
কক্সবাজার জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · Cox's Bazar Beach
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ গাইড
লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সূর্যাস্ত, সাঁতার আর বিচ বাইক; বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত।
এক নজরে
- দৈর্ঘ্য
- প্রায় ১২০ কিমি (বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত)
- প্রধান পয়েন্ট
- লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী
- নামকরণ
- ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স (১৭৯৯)
- সেরা সময়
- নভেম্বর–মার্চ
ইতিহাস ও বিস্তারিত
প্রাচীনকালে এই এলাকা 'পালংকী' নামে পরিচিত ছিল এবং আরাকান রাজ্যের প্রভাবাধীন ছিল। ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স আরাকান থেকে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের দায়িত্বে এখানে আসেন; তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নামে একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়—'কক্স সাহেবের বাজার' থেকেই কক্সবাজার নাম।
প্রায় ১২০ কিমি অখণ্ড বালুকাময় সৈকত কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। সৈকতের ঢাল খুব মৃদু হওয়ায় অনেক দূর পর্যন্ত হাঁটু-পানিতে হাঁটা যায়। স্বাধীনতার পর থেকে ধীরে ধীরে এটি দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে; এখন কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট।
শহরে রাখাইন সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ মন্দির (অগ্গমেধা ক্যাং), বার্মিজ মার্কেট, শুঁটকি পল্লী আর মেরিন ড্রাইভ মিলিয়ে কক্সবাজার শুধু সৈকত নয়, সম্পূর্ণ ছুটি কাটানোর গন্তব্য। কাছেই রামু, মহেশখালী, ইনানী, টেকনাফ ও মৌসুমে সেন্টমার্টিন।
যা যা করবেন
- সুগন্ধা বা লাবণী পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখুন
- ভোরে সৈকতে হাঁটুন—ভিড় কম, আলো সুন্দর
- বার্মিজ মার্কেটে রাখাইন হস্তশিল্প ও আচার কিনুন
- সামুদ্রিক মাছের রেস্তোরাঁয় রূপচাঁদা ও কোরাল খান
- প্যারাসেইলিং বা বিচ বাইক (দাম আগে ঠিক করুন)
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কীভাবে যাবেন
শহরের যে কোনো হোটেল থেকে হেঁটে বা অটোতে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার প্রায় ৪০০ কিমি, সময় লাগে ৮–১০ ঘণ্টা (বাস) / ১ ঘণ্টা (বিমান)।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/আরামবাগ/কলাবাগান থেকে গ্রীন লাইন, হানিফ, শ্যামলী, সৌদিয়া; নন-এসি ১,০০০–১,২০০৳, এসি ২,০০০–৩,০০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস; ভাড়া প্রায় ৭০০–২,০০০৳ (টিকিট আগে কাটতে হয়)।
- ✈️ বিমানে: বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা; একপথ ৫,০০০–৯,০০০৳, ১ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
- সায়মন বিচ রিসোর্ট
- লং বিচ হোটেল
- ওশান প্যারাডাইস হোটেল
- সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (ইনানী)
- কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে বাজেট হোটেল (৳১,৫০০–৩,০০০)
কী খাবেন
রূপচাঁদা ফ্রাই, লবস্টার, চিংড়ি, কোরাল মাছ, শুঁটকি
জেনে রাখুন
- লাল পতাকা উড়লে সাগরে নামবেন না; লাইফগার্ডের নির্দেশ মানুন
- ভাটার সময় টানে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি
- ডিসেম্বর ও ছুটির মৌসুমে হোটেল আগে বুক করুন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- হিমছড়ি (১২ কিমি)
- ইনানী সৈকত (২৫ কিমি)
- রামু বৌদ্ধ বিহার (১৫ কিমি)
- মহেশখালী দ্বীপ (স্পিডবোটে ২০ মিনিট)
- অগ্গমেধা ক্যাং, শহরের মধ্যে
কক্সবাজার জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- মেরিন ড্রাইভ — একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে সমুদ্র নিয়ে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিমি সড়ক।
- হিমছড়ি — পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের দৃশ্য আর বর্ষায় ছোট ঝর্ণা।
- ইনানী সৈকত — প্রবালপাথরে ভরা পরিষ্কার, শান্ত সৈকত; ভাটার সময় পাথর বেশি দেখা যায়।
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ — দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ; নীল পানি, নারিকেল গাছ আর ছেঁড়াদ্বীপ। পর্যটকদের জন্য মৌসুম ও সংখ্যা সরকারি নিয়মে সীমিত — যাওয়ার আগে নিয়ম দেখে নিন।
- রামুর বৌদ্ধ বিহার — শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার আর বিশাল শায়িত বুদ্ধমূর্তি (বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র)।
- মহেশখালী দ্বীপ — পাহাড়ি দ্বীপ; পাহাড়চূড়ায় আদিনাথ মন্দির আর পান-লবণ চাষ।
- সোনাদিয়া দ্বীপ — নির্জন দ্বীপ; প্যারাবন, লাল কাঁকড়া আর পরিযায়ী পাখি।