
কক্সবাজার জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · Himchari National Park
হিমছড়ি ভ্রমণ গাইড
পাহাড়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের দৃশ্য আর বর্ষায় ছোট ঝর্ণা।
🗓️ ঘোরার সেরা সময়নভেম্বর–মার্চ; ঝর্ণার জন্য জুলাই–সেপ্টেম্বর
⏱ কতক্ষণ লাগবে১.৫–২ ঘণ্টা
💰 আনুমানিক খরচসামান্য প্রবেশ ফি
এক নজরে
- অবস্থান
- কক্সবাজার থেকে ১২ কিমি দক্ষিণে
- জাতীয় উদ্যান
- ১৯৮০ সালে ঘোষিত
- আয়তন
- প্রায় ১,৭২৯ হেক্টর
- প্রবেশ
- সামান্য টিকিট
ইতিহাস ও বিস্তারিত
হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান ১৯৮০ সালে ঘোষিত হয়। এখানকার পাহাড়ি বনে একসময় হাতিসহ নানা বন্যপ্রাণী ছিল; এখনো বানর, নানা পাখি ও সরীসৃপ দেখা যায়। পাহাড়ের গা বেয়ে নামা ছোট ঝর্ণা বর্ষায় সবচেয়ে সুন্দর।
মূল আকর্ষণ পাহাড়ের চূড়ায় ওঠার সিঁড়ি—প্রায় কয়েকশো ধাপ উঠলে ওপর থেকে নিচে মেরিন ড্রাইভ, সৈকত আর দিগন্তজোড়া সমুদ্র দেখা যায়। কক্সবাজার শহরের খুব কাছে হওয়ায় প্রায় সব পর্যটক মেরিন ড্রাইভ ট্যুরে প্রথমেই এখানে থামেন।
যা যা করবেন
- চূড়ার ভিউ পয়েন্ট থেকে সমুদ্রের ছবি তুলুন
- বর্ষায় ঝর্ণা দেখুন
- নিচের সৈকতে কিছুক্ষণ হাঁটুন
হিমছড়ি কীভাবে যাবেন
কলাতলী থেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে প্রায় ১২ কিমি।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার প্রায় ৪০০ কিমি, সময় লাগে ৮–১০ ঘণ্টা (বাস) / ১ ঘণ্টা (বিমান)।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/আরামবাগ/কলাবাগান থেকে গ্রীন লাইন, হানিফ, শ্যামলী, সৌদিয়া; নন-এসি ১,০০০–১,২০০৳, এসি ২,০০০–৩,০০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস; ভাড়া প্রায় ৭০০–২,০০০৳ (টিকিট আগে কাটতে হয়)।
- ✈️ বিমানে: বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা; একপথ ৫,০০০–৯,০০০৳, ১ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
- সায়মন বিচ রিসোর্ট
- লং বিচ হোটেল
- ওশান প্যারাডাইস হোটেল
- সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (ইনানী)
- কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টে বাজেট হোটেল (৳১,৫০০–৩,০০০)
কী খাবেন
রূপচাঁদা ফ্রাই, লবস্টার, চিংড়ি, কোরাল মাছ, শুঁটকি
জেনে রাখুন
- সিঁড়ি খাড়া—বয়স্কদের জন্য ধীরে উঠুন
- বানরদের খাবার দেখাবেন না
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- ইনানী সৈকত (১৩ কিমি)
- দরিয়ানগর ইকোপার্ক (৫ কিমি)
- কলাতলী সৈকত (১২ কিমি)
কক্সবাজার জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত — লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে সূর্যাস্ত, সাঁতার আর বিচ বাইক; বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত।
- মেরিন ড্রাইভ — একপাশে পাহাড়, অন্যপাশে সমুদ্র নিয়ে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিমি সড়ক।
- ইনানী সৈকত — প্রবালপাথরে ভরা পরিষ্কার, শান্ত সৈকত; ভাটার সময় পাথর বেশি দেখা যায়।
- সেন্টমার্টিন দ্বীপ — দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ; নীল পানি, নারিকেল গাছ আর ছেঁড়াদ্বীপ। পর্যটকদের জন্য মৌসুম ও সংখ্যা সরকারি নিয়মে সীমিত — যাওয়ার আগে নিয়ম দেখে নিন।
- রামুর বৌদ্ধ বিহার — শতবর্ষী বৌদ্ধ বিহার আর বিশাল শায়িত বুদ্ধমূর্তি (বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র)।
- মহেশখালী দ্বীপ — পাহাড়ি দ্বীপ; পাহাড়চূড়ায় আদিনাথ মন্দির আর পান-লবণ চাষ।
- সোনাদিয়া দ্বীপ — নির্জন দ্বীপ; প্যারাবন, লাল কাঁকড়া আর পরিযায়ী পাখি।