
কক্সবাজার জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · St. Martin's Island
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইড
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ; নীল পানি, নারিকেল গাছ আর ছেঁড়াদ্বীপ। পর্যটকদের জন্য মৌসুম ও সংখ্যা সরকারি নিয়মে সীমিত — যাওয়ার আগে নিয়ম দেখে নিন।
এক নজরে
- আয়তন
- প্রায় ৮ বর্গকিমি
- অবস্থান
- টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিমি দক্ষিণে
- স্থানীয় নাম
- নারিকেল জিঞ্জিরা
- বিশেষত্ব
- দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ; পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA)
ইতিহাস ও বিস্তারিত
প্রায় ২৫০ বছর আগে আরব বণিকরা এই দ্বীপে থামতেন বলে জানা যায়, তাঁরা একে 'জাজিরা' বলতেন; নারিকেল গাছের প্রাচুর্যের জন্য পরে নাম হয় নারিকেল জিঞ্জিরা। ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মার্টিনের নামে দ্বীপের নাম হয় সেন্টমার্টিন।
দ্বীপের চারপাশে প্রবাল, শৈবাল, রঙিন মাছ আর সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম পাড়ার জায়গা। দক্ষিণে জোয়ারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ছোট দ্বীপ ছেঁড়াদ্বীপ। হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি 'সমুদ্র বিলাস' এখানে।
অতিরিক্ত পর্যটন ও নির্মাণে প্রবাল ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার দ্বীপটিকে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে এবং পর্যটকের সংখ্যা, ভ্রমণের মাস ও রাত্রিযাপনে বিধিনিষেধ দিয়েছে। তাই যাওয়ার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা দেখা জরুরি।
যা যা করবেন
- ভাটার সময় ছেঁড়াদ্বীপ পর্যন্ত যান
- স্বচ্ছ পানিতে প্রবাল ও মাছ দেখুন (স্পর্শ না করে)
- দ্বীপের চারপাশে সাইকেল চালান
- রাতের আকাশে তারা দেখুন (রাত্রিযাপন অনুমোদিত হলে)
সেন্টমার্টিন দ্বীপ কীভাবে যাবেন
মৌসুমে (সাধারণত নভেম্বর–জানুয়ারি) কক্সবাজার/টেকনাফ থেকে জাহাজ।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার প্রায় ৪০০ কিমি, সময় লাগে ৮–১০ ঘণ্টা (বাস) / ১ ঘণ্টা (বিমান)।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/আরামবাগ/কলাবাগান থেকে গ্রীন লাইন, হানিফ, শ্যামলী, সৌদিয়া; নন-এসি ১,০০০–১,২০০৳, এসি ২,০০০–৩,০০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস; ভাড়া প্রায় ৭০০–২,০০০৳ (টিকিট আগে কাটতে হয়)।
- ✈️ বিমানে: বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা; একপথ ৫,০০০–৯,০০০৳, ১ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
- দ্বীপে রিসোর্ট ও কটেজ—সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাত্রিযাপন সীমিত হতে পারে
কী খাবেন
রূপচাঁদা ফ্রাই, লবস্টার, চিংড়ি, কোরাল মাছ, শুঁটকি
জেনে রাখুন
- যাওয়ার আগে পর্যটন মন্ত্রণালয়/জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখুন
- প্লাস্টিক নিয়ে যাবেন না; প্রবাল ও কচ্ছপের ডিমে হাত দেবেন না
- ছেঁড়াদ্বীপে ভাটার সময় হেঁটে বা সাইকেলে যাওয়া যায়
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- ছেঁড়াদ্বীপ (দ্বীপের দক্ষিণে)
- টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপ (জাহাজঘাট)
- মাথিনের কূপ, টেকনাফ
কক্সবাজার জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত — লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সূর্যাস্ত, সাঁতার আর বিচ বাইক; বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত।
- মেরিন ড্রাইভ — একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে সমুদ্র নিয়ে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিমি সড়ক।
- হিমছড়ি — পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের দৃশ্য আর বর্ষায় ছোট ঝর্ণা।
- ইনানী সৈকত — প্রবালপাথরে ভরা পরিষ্কার, শান্ত সৈকত; ভাটার সময় পাথর বেশি দেখা যায়।
- রামুর বৌদ্ধ বিহার — শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার আর বিশাল শায়িত বুদ্ধমূর্তি (বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র)।
- মহেশখালী দ্বীপ — পাহাড়ি দ্বীপ; পাহাড়চূড়ায় আদিনাথ মন্দির আর পান-লবণ চাষ।
- সোনাদিয়া দ্বীপ — নির্জন দ্বীপ; প্যারাবন, লাল কাঁকড়া আর পরিযায়ী পাখি।