
বগুড়া জেলা · রাজশাহী বিভাগ · Gokul Medh
বেহুলার বাসরঘর (গোকুল মেধ) ভ্রমণ গাইড
বেহুলা-লখিন্দরের লোককথার সাথে জড়িত প্রাচীন ইটের স্থাপনা।
এক নজরে
- সময়কাল
- আনুমানিক ষষ্ঠ-সপ্তম শতক
- কক্ষ
- ১৭২টি খোপ
- খনন
- ১৯৩৪–৩৬ সালে
- অবস্থান
- মহাস্থানগড় থেকে ২ কিমি দক্ষিণে
ইতিহাস ও বিস্তারিত
গোকুল গ্রামের এই উঁচু ইটের স্থাপনাটি স্থানীয়দের কাছে 'বেহুলার বাসরঘর' নামে পরিচিত। মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনি অনুযায়ী চাঁদ সওদাগরের ছেলে লখিন্দর আর তাঁর স্ত্রী বেহুলার বাসরঘর ছিল এটি, যেখানে দেবী মনসার পাঠানো সাপের কামড়ে লখিন্দরের মৃত্যু হয়; বেহুলা স্বামীর লাশ নিয়ে ভেলায় ভেসে স্বর্গে গিয়ে তাঁর প্রাণ ফিরিয়ে আনেন।
১৯৩৪–৩৬ সালের খননে প্রত্নতাত্ত্বিকরা দেখেন, এটি আসলে ধাপে ধাপে উঁচু করা একটি ভিত, যাতে ১৭২টি খোপ বা কুঠুরি। অনেকের মতে এটি গুপ্ত বা পাল আমলের একটি বৌদ্ধ স্তূপ বা মন্দির; আবার কেউ মনে করেন এটি পুণ্ড্রনগর রক্ষার পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ ছিল।
যা যা করবেন
- স্থাপনার ওপরে উঠে চারপাশের গ্রাম দেখুন
- ১৭২টি খোপের নকশা খুঁটিয়ে দেখুন
- মহাস্থানগড়ের সাথে একই দিনে ঘুরুন
বেহুলার বাসরঘর (গোকুল মেধ) কীভাবে যাবেন
মহাস্থানগড় থেকে প্রায় ২ কিমি।
ঢাকা থেকে বগুড়া প্রায় ২০০ কিমি, সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: মহাখালী/গাবতলী থেকে গ্রীন লাইন, এস আর, শাহ ফতেহ আলী, হানিফ; নন-এসি ৫০০–৬৫০৳, এসি ১,০০০–১,৩০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: লালমনি/রংপুর এক্সপ্রেসে সান্তাহার বা বগুড়া।
কোথায় থাকবেন
- মম ইন (বিলাসবহুল রিসোর্ট)
- নাজ গার্ডেন হোটেল
- পর্যটন মোটেল বগুড়া
কী খাবেন
বগুড়ার দই (আকবরিয়া, রফাত, এশিয়া), মহাস্থানের কটকটি
জেনে রাখুন
- ওপরে উঠে চারপাশের গ্রামের দৃশ্য দেখুন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- মহাস্থানগড় (২ কিমি)
- ভাসু বিহার (৮ কিমি)
- বগুড়া শহর (১১ কিমি)
বগুড়া জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- মহাস্থানগড় — খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পুণ্ড্রনগর; দেশের প্রাচীনতম নগরের ধ্বংসাবশেষ ও জাদুঘর।
- খেরুয়া মসজিদ — ১৫৮২ সালের সুন্দর তিন গম্বুজ মসজিদ।
- নওয়াব প্যালেস ও উডবার্ন পার্ক — বগুড়ার নবাবদের বাড়ি ও শহরের পার্ক।