
মৌলভীবাজার জেলা · সিলেট বিভাগ · Lawachara National Park
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ গাইড
চিরসবুজ রেইনফরেস্ট; উল্লুক (গিবন), বানর আর বনের ভেতর দিয়ে রেললাইন।
এক নজরে
- আয়তন
- প্রায় ১,২৫০ হেক্টর
- ঘোষণা
- ১৯৯৬ সাল
- বিখ্যাত প্রাণী
- উল্লুক (হুলক গিবন)
- অবস্থান
- কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল থেকে ৮ কিমি
ইতিহাস ও বিস্তারিত
লাউয়াছড়া পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনের অংশ, ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়। এটি বাংলাদেশের অবশিষ্ট মিশ্র চিরসবুজ বনগুলোর একটি এবং দেশের সবচেয়ে বেশি গবেষণা হওয়া বনগুলোর একটি।
বনে উল্লুক (বাংলাদেশের একমাত্র বনমানুষ), লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, চশমাপরা হনুমান, মায়া হরিণসহ বহু প্রাণী আর প্রায় ২৫০ প্রজাতির পাখি আছে। বনের ভেতর দিয়ে ঢাকা-সিলেট রেললাইন গেছে; ১৯৫৬ সালের হলিউড চলচ্চিত্র 'অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেইজ'-এর একটি দৃশ্য এখানে ধারণ করা হয় বলে প্রচলিত।
বনের ভেতরে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর মাগুরছড়া পুঞ্জি, যেখানে পানচাষ হয়। ১৯৯৭ সালে পাশের মাগুরছড়া গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণে বনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
যা যা করবেন
- গাইডসহ আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা বা তিন ঘণ্টার ট্রেইলে হাঁটুন
- ভোরে উল্লুকের ডাক শোনার চেষ্টা করুন
- রেললাইনের পাশে ছবি তুলুন (ট্রেনের সময় দেখে)
- খাসিয়া পুঞ্জি ঘুরে দেখুন
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কীভাবে যাবেন
শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ৮ কিমি; সিএনজিতে।
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার প্রায় ২০০ কিমি, সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ থেকে শ্রীমঙ্গল/মৌলভীবাজার বাস (হানিফ, শ্যামলী, এনা), নন-এসি ৫০০–৬৫০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে পারাবত/জয়ন্তিকা/উপবনে শ্রীমঙ্গল, ভাড়া ৩০০–৯০০৳ (সবচেয়ে আরামদায়ক)।
কোথায় থাকবেন
- গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ (বিলাসবহুল)
- দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা
- বিটিআরআই/পর্যটনের টি রিসোর্ট
- শ্রীমঙ্গলে অনেক কটেজ ও গেস্টহাউস (৳১,৫০০–৪,০০০)
কী খাবেন
নীলকণ্ঠের সাত রঙের চা, খাসিয়া পান, পাহাড়ি আনারস
জেনে রাখুন
- আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা ও তিন ঘণ্টার ট্রেইল আছে—গাইড নিন
- জোঁক থাকতে পারে—লম্বা মোজা পরুন
- শব্দ কম করুন, তবেই উল্লুকের ডাক শুনবেন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- মাধবপুর লেক (১৫ কিমি)
- শ্রীমঙ্গল চা বাগান ও চা জাদুঘর (৮ কিমি)
- নীলকণ্ঠ টি কেবিন (১০ কিমি)
- বাইক্কা বিল (২০ কিমি)
মৌলভীবাজার জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- শ্রীমঙ্গলের চা বাগান — দিগন্তজোড়া সবুজ চা বাগান, চা জাদুঘর আর চা শ্রমিকদের জীবন।
- মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত — প্রায় ২০০ ফুট উঁচু থেকে পড়া দেশের সবচেয়ে পরিচিত জলপ্রপাত।
- মাধবপুর লেক — চা বাগানের টিলার মাঝে লেক, গ্রীষ্মে নীল পদ্ম ফোটে।
- হামহাম জলপ্রপাত — রাজকান্দি বনের গভীরে ঝর্ণা; অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য।
- বাইক্কা বিল — হাইল হাওরের অভয়াশ্রম; শীতে পরিযায়ী পাখি দেখার ওয়াচ টাওয়ার।
- হাকালুকি হাওর — দেশের সবচেয়ে বড় হাওরগুলোর একটি; শীতে লাখো পাখি।