শ্রীমঙ্গল ২ দিনের ট্যুর প্ল্যান ও খরচ: চা বাগান, লাউয়াছড়া, বাইক্কা বিল
সকালের পারাবতে গিয়ে পরদিন সন্ধ্যার পারাবতে ফেরা: দুই দিনে শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, লাউয়াছড়ার বন, সাত রঙের চা, মাধবপুর লেক আর শীতে বাইক্কা বিলের পরিযায়ী পাখি দেখার পুরো প্ল্যান, খরচসহ।

- ঢাকা থেকে
- প্রায় ২০০ কিমি, ট্রেনে ৪–৫ ঘণ্টা
- ট্রেন ভাড়া
- শোভন চেয়ার ৩০০৳, স্নিগ্ধা ৫৭০৳
- কত দিন
- ২ দিন, ১ রাত
- খরচ
- জনপ্রতি ২,৬০০–৩,৫০০৳ (বাজেটে), রিসোর্টে ৬,০০০৳+
- শীতে
- বাইক্কা বিলে পরিযায়ী পাখি, ভোরে চা বাগানে কুয়াশা
ট্রিপ টিকেট
শ্রীমঙ্গল ছোট্ট শহর, কিন্তু চারপাশে চা বাগান, বন, হাওর আর লেক। ঢাকা থেকে ট্রেনে মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টা বলে এটা দুই দিনের ছুটির জন্য দেশের সবচেয়ে সহজ ট্রিপগুলোর একটি। শীতে আরও একটা কারণ যোগ হয়: বাইক্কা বিলে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি।
শ্রীমঙ্গলের সব জায়গার বিস্তারিত পরিচিতি পাবেন আমাদের শ্রীমঙ্গল ভ্রমণ গাইডে।
ট্রেনের সময় (ঢাকা–শ্রীমঙ্গল)
| ট্রেন | কমলাপুর ছাড়ে | শ্রীমঙ্গল পৌঁছায় |
|---|---|---|
| পারাবত এক্সপ্রেস | সকাল ৬:৩০ | সকাল ১০:৩২ |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস | সকাল ১১:১৫ | বিকেল ৪:০১ |
| কালনী এক্সপ্রেস | দুপুর ২:৫৫ | সন্ধ্যা ৬:৫২ |
| ফেরার ট্রেন | শ্রীমঙ্গল ছাড়ে | কমলাপুর পৌঁছায় |
|---|---|---|
| কালনী এক্সপ্রেস | সকাল ৮:২০ | দুপুর ১২:৫৫ |
| জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস | দুপুর ২:৪৫ | সন্ধ্যা ৭:১৫ |
| পারাবত এক্সপ্রেস | সন্ধ্যা ৬:০২ | রাত ১০:৪০ |
ভাড়া শোভন চেয়ার ৩০০৳, স্নিগ্ধা ৫৭০৳, এসি সিট ৬৮৫৳। সকালের পারাবতে গিয়ে পরদিন সন্ধ্যার পারাবতে ফিরলে পুরো দুই দিন পাওয়া যায়। প্রতিটি ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেখে নিন ট্রেনের সময়সূচিতে। বাসে (হানিফ, শ্যামলী) ৪–৫ ঘণ্টা, ৫০০–৭০০৳।
দিন ১: চা বাগান, লাউয়াছড়া আর সাত রঙের চা
সকাল ১০:৩০: পৌঁছে চেক-ইন
স্টেশন থেকে রিকশা বা সিএনজিতে হোটেল বা কটেজে। শহরের ভেতরে হোটেল সস্তা, আর ভানুগাছ রোড বা রাধানগরের দিকে চা বাগানের পাশে কটেজ ও রিসোর্ট।
দুপুর ১২টা: সারা দিনের সিএনজি
শহর থেকে সারা দিনের জন্য সিএনজি নিন, ১,৫০০–২,২০০৳। লাউয়াছড়া, চা বাগান, নীলকণ্ঠ চা কেবিন আর বিটিআরআই এক দিনে ঘোরা যায়।
দুপুর ১–৪টা: লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
শহর থেকে প্রায় ৮ কিমি। আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা আর তিন ঘণ্টার তিনটা হাঁটার পথ আছে; গাইড নিলে উল্লুক (হুলক গিবন), মুখপোড়া হনুমান আর নানা পাখি খুঁজে দেখান। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনটাও দেখার মতো। পাশেই মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, যেখানে পান চাষ হয়।

বিকেল ৪:৩০: চা বাগানে হাঁটা
ফেরার পথে যেকোনো চা বাগানের টিলায় নামুন। বিকেলের আলোয় চা বাগান সবচেয়ে সুন্দর। বাগানের ভেতরে ঢোকার আগে অনুমতি নিন, চা গাছ ছিঁড়বেন না।
সন্ধ্যা: নীলকণ্ঠ চা কেবিনে সাত রঙের চা
এক কাপে সাতটা আলাদা রঙের স্তর, শ্রীমঙ্গলের সবচেয়ে বিখ্যাত জিনিস। কাছেই বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই); দিনের বেলা গেলে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ দেখা যায়। রাতে শহরে ভর্তা আর পাহাড়ি মুরগির ঝোল।
নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৩১টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।৳১২০ম্যাপগুলো দেখুন →


দিন ২: বাইক্কা বিল, মাধবপুর লেক আর মণিপুরী পাড়া
ভোর ৬টা: বাইক্কা বিল
শহর থেকে প্রায় ১৫ কিমি, হাইল হাওরের সংরক্ষিত জলাভূমি। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পরিযায়ী হাঁস, পানকৌড়ি, বক আর জলচর পাখির ভিড়। ওয়াচ টাওয়ার থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায় ভোরে। দূরবিন থাকলে নিয়ে যান, আর চুপচাপ থাকুন।

সকাল ১০টা: মাধবপুর লেক
কমলগঞ্জে, শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ২০ কিমি। চা বাগানের টিলার মাঝে আঁকাবাঁকা লেক, গ্রীষ্ম-বর্ষায় নীল পদ্ম ফোটে। লেকের পাড় ধরে টিলায় উঠলে চারদিকের চা বাগান দেখা যায়।
দুপুর: মণিপুরী পাড়া আর তাঁত
কমলগঞ্জের আদমপুর বা ভানুগাছের মণিপুরী পাড়ায় হাতে বোনা শাল, শাড়ি আর ব্যাগ পাওয়া যায়, তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি। দেশি তাঁত নিয়ে পড়ুন বাংলাদেশের তাঁতের কাপড়।
বিকেল: শহরে ফিরে চা কেনা, সন্ধ্যার পারাবত
শহরের দোকানে বাগানের চা-পাতা কিনে সন্ধ্যা ৬টার পারাবতে ঢাকা।
হামহাম জলপ্রপাত কি দুই দিনে হয়?
হামহাম কলাবন পাড়া থেকে গাইডসহ ৩–৪ ঘণ্টার ট্রেক, যাওয়া-আসায় পুরো দিন লাগে। বর্ষায় পানি সবচেয়ে বেশি, তবে পথ কাদা আর জোঁকে ভরা। শীতে পানি কম। দুই দিনের ট্রিপে হামহাম রাখলে বাইক্কা বিল আর মাধবপুর বাদ দিতে হবে।
জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।৳৮০ম্যাপগুলো দেখুন →


দুই দিনের খরচ (জনপ্রতি)
| খাত | বাজেট (৪ জন) | আরামে (২ জন) |
|---|---|---|
| ট্রেন যাওয়া-আসা | ৬০০৳ (শোভন চেয়ার) | ১,১৪০–১,৩৭০৳ |
| থাকা এক রাত | ৫০০–৮০০৳ | ২,০০০–৪,০০০৳ |
| সিএনজি দুই দিন (ভাগাভাগি) | ৭০০–১,০০০৳ | ১,৫০০–২,০০০৳ |
| খাওয়া, চা, প্রবেশ ফি | ৮০০–১,১০০৳ | ১,২০০–১,৮০০৳ |
| মোট | ২,৬০০–৩,৫০০৳ | ৫,৮০০–৯,২০০৳ |
সাথে কী নেবেন
- শীতে গরম কাপড়, ভোরে বেশ ঠান্ডা
- আরামদায়ক জুতা আর লম্বা মোজা, বনে হাঁটার জন্য
- মশা আর পোকামাকড় তাড়ানোর ক্রিম
- দূরবিন, পাখি দেখতে চাইলে
প্রশ্নোত্তর
এক দিনে কি শ্রীমঙ্গল ঘুরে আসা যায়?
সকালের পারাবতে গিয়ে সন্ধ্যার পারাবতে ফিরলে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা পাওয়া যায়; লাউয়াছড়া, চা বাগান আর সাত রঙের চা হয়ে যায়। তবে বাইক্কা বিলের ভোরের পাখি দেখতে এক রাত থাকা দরকার।
শ্রীমঙ্গল যেতে কত টাকা লাগে?
শোভন চেয়ারে ট্রেন আর চারজন মিলে সিএনজি নিলে দুই দিনে জনপ্রতি ২,৬০০–৩,৫০০৳। রিসোর্টে থাকলে ৬,০০০৳-এর বেশি।
বাইক্কা বিলে পাখি দেখার সেরা সময় কখন?
ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, সূর্যোদয়ের পর প্রথম দুই ঘণ্টা।
শ্রীমঙ্গলের সাথে আর কী জোড়া যায়?
সিলেট মাত্র দুই-আড়াই ঘণ্টা দূরে। দেখুন সিলেট ২ দিনের ট্যুর প্ল্যান।
ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন
জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।


