
ভোলা জেলা · বরিশাল বিভাগ · Monpura Island
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড
মেঘনার বুকে সবুজ দ্বীপ; হরিণ, ম্যানগ্রোভ আর মাছ ধরার দৃশ্য।
এক নজরে
- আয়তন
- প্রায় ৩৭৩ বর্গকিমি (উপজেলা)
- অবস্থান
- মেঘনার মোহনা, ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন
- পরিচিতি
- ২০০৯ সালের চলচ্চিত্র 'মনপুরা'
- সেরা সময়
- নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি
ইতিহাস ও বিস্তারিত
মনপুরা ভোলা জেলার একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ-উপজেলা, মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত। প্রায় ৪০০ বছর আগে পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল বলে প্রচলিত, আর এখনো দ্বীপে 'কানা পর্তুগিজ' জাতের লোমশ কুকুর দেখা যায় বলে স্থানীয়রা বলেন।
১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে মনপুরার বিপুল মানুষ প্রাণ হারান—এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। পরে বাঁধ ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি হয়।
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ২০০৯ সালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র 'মনপুরা' দ্বীপটিকে নতুন করে পরিচিতি দেয়। দ্বীপের দক্ষিণে চৌধুরী প্রজেক্ট ও চরাঞ্চলের ম্যানগ্রোভ বনে হরিণ দেখা যায়; মেঘনার তাজা ইলিশ আর মহিষের দই এখানকার বিশেষ খাবার।
যা যা করবেন
- চৌধুরী প্রজেক্টের ম্যানগ্রোভে হরিণ দেখুন
- মেঘনার পাড়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখুন
- মহিষের দই ও তাজা ইলিশ খান
- মোটরসাইকেলে পুরো দ্বীপ ঘুরুন
মনপুরা দ্বীপ কীভাবে যাবেন
সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে বা তজুমদ্দিন থেকে ট্রলারে।
ঢাকা থেকে ভোলা প্রায় ২০০ কিমি, সময় লাগে ৬–৮ ঘণ্টা (লঞ্চে)।
- 🚢 লঞ্চে: সদরঘাট থেকে ভোলা/ইলিশা, চরফ্যাশন (বেতুয়া) ও মনপুরার লঞ্চ; ডেক ৩০০–৪৫০৳, কেবিন ১,২০০–৩,০০০৳।
- 🚌 বাসে: বরিশাল হয়ে লাহারহাট ফেরি পার হয়ে ভোলা।
কোথায় থাকবেন
- মনপুরা পর্যটন কেন্দ্র/সরকারি ডাকবাংলো
- স্থানীয় সাধারণ মানের হোটেল
কী খাবেন
মহিষের দই, মেঘনার ইলিশ
জেনে রাখুন
- বর্ষায় মেঘনা উত্তাল—যাত্রা এড়িয়ে চলুন
- চৌধুরী প্রজেক্টে হরিণ দেখার সম্ভাবনা বেশি
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- চৌধুরী প্রজেক্ট
- দক্ষিণের চরগুলো (নৌকায়)
- তজুমদ্দিন ঘাট (ট্রলারে)
ভোলা জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- চর কুকরি-মুকরি — ম্যানগ্রোভ বন, চিত্রা হরিণ আর নির্জন সৈকত।
- জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার — চরফ্যাশন শহরের উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, চারপাশের দৃশ্য দেখা যায়।