নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার
ছবি: Md Torikul Islam, মৌলভীবাজার

কুলাউড়া, মৌলভীবাজার · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন

নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি

★ ৫.০ · ২টি রিভিউ

কুলাউড়ার ঐতিহাসিক পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি! চকচকে দালান মসজিদ আর ইমামবাড়া। বিশাল দিঘীতে শান বাধানো ঘাট। আন্দরমহলে প্রবেশ করলে প্রাসাদগুলোতে ফুঠে উঠছে কোথায় পারস্যে, কোথায় মুঘল, বৃটিশ আমলের দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকীর্তি। জমিদারী প্রথা না থাকলেও পূর্ব সিলেটের তৎকালীন জমিদার নবাব আলী আমজদের ঐতিহাসিক নবাব বাড়িটি আজও দেশের মধ্যে জীবন্ত কালের সাক্ষী হয়ে আছে। জমিদারির অনেক স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই বাড়িতে এখনও উত্তরাধিকারীরা বসবাস করছেন। জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পূর্বে পৃথিমপাশা নবাব বাড়ির অবস্থান। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুদূর পারস্যে থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য এই অঞ্চলে আগমণ ঘটলেও ধর্মীয় প্রচার, জমিদারী, সমাজসেবা, শিক্ষার প্রসার, কখনো জনপ্রতিনিধি অনেক কিছুই রয়েছে নবাব বাড়ির ঐতিহ্যকে ঘিরে। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে মন্ত্রী থেকে শুরু করে এমপি ও চেয়ারম্যানসহ নানা পদে আজও বিচরণ রয়েছে নবাব পরিবারের উত্তরসূরিদের। উত্তরসূরীদের দাবি- এখনও মানুষ তাদের ভালোবাসে এবং সম্মান ও মর্যাদা দেয়। জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যঃ জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আলী আমজদ খাঁন মৌলভীবাজার ও কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা এবং সুপেয় পানির জন্য দীঘি খনন করেন। বাড়িতে ঢুকতেই হাতের বামপাশে রয়েছে বিশাল একটি দীঘি। জমিদার বাড়ির চিত্র চোখের সামনে ফুটে উঠতেই মনে হয় অনেক দিন আগের ভাঙাচোরা পলেস্তার খসে যাওয়া দেওয়াল, কোনো লোকের বসবাস নেই, দেওয়ালের গা বেয়ে গজিয়ে উঠেছে বটগাছ ইত্যাদি। কিন্তুু ৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি পুরানো হলেও আজও অবধি বাড়িটি সাজানো গোছানো রয়েছে। প্রায় তিনশত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গৌরবের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি (নবাব বাড়ি)। বাড়ির কারুকার্যময় আসবাবপত্র, মসজিদের ফুলেল নকশা, ইমামবাড়া, সুবিশাল দীঘি যেকোনো ভ্রমণপিপাসুকে আকৃষ্ট করতে যথেষ্ট। তবে জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এখানকার ইমামবাড়া। জমিদারের পাশাপাশি এতদ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে পৃথিমপাশার নবাববাড়ি। বর্তমানে হোছেনী দালান মসজিদ এবং বড় একটা দিঘী অবস্থিত। জমিদার বাড়ীতে হাতীর পিলখানা, বাঘ, হরীণ, ময়ূর ইত্যাদি ছিল। জমিদারদের ব্যবহার করা অনেক জিনিসপত্র রয়েছে এ বাড়িতে। রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য এখানে লোক রয়েছে। জমিদারদের জমিদারী প্রথা আজ আর নেই। তবে রয়ে গেছে সুবিশাল বাড়ি, ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং তাঁর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আলী আমজাদ খাঁনের উত্তরসূরীরাই দেখাশুনা করেন জমিদার বাড়িটি। পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ির ইতিহাস থেকেঃ মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কালে ১৪৯৯ সালে পারস্য (ইরান) থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য ভারতবর্ষে আসেন সাকি সালামত খাঁন। তাঁর ছেলে ইসমাইল খান ওরফে খান জাহান আলী উড়িষ্যার গভর্ণর থাকাকালে দাউদ খান কররানীর সাথে যুদ্ধ হলে ১৫৫৬ সালে তিনি ভারত থেকে পৃথিমপাশায় ইসলাম প্রচারের জন্য আগমন করেন। খানে জাহান খান হিসেবে পরিচিত ইসমাইল খানের নামে পৃথিমপাশার জমিদার বাড়ির দিঘীর নামকরণ করা হয়। ইসমাইল খানের ছেলে শামসুদ্দিন খান। শামসুদ্দিন খানের ছেলে রবি খান। ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠার জন্য তৎকালীন সময়ে পূর্ব সিলেটের প্রথম মাদ্রাসা পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি কর্তৃক কুলাউড়ায় রবিরবাজার হাফিজি মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করা হয়। এসময় এতদ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের জন্য জমি দান করে ১৭৫৬ সালে ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজার হাট প্রতিষ্ঠা করেন রবি খান। রবি খাঁনের ছেলে মোহাম্মদ আলী খান ১৭৭৩ সালে সিলেটের তৎকালীন কাজী (বিচারক) পদে নিযুক্ত ছিলেন। ( সংক্ষিপ্ত )

🗓️ যাওয়ার সেরা সময়মহররম মাসের শেষ দিকে
⏱ কতক্ষণ লাগেকুলাউড়া থেকে রবির বাজার সিএনজিতে ২০ মিনিট, রবির বাজার থেকে নবাব বাড়ি ৫-৭ মিনিট।
💰 খরচবিনামূল্যে

কীভাবে যাবেন

কুলাউড়া শহর থেকে রবির বাজার , রবির বাজার থেকে কর্মধা রোডে ১০-২০ টাকা রিকশা ভাড়া।

কোথায় থাকবেন

রবির বাজার টু টিলাগাঁও রোডে কটেজ আছে, কুলাউড়া শহরে হোটেল।

কাছে খাবারের ব্যবস্থা

সাথে খাবার পানীয় রাখা আবশ্যক।

কাছের দর্শনীয় স্থান

রবির বাজার থেকে--- রবির বাজার জামে মসজিদ (২-৩ মিনিট), লংলা লেক (৭.৪ কি মি), লংলা চা বাগান (৯.১ কি মি) কুলাউড়ার কালা পাহাড় ( ১১ কি মি) , বৃন্ধা রাণীর দীঘি.. ( ৫.২ কি মি), মাধবকুন্ড জলপ্রপাত (৩৭ কি মি),

নিরাপত্তা পরামর্শ

কালা পাহাড় যেতে হলে স্থানীয় গাইড সাথে নিতে হবে, বর্ষাকালে যাওয়া অনিরাপদ।

আরও ছবি

নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি: ছবি ২
নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি: ছবি ৩
নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি: ছবি ৪
নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি: ছবি ৫
নবাব আলী আমজদ খাঁনের বাড়ি: ছবি ৬

ম্যাপে অবস্থান

রিভিউ

  • ★★★★★ Md Taskin Ahmad Tahsin (০৯/১০/২০২৬): কুলাউড়ার ঐতিহাসিক পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি! চকচকে দালান মসজিদ আর ইমামবাড়া। বিশাল দিঘীতে শান বাধানো ঘাট। আন্দরমহলে প্রবেশ করলে প্রাসাদগুলোতে ফুঠে উঠছে কোথায় পারস্যে, কোথায় মুঘল, বৃটিশ আমলের দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকীর্তি। জমিদারী প্রথা না থাকলেও পূর্ব সিলেটের তৎকালীন জমিদার নবাব আলী আমজদের ঐতিহাসিক নবাব বাড়িটি আজও দেশের মধ্যে জীবন্ত কালের সাক্ষী হয়ে আছে। জমিদারির অনেক স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই বাড়িতে এখনও উত্তরাধিকারীরা বসবাস করছেন। জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার পূর্বে পৃথিমপাশা নবাব বাড়ির অবস্থান। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুদূর পারস্যে থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য এই অঞ্চলে আগমণ ঘটলেও ধর্মীয় প্রচার, জমিদারী, সমাজসেবা, শিক্ষার প্রসার, কখনো জনপ্রতিনিধি অনেক কিছুই রয়েছে নবাব বাড়ির ঐতিহ্যকে ঘিরে। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে মন্ত্রী থেকে শুরু করে এমপি ও চেয়ারম্যানসহ নানা পদে আজও বিচরণ রয়েছে নবাব পরিবারের উত্তরসূরিদের। উত্তরসূরীদের দাবি- এখনও মানুষ তাদের ভালোবাসে এবং সম্মান ও মর্যাদা দেয়। জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যঃ জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আলী আমজদ খাঁন মৌলভীবাজার ও কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্কুল
  • ★★★★★ NOBOAB MUSTAKIM (০৯/১০/২০২৬): যাঁরা ইতিহাস, পুরোনো স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই স্থানটি অবশ্যই বিবেচনাযোগ্য। তবে এটি সম্পূর্ণ আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র নয়; বাড়িটির কিছু অংশ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যবহারে থাকতে পারে। তাই প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চলা ভালো। সিলেট বিভাগের ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি আপনার ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন। এখানকার পরিবেশ ও ইতিহাস আপনাকে বাংলার জমিদারি আমলের অতীত সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে।

পাঠিয়েছেন Md Torikul Islam, মৌলভীবাজার · ০৯/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।

Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →

মৌলভীবাজার জেলার আরও লুকানো রত্ন

মৌলভীবাজার জেলার ভ্রমণ গাইড: সব দর্শনীয় স্থান →