
শিবগঞ্জ, বগুড়া · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
ভাসু বিহার (স্থানীয়ভাবে 'নরপতির ধাপ' নামে পরিচিত)
★ ৫.০ · ১টি রিভিউ
ভাসু বিহার কেন বিশেষ- • ঐতিহাসিক সংযোগ: ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এই স্থানটি ভ্রমণ করেছিলেন এবং একে 'পো-শি-পো' বা বিশ্ববিহার হিসেবে উল্লেখ করে গেছেন। • আটককৃত প্রাচীন স্থাপত্য: এখানে খননকাজের ফলে গুপ্ত ও পাল যুগের (প্রায় অষ্টম শতাব্দীর) দুটি আয়তক্ষেত্রাকার বৌদ্ধ বিহার এবং একটি ক্রুশাকৃতি মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে। • মূল্যবান প্রত্নবস্তু: এখান থেকে প্রায় ৮০০-রও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্রোঞ্জের বুদ্ধমূর্তি, পোড়ামাটির ফলক (টেরাকোটা) এবং প্রাচীন সিল। • বৌদ্ধদের তীর্থস্থান: বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। গেলে কি দেখবেন- • বৌধ্যবিহার ও মন্দির: খননকৃত দুটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার (যার একটি ছোট বিহারে ২৬টি কক্ষ রয়েছে) এবং ক্রুশাকৃতি মন্দিরের ভিত্তি ও দেয়াল। • তোতরাম পণ্ডিতের ধাপ (পণ্ডিত ভিটা): ভাসু বিহারের খুব কাছেই নাগর নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ঢিবিটি দেখতে পারেন, যা স্থানীয়দের কাছে 'তোতরাম পণ্ডিতের বাড়ি' নামে পরিচিত। • নাগর নদী ও দিঘী: বিহারের পাশ দিয়ে বয়ে চলা প্রাচীন নাগর নদীর রূপ এবং আশেপাশের শান্ত গ্রামীণ পরিবেশ। • প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সবুজ প্রকৃতি: উন্মুক্ত মাঠের মাঝে প্রাচীন ইটের গাঁথুনি এবং শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। গেলে কি করবেন- • ইতিহাসের সান্নিধ্য উপভোগ: কোলাহলমুক্ত শান্ত পরিবেশে প্রাচীন সভ্যতার স্থাপত্য ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে দেখুন এবং এর গঠনশৈলী পর্যবেক্ষণ করুন। • ছবি তোলা: ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সবুজ প্রকৃতির সুন্দর কিছু ছবি ধারণ করতে পারেন। • মহাস্থানগড় ও জাদুঘর পরিদর্শন: ভাসু বিহার দেখার পাশাপাশি কাছেই অবস্থিত মহাস্থানগড় এবং মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন, যেখানে ভাসু বিহার থেকে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলো সংরক্ষিত আছে। • স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলা: স্থানীয়দের মুখে 'নরপতির ধাপ' বা ভাসু বিহার নিয়ে প্রচলিত নানা রূপকথা ও ইতিহাস শুনতে পারেন।
কীভাবে যাবেন
১. ঢাকা থেকে বগুড়া যাওয়ার উপায়- • বাসে: ঢাকার গাবতলী, মহাখালী, কল্যাণপুর বা শ্যামলী থেকে বগুড়াগামী বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস (যেমন: এসআর, শ্যামলী, হানিফ, শাহ্ ফতেহ আলী ইত্যাদি) পাওয়া যায়। বাসভেদে ভাড়া সাধারণত ৫৫০ থেকে ১৩০০ টাকা হয়ে থাকে। • ট্রেনে: ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বুড়িমারী এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস কিংবা রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে সরাসরি বগুড়া স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন। শ্রেণীভেদে ট্রেনের ভাড়া ৪৭৫ থেকে ১০৯৩ টাকা। ২. বগুড়া শহর থেকে ভাসু বিহার- বগুড়া শহরের সাতমাথা বা ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে আপনি সহজেই ভাসু বিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। • সিএনজি বা অটো রিকশা (লোকাল/রিজার্ভ): শহর থেকে সিএনজি বা অটো রিকশায় করে গোকুল মেধ রোড দিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ স্কোয়ার হয়ে সরাসরি ভাসু বিহারে যাওয়া যায়। • ভাড়া: লোকাল যাতায়াতে ভেঙে ভেঙে যাওয়া যায়, তবে সরাসরি রিজার্ভ নিলে সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা (ওয়ান ওয়ে) ভাড়া পড়তে পারে। আপনি যদি সারাদিনের জন্য মহাস্থানগড় ও ভাসু বিহারসহ আশেপাশের অন্যান্য জায়গা ঘুরে দেখার জন্য অটোরিকশা রিজার্ভ করতে চান, তবে খরচ পড়বে প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। ৩. মহাস্থানগড় থেকে ভাসু বিহার আপনি যদি আগে মহাস্থানগড় দেখতে যান, তবে সেখান থেকেও খুব সহজে ভাসু বিহার যাওয়া সম্ভব। মহাস্থানগড় থেকে ভাসু বিহারের দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। মহাস্থানগড় মোড় থেকে অটোরিকশা বা ভ্যানে করে সরাসরি বিহার গ্রামে অবস্থিত ভাসু বিহারে চলে যেতে পারবেন।
কোথায় থাকবেন
মমো ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট (Momo Inn);উত্তরবঙ্গের একমাত্র ফাইভ-স্টার রিসোর্ট , হোটেল নাজ গার্ডেন (Hotel Naz Garden): ফোর-স্টার মানের হোটেল, অ্যানেক্স সুইটস (Annex Suites), রোচাস হোটেল (Rochas Hotel), পর্যটন মোটেল (Parjatan Motel)- সরকারি হোটেল
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
তেমন নেই
সুবিধা
মোটামুটি সবই আছে
কাছের দর্শনীয় স্থান
মহাস্থানগড় (৬ কিমি), বেহুলার বাসরঘর (প্রায় ৮.৮ কিমি)
আরও ছবি







ম্যাপে অবস্থান
রিভিউ
- ★★★★★ Maidul Islam Maim (০৯/১০/২০২৬): যাওয়া হয়নি কখনো।
পাঠিয়েছেন Mottakin Sheaikh Rifat, বগুড়া · ০৬/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।