমোদিত জাহাজ বাছুন। শুধু সরকার অনুমোদিত জাহাজের টিকিটেই বৈধ পাস মিলবে। কোন জাহাজ অনুমোদন পেল, সেটা মিলিয়ে নিন। জাহাজের নাম, ভাড়া আর সময় দেখুন আমাদের কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন জাহাজ গাইডে।
- টিকিট কাটুন অনুমোদিত জায়গা থেকে। জাহাজ কোম্পানির ওয়েবসাইট বা হটলাইন, তাদের কাউন্টার, অথবা তাদের অনুমোদিত এজেন্ট।
- প্রত্যেক যাত্রীর তথ্য দিন। দলে যতজন, প্রত্যেকের নাম আর পরিচয়পত্রের তথ্য আলাদা করে দিতে হবে, কারণ পাস হয় জনপ্রতি। প্রাপ্তবয়স্কদের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদেশিদের পাসপোর্ট।
- দাম পরিশোধ করুন। জাহাজভাড়ার সঙ্গে জনপ্রতি ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি যুক্ত হবে।
- টিকিট নামিয়ে প্রিন্ট করুন। টিকিটে কিউআর কোড আছে কি না দেখে নিন। কিউআর কোড না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
- ঘাটে কিউআর কোড স্ক্যান। নুনিয়ারছড়া ঘাটে জাহাজে ওঠার আগে কিউআর কোড স্ক্যান করে "চেক-ইন" করা হয়। তখন টিকিটের সঙ্গে পরিচয়পত্রও দেখাতে হতে পারে।
কী কী সঙ্গে রাখবেন
- কিউআর কোডসহ প্রিন্ট করা টিকিট (মোবাইলে ছবিও রাখুন, তবে প্রিন্ট কপি রাখা নিরাপদ, ঘাটে নেটওয়ার্ক দুর্বল হতে পারে)
- জাতীয় পরিচয়পত্র, শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদেশি পর্যটকদের পাসপোর্ট
- টিকিটে যে মোবাইল নম্বর দিয়েছেন, সেটা সচল রাখুন; জাহাজের সময় বদলালে সেখানেই জানানো হয়
- রাতে থাকলে হোটেলের বুকিং কনফার্মেশন



travelpass.gov.bd সাইটে কী আছে
ট্যুরিজম বোর্ডের ট্রাভেল পাস সাইটটি (travelpass.gov.bd) চালু আছে। সেখানে দেখা যায়:
- দিনের পাসের সীমা কতজন
- আজ কতগুলো পাস দেওয়া হয়েছে
- ঘাটে কতজন চেক-ইন করেছেন
- সামনের ৭ দিনের জাহাজের সময়সূচি আর আসন
১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে আমরা সাইটে দেখেছি, ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো জাহাজের সময়সূচি নেই, আর দিনের পাসের সংখ্যা শূন্য। মানে জাহাজের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত পাস দেওয়াও শুরু হয়নি। জাহাজের একটি বড় অনলাইন টিকিট সাইটেও তখন কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটের সার্চে লেখা আসছিল "এই রুট সাময়িকভাবে বন্ধ"।
টিকিট কাটার আগে এই সাইটে ঢুকে দেখে নিন, আপনার তারিখে কোন জাহাজ চলছে আর আসন খালি আছে কি না।

যে ভুলগুলো করবেন না
- দালালের "কনফার্ম টিকিট" কিনবেন না। অনুমোদনহীন বিক্রেতা বা ঘাটে হাতে লেখা টিকিটে বৈধ কিউআর কোড থাকে না, ঘাটে আটকে যাবেন। গত মৌসুমে অবৈধভাবে টিকিট বিক্রির জন্য জাহাজকে জরিমানাও করা হয়েছে।
- ফেসবুক পেজের অফারে আগাম টাকা দেবেন না, যতক্ষণ না নিশ্চিত হন তারা অনুমোদিত জাহাজের এজেন্ট।
- একজনের টিকিটে পুরো দলের নাম দেবেন না। পাস জনপ্রতি, প্রত্যেকের তথ্য আলাদা লাগবে।
- টেকনাফ বা শাহপরীর দ্বীপ থেকে নৌকায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। এবারও শুধু কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজ যাবে।
- শেষ মুহূর্তের ভরসায় থাকবেন না। দিনে ৩,৫০০ জনের সীমা আছে, ছুটির দিনে পাস দ্রুত শেষ হয়।
পাস হাতে পেলে, দ্বীপে মানতে হবে যা
পাস শুধু ঢোকার অনুমতি নয়, এর সঙ্গে কিছু শর্তও আছে। দ্বীপে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, ছোট পানির বোতল) নেওয়া নিষেধ, নিজের পানির ফ্লাস্ক নিন। রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান, বারবিকিউ, সৈকতে মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চালানো নিষেধ। কেয়াবনে ঢোকা, কেয়া ফল তোলা, আর প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, কচ্ছপ বা অন্য সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করা যাবে না। পুরো নিয়মের তালিকা আছে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়ম ২০২৬-২৭ লেখায়।
দ্বীপে কী দেখবেন, কোথায় থাকবেন, খরচ কত, তা পাবেন সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইডে।
প্রশ্নোত্তর
সেন্টমার্টিন ট্রাভেল পাস কীভাবে পাব?
অনুমোদিত জাহাজের ওয়েবসাইট, কাউন্টার বা অনুমোদিত এজেন্টের কাছ থেকে টিকিট কাটলেই কিউআর কোডযুক্ত ট্রাভেল পাস টিকিটের সঙ্গে তৈরি হয়। আলাদা আবেদন লাগে না। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাইট travelpass.gov.bd-তে সময়সূচি আর দিনের পাসের সংখ্যা দেখা যায়।
ট্রাভেল পাসের জন্য কী কী কাগজ লাগে?
প্রত্যেক যাত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর আর পরিচয়পত্রের তথ্য: প্রাপ্তবয়স্কদের জাতীয় পরিচয়পত্র, শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদেশিদের পাসপোর্ট। যাত্রার দিন প্রিন্ট করা টিকিট আর পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
ট্রাভেল পাসের জন্য কি আলাদা টাকা লাগে?
পাসের জন্য আলাদা ফি নেই। তবে এ বছর জাহাজভাড়ার সঙ্গে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
কিউআর কোড ছাড়া টিকিট দিয়ে কি যাওয়া যাবে?
না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে, ঘাটে জাহাজে উঠতে দেওয়া হবে না।
ট্রাভেল পাস কবে থেকে পাওয়া যাবে?
জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি পাওয়ার পর টিকিট বিক্রি শুরু হলেই পাস পাওয়া যাবে। ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো জাহাজ অনুমতি পায়নি; জাহাজমালিকেরা ৪ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে চলাচল শুরুর আশা করছেন।
এই লেখার জায়গাগুলোর পূর্ণ গাইড
ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন
জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।

