নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ গাইড ও খরচ ২০২৬: লঞ্চে যাওয়ার উপায়, হরিণ আর থাকার জায়গা
সদরঘাট থেকে সন্ধ্যার লঞ্চে হাতিয়া, তারপর মোটরবাইক আর খেয়া পেরিয়ে নিঝুম দ্বীপ। চৌধুরীর খালে হরিণ, নামার বিচে সূর্যাস্ত, কেওড়া বন আর শীতের পাখি: পুরো রুট, খরচ আর জরুরি টিপস।

- ঢাকা থেকে
- সদরঘাট থেকে লঞ্চে হাতিয়া প্রায় ১২–১৪ ঘণ্টা
- লঞ্চ ভাড়া
- ডেক ৪০০–৬০০৳, কেবিন ১,৫০০–৩,৫০০৳
- কত দিন
- ২ রাত দ্বীপে, ২ রাত লঞ্চে
- খরচ
- জনপ্রতি ৪,০০০–৬,০০০৳ (ডেকে), কেবিনে ৭,০০০৳+
- সেরা সময়
- নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি; নদী শান্ত, হরিণ আর পাখি
ট্রিপ টিকেট
মেঘনার মোহনায়, হাতিয়ার দক্ষিণে জেগে ওঠা নিঝুম দ্বীপ যেন দেশের এক কোণে লুকিয়ে থাকা নীরবতা। কেওড়া বনের ভেতর হরিণের পাল, কাদামাটিতে মহিষের দল, খালের পাড়ে শীতের পরিযায়ী পাখি আর রাতে বিদ্যুতের আলো ছাড়া অসংখ্য তারা। ২০০১ সালে দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। যাওয়ার পথটা একটু লম্বা, কিন্তু সেটাই এই ভ্রমণের আনন্দের অর্ধেক।
যাওয়ার উপায়
পথ ১: সদরঘাট থেকে লঞ্চে (সবচেয়ে জনপ্রিয়)
- সদরঘাট থেকে হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাট: প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লঞ্চ ছাড়ে, পরদিন সকাল ৭-৮টায় পৌঁছায়। ছাড়ার সময় মাঝে মাঝে বদলায়, তাই আগের দিন সদরঘাটে বা লঞ্চের কাউন্টারে ফোন করে জেনে নিন।
- তমরদ্দি থেকে মোক্তারিয়া ঘাট: মোটরবাইকে বা সিএনজিতে হাতিয়ার ভেতর দিয়ে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা। একটা বাইকে দুজন বসা যায়।
- মোক্তারিয়া থেকে বন্দরটিলা: ট্রলারে খেয়া পার, ১০–১৫ মিনিট।
- বন্দরটিলা থেকে নামার বাজার: মোটরবাইক বা অটোতে প্রায় আধা ঘণ্টা। থাকার জায়গাগুলো এখানেই।
| ধাপ | আনুমানিক ভাড়া |
|---|---|
| লঞ্চ ডেক (একপথ) | ৪০০–৬০০৳ |
| লঞ্চ সিঙ্গেল কেবিন | ১,৫০০–২,২০০৳ |
| লঞ্চ ডাবল কেবিন | ২,৫০০–৩,৫০০৳ |
| তমরদ্দি–মোক্তারিয়া (বাইকে দুজন) | ৪০০–৬০০৳ |
| মোক্তারিয়া–বন্দরটিলা খেয়া | জনপ্রতি ২০–৩০৳ |
| বন্দরটিলা–নামার বাজার (বাইক) | ১৫০–২৫০৳ |
পথ ২: বাসে নোয়াখালী হয়ে
ঢাকা থেকে বাসে নোয়াখালীর সোনাপুর (৫–৬ ঘণ্টা, ৫০০–৭০০৳), সেখান থেকে চেয়ারম্যান ঘাট। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক বা ট্রলারে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট (দেড় থেকে দুই ঘণ্টা), তারপর মোটরবাইকে মোক্তারিয়া ঘাট। দিনের বেলা যেতে চাইলে এই পথ, তবে সি-ট্রাক জোয়ারের সময় অনুযায়ী দিনে নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়ে।
নিঝুম দ্বীপে কী দেখবেন
চৌধুরীর খাল আর কবিরাজের চর: হরিণ
নিঝুম দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ চিত্রা হরিণ। সত্তরের দশকে বন বিভাগ কয়েক জোড়া হরিণ ছেড়েছিল, পরে সংখ্যা বেড়ে কয়েক হাজারে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংখ্যা কমেছে বলে শোনা যায়, তবু ভোরে বা বিকেলে চৌধুরীর খালের কেওড়া বনে আর কবিরাজের চরে হরিণের পাল দেখা যায়। নামার বাজার থেকে নৌকা ভাড়া করে খাল ধরে যান, তারপর চুপচাপ বনের কিনারে হাঁটুন।

নামার বিচ
নামার বাজারের কাছে সৈকত, এখান থেকে সূর্যাস্ত আর ভোরে সূর্যোদয় দুটোই দেখা যায়। ভাটায় অনেক দূর পর্যন্ত কাদা-বালির চর জেগে ওঠে।
মহিষের পাল আর জেলেপাড়া
চরে চরে মহিষের বাথান, সকালে আর বিকেলে মহিষের দল খাল পার হয়। জেলেপাড়ায় শুঁটকি শুকানো আর মাছ ধরার জাল মেরামতের দৃশ্য।

শীতের পাখি
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি চরের কাদায় আর খালের পাড়ে নানা জাতের পরিযায়ী জলচর আর সৈকতের পাখি নামে। দূরবিন থাকলে নিয়ে যান।
নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৩১টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।৳১২০ম্যাপগুলো দেখুন →


৪ রাতের প্ল্যান (বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার)
- বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা: সদরঘাট থেকে লঞ্চ, রাত নদীতে
- শুক্রবার: সকালে তমরদ্দি, দুপুরের আগে নামার বাজারে চেক-ইন; বিকেলে নামার বিচে সূর্যাস্ত
- শনিবার: ভোরে নৌকায় চৌধুরীর খাল আর কবিরাজের চরে হরিণ, দুপুরে জেলেপাড়া, বিকেলে কেওড়া বনে হাঁটা; রাতে তারাভরা আকাশ
- রবিবার: ভোরে সূর্যোদয়, তারপর তমরদ্দি ফিরে দুপুরের লঞ্চ, সোমবার ভোরে ঢাকা
লঞ্চের ফেরার সময় তমরদ্দি ঘাট থেকে আগে জেনে নিন; সাধারণত দুপুরে ছাড়ে আর পরদিন ভোরে সদরঘাট পৌঁছায়।
কোথায় থাকবেন
নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট (অবকাশ পর্যটন), আর কয়েকটি কটেজ ও গেস্টহাউস, ১,০০০–৩,০০০৳। বিদ্যুৎ মূলত সৌরবিদ্যুৎ বা জেনারেটরে চলে, সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট সময়। শীতের মৌসুমে আগে ফোন করে ঘর ঠিক করুন। অনেকে নামার বিচের কাছে তাঁবুতেও থাকেন; সেক্ষেত্রে স্থানীয়দের জানিয়ে দলবেঁধে থাকুন।
জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।৳৮০ম্যাপগুলো দেখুন →


খরচ (জনপ্রতি, ৪ জনের দল)
| খাত | বাজেট (ডেক) | আরামে (কেবিন) |
|---|---|---|
| লঞ্চ যাওয়া-আসা | ৮০০–১,২০০৳ | ২,৫০০–৩,৫০০৳ |
| হাতিয়ার ভেতরে বাইক ও খেয়া (যাওয়া-আসা) | ৮০০–১,০০০৳ | ৮০০–১,০০০৳ |
| থাকা ২ রাত (ভাগাভাগি) | ১,০০০–১,৫০০৳ | ১,৫০০–২,৫০০৳ |
| হরিণ দেখার নৌকা (ভাগাভাগি) | ৩০০–৫০০৳ | ৩০০–৫০০৳ |
| খাওয়া | ১,২০০–১,৫০০৳ | ১,৫০০–২,০০০৳ |
| মোট | ৪,১০০–৫,৭০০৳ | ৬,৬০০–৯,৫০০৳ |
জরুরি টিপস
- খারাপ আবহাওয়া বা সতর্ক সংকেত থাকলে লঞ্চ-ট্রলারে উঠবেন না; বর্ষায় (জুন–সেপ্টেম্বর) মেঘনা উত্তাল থাকে
- দ্বীপে এটিএম নেই, পর্যাপ্ত নগদ টাকা নিয়ে যান
- মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হতে পারে; পাওয়ার ব্যাংক নিন
- হরিণের পেছনে দৌড়াবেন না, খাবার দেবেন না; বনের ভেতর আগুন জ্বালাবেন না
- প্লাস্টিক আর ময়লা সাথে ফিরিয়ে আনুন
প্রশ্নোত্তর
নিঝুম দ্বীপ যেতে মোট কত টাকা লাগে?
লঞ্চের ডেকে গেলে আর চারজন মিলে থাকলে জনপ্রতি ৪,০০০–৬,০০০৳। কেবিন আর ভালো রিসোর্টে ৭,০০০–১০,০০০৳।
নিঝুম দ্বীপে কি হরিণ দেখা যায়?
হ্যাঁ, তবে ভোরে আর বিকেলে, নৌকায় চৌধুরীর খাল বা কবিরাজের চরে গেলে সম্ভাবনা বেশি। দুপুরে হরিণ বনের গভীরে থাকে।
নিঝুম দ্বীপের সাথে মনপুরা যাওয়া যায়?
মনপুরা ভোলা জেলায়, হাতিয়ার কাছেই নদীর ওপারে। দুটো একসাথে করতে হলে অন্তত এক দিন বেশি রাখুন আর নৌকার সময় আগে জেনে নিন।
পরিবার নিয়ে যাওয়া কি ঠিক হবে?
শীতে নদী শান্ত থাকলে পরিবার নিয়েও যাওয়া যায়, তবে কেবিন নিন। পথ লম্বা আর সুবিধা কম, তাই খুব ছোট বাচ্চা বা অসুস্থ কাউকে নিয়ে কঠিন। আরও লঞ্চ ভ্রমণ পড়ুন বরিশাল লঞ্চ ভ্রমণে, আর জেলার সব জায়গা দেখুন নোয়াখালী গাইডে।
ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন
জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।


