
আদমদিঘী, বগুড়া · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
সান্তাহার সাইলো
সান্তাহার সাইলো বাংলাদেশের বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ: • অবস্থান: সান্তাহার পৌর শহর, আদমদীঘি উপজেলা, বগুড়া জেলা (খাদ্য মন্ত্রণালয়াধীন)। • জমি: প্রায় ১৬ একর জমির উপর এটি প্রতিষ্ঠিত। • প্রথম সাইলো (গম সংরক্ষণাগার): • নির্মিত হয় ১৯৬৯ সালে। • ব্যয় হয়েছিল ৪০,৪০,০৬৫ মার্কিন ডলার। • গম ধারণক্ষমতা ২৫,০০০ টন। • আধুনিক বহুতল সাইলো (চাল সংরক্ষণাগার): • নির্মাণকাল: ২০১৩–২০১৭ সাল। • উদ্বোধন: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। • ব্যয়: প্রায় ৩০০ কোটি টাকা (জাইকার আর্থিক সহায়তায়)। • উচ্চতা ও আয়তন: ৬০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন, ধারণক্ষমতা ২৫,০০০ টন চাল। • সৌরশক্তি ব্যবহার: পরিবেশবান্ধব এই সাইলোর ছাদে শতাধিক সোলার প্যানেল রয়েছে, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৩৬০ কিলোওয়াট। সান্তাহার সাইলো মূলত একটি সুরক্ষিত সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার হওয়ায় সাধারণ পর্যটন কেন্দ্রের মতো এখানে অবাধ প্রবেশাধিকার নেই। তবে এর বিশাল স্থাপত্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও শিক্ষণীয় স্থান। দর্শনার্থীদের চোখ দিয়ে দেখলে সান্তাহার সাইলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. বিশাল "গম্বুজ" আকৃতির ৩০টি সাইলো বিন (স্থাপত্যশৈলী) দূর থেকে সান্তাহার সাইলোর দিকে তাকালে সবচেয়ে প্রথমে চোখ কাড়ে এর বিশাল আকৃতির গোলাকার সাইলো বিন বা পাত্রগুলো। গমের সাইলো অংশে এমন ৩০টি বিশালাকার সাইলো বিন রয়েছে। প্রতিটি বিনের ভেতরে হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য জমা থাকে। এই বিশালাকার কংক্রিটের কাঠামোটি অবিকল কোনো বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর (Sci-Fi) গবেষণাগারের মতো দেখায়, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে। ২. দেশের প্রথম আধুনিক বহুতল চালের সাইলো সান্তাহার সাইলোর প্রধান আকর্ষণ হলো এর নতুন অংশটি, যা জাইকার (JICA) সহায়তায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম বহুতল ও সর্বাধুনিক চালের সাইলো। ৬০ ফুট উঁচু এই ৬ তলা আধুনিক ভবনটিতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে চাল সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য ও প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের জন্য এই আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ রোমাঞ্চকর। ৩. সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও 'নাইট্রোজেন লিকেজ' প্রযুক্তি সাধারণ গুদামে চাল বা গম রাখলে পোকা ধরার ভয় থাকে, কিন্তু সান্তাহারের চালের সাইলোতে কোনো রাসায়নিক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে খাদ্যশস্য ভালো রাখা হয়। সাইলোর ভেতরে সবসময় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা ৬০% এর নিচে রাখা হয়। একই সাথে পোকা দূর করতে 'নাইট্রোজেন গ্যাস ইনজেকশন' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করেই চালকে বছরের পর বছর তাজা রাখে। ৪. নিজস্ব রেলওয়ে ইয়ার্ড ও স্বয়ংক্রিয় লোডিং-আনলোডিং সাইলোর ভেতরেই রয়েছে একটি নিজস্ব রেলওয়ে ট্র্যাক এবং ইয়ার্ড। ট্রেন বা ট্রাক থেকে সরাসরি স্বয়ংক্রিয় বাল্ক লোডার দিয়ে শস্য খালাস করা হয়। মানুষ হাত না লাগিয়েই কীভাবে ঘণ্টায় শত শত টন চাল-গম স্বয়ংক্রিয় বেল্টের (Conveyor Belt) মাধ্যমে বিশাল বিনের ভেতরে চলে যাচ্ছে, তা সরাসরি দেখা অত্যন্ত চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা। ৫. সবুজ শক্তি: বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সান্তাহার চালের সাইলোর আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। এই সাইলোর ছাদে ও খালি জায়গায় শতাধিক সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। সাইলোর নিজস্ব চাহিদার একটি বড় অংশ এই সবুজ শক্তি (Green Energy) থেক
কীভাবে যাবেন
সান্তাহার স্টেশন বা রেল গেট থেকে রিস্কা, ভ্যান, ইজি বাইক এমনকি পায়ে হেঁটেও যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন
সান্তাহার শহরে মানসম্মত ছোট-বড় আবাসিক হোটেল আছে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
খাবারের ব্যবস্থা আছে
কাছের দর্শনীয় স্থান
রক্তদহ বিল, সান্তাহার রেল স্টেশন, দুবুল হাটির রাজবাড়ি, বলিহার রাজবাড়ি ইত্যাদি।
আরও ছবি






ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন কে এম ওমর ফারুক, বগুড়া · ১০/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →