
আদমদিঘী, বগুড়া · হাওর, বিল ও জলাভূমি · লুকানো রত্ন
রক্তদহ বিল
রক্তদহ বিল উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি জলাভূমি, যা মূলত বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা এবং নওগাঁ জেলার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মধ্যবর্তী সীমানা জুড়ে বিস্তৃত। • নামকরণের রক্তাক্ত ইতিহাস: জনশ্রুতি আছে, ব্রিটিশ আমলে (১৭৮৬ সালের আগস্ট মাসে) ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় মজনু শাহর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনীর সাথে ইংরেজ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এখানে সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে ব্যাপক ইংরেজ সৈন্য ও স্বাধীনতাকামী মুজাহিদ হতাহত হন এবং তাঁদের রক্তে বিলের পানি লাল হয়ে উঠেছিল। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি থেকেই বিলটির নাম হয় ‘রক্তদহ বিল’। • ভৌগোলিক তথ্য: মূল বিলের আয়তন প্রায় ৯০০ একর বা ২২০ হেক্টরের কাছাকাছি হলেও এর ব্যাপ্তি বেশ বড়। তেরটি খাল ও বিভিন্ন জলপথ এই বিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। • কোছমুড়ি দরগাহ (রহস্যময় মাজার): এই বিলের বুকে অবস্থিত ‘কোছমুড়ি দরগাহ’ বা রক্তদহ মাজার স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে বড় এক আকর্ষণ। এখানে ফকির বাহিনীর একজন শহীদ মুজাহিদের দীর্ঘ কবর রয়েছে। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বছরের পর বছর বড় বড় বন্যার পানিতেও এই মাজার বা দরগাহটির অংশ কখনো তলিয়ে যায় না। • মৎস্য ভাণ্ডার ও জীববৈচিত্র্য: এই বিলটিকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান একটি ‘মাছের খনি’ বলা চলে। বোয়াল, চিতল, আইড়, গজার ও পাবদাসহ নানারকম দেশীয় সুস্বাদু মাছের অভয়ারণ্য এটি। এছাড়া শীতকালে এখানে প্রচুর অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। • পর্যটন কেন্দ্র ও পাখি পল্লী: বিলের প্রাকৃতিক রূপকে কাজে লাগিয়ে নওগাঁর রাণীনগর অংশের হাতিরপুল এলাকায় সরকারি উদ্যোগে রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও পাখি পল্লী গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য মনোরম ঝুলন্ত সেতু, বসার স্থান এবং পরিবেশবান্ধব নানা ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কীভাবে যাবেন
সান্তাহার রেলগেট থেকে রিস্কা, ভ্যান এবং ইজিবাইক যোগে খুব সহজে ওখানে যাওয়া যায় ।
কোথায় থাকবেন
সান্তাহার শহর মানসম্মত ছোট বড় আবাসিক হোটেল আছে
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
শুধু ছোট চায়ের দোকান
কাছের দর্শনীয় স্থান
সান্তাহার সাইলো, সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন, বাবা আদম (রহ.) মাজার ও ঐতিহাসিক দিঘী ইত্যাদি
আরও ছবি






ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন কে এম ওমর ফারুক, বগুড়া · ০৯/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →