
বগুড়া জেলা · রাজশাহী বিভাগ · Mahasthangarh
মহাস্থানগড় ভ্রমণ গাইড
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পুণ্ড্রনগর; দেশের প্রাচীনতম নগরের ধ্বংসাবশেষ ও জাদুঘর।
এক নজরে
- প্রাচীন নাম
- পুণ্ড্রনগর
- সময়কাল
- খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে প্রায় পনেরো শতক
- দুর্গ
- প্রায় ১,৫২৩ × ১,৩৭০ মিটার প্রাচীর
- জাদুঘর সময়সূচি
- রবিবার বন্ধ, সোমবার অর্ধদিবস
ইতিহাস ও বিস্তারিত
মহাস্থানগড় বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরীর ধ্বংসাবশেষ—প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন অঞ্চলের রাজধানী পুণ্ড্রনগর। করতোয়া নদীর তীরে উঁচু মাটির দুর্গপ্রাচীরে ঘেরা এই নগর মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন আমল পেরিয়ে প্রায় দেড় হাজার বছর প্রাদেশিক রাজধানী ছিল।
১৯৩১ সালে এখানে ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা একটি চুনাপাথরের ফলক পাওয়া যায়, যা মৌর্য আমলের (খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক) বলে ধরা হয়—এটি বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত প্রমাণ। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং সপ্তম শতকে পুণ্ড্রনগর ভ্রমণ করে এখানকার বৌদ্ধ বিহারের বর্ণনা দেন।
দুর্গের ভেতরে ও আশপাশে বৈরাগীর ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ড, জিয়ত কুণ্ড আর পরশুরামের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। দুর্গের পাশে সুফি সাধক শাহ সুলতান বলখি মাহিসাওয়ারের মাজার, যিনি কিংবদন্তি অনুযায়ী মাছের পিঠে চড়ে এসে রাজা পরশুরামকে পরাজিত করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে খননে পাওয়া মূর্তি, মুদ্রা ও পোড়ামাটির নিদর্শন আছে।
যা যা করবেন
- দুর্গপ্রাচীরের ওপর দিয়ে হাঁটুন
- মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর দেখুন
- শাহ সুলতান বলখির মাজারে যান
- মহাস্থানের বিখ্যাত কটকটি কিনুন
মহাস্থানগড় কীভাবে যাবেন
বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিমি; রংপুর রোডে বাস/সিএনজি।
ঢাকা থেকে বগুড়া প্রায় ২০০ কিমি, সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: মহাখালী/গাবতলী থেকে গ্রীন লাইন, এস আর, শাহ ফতেহ আলী, হানিফ; নন-এসি ৫০০–৬৫০৳, এসি ১,০০০–১,৩০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: লালমনি/রংপুর এক্সপ্রেসে সান্তাহার বা বগুড়া।
কোথায় থাকবেন
- মম ইন (বিলাসবহুল রিসোর্ট)
- নাজ গার্ডেন হোটেল
- পর্যটন মোটেল বগুড়া
কী খাবেন
বগুড়ার দই (আকবরিয়া, রফাত, এশিয়া), মহাস্থানের কটকটি
জেনে রাখুন
- রবিবার জাদুঘর বন্ধ, সোমবার অর্ধদিবস
- মহাস্থানের কটকটি (মিষ্টি) কিনে আনুন
- গোকুল মেধ ও ভাসু বিহার একই দিনে দেখা যায়
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- গোকুল মেধ/বেহুলার বাসরঘর (২ কিমি)
- ভাসু বিহার (৬ কিমি)
- বগুড়া শহর (১৩ কিমি)
বগুড়া জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- বেহুলার বাসরঘর (গোকুল মেধ) — বেহুলা-লখিন্দরের লোককথার সাথে জড়িত প্রাচীন ইটের স্থাপনা।
- খেরুয়া মসজিদ — ১৫৮২ সালের সুন্দর তিন গম্বুজ মসজিদ।
- নওয়াব প্যালেস ও উডবার্ন পার্ক — বগুড়ার নবাবদের বাড়ি ও শহরের পার্ক।