
ঢালচর, চরফ্যাশন, ভোলা · নদী, সৈকত বা লেক · লুকানো রত্ন
তারুয়া সমুদ্র সৈকত
তারুয়া সমুদ্র সৈকত হলো বাংলাদেশের ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত এক অপরূপ ও কুমারী (Virgin) দ্বীপ সৈকত। আপনি যদি কোলাহলমুক্ত, শান্ত এবং প্রকৃতির একদম কাছাকাছি কোনো জায়গায় যেতে চান, তবে তারুয়া আপনার জন্য সেরা গন্তব্য হতে পারে। তারুয়া সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য: • লাল কাঁকড়ার রাজত্ব: এই সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো হাজার হাজার লাল কাঁকড়া। সাগরের ঢেউ যখন বালুচরে এসে আছড়ে পড়ে, তখন পুরো সৈকতজুড়ে লাল কাঁকড়াদের দল বেঁধে ছুটে চলা দেখতে দারুণ লাগে। • সমুদ্র ও ম্যানগ্রোভ বনের মিতালী: সৈকত ঘেঁষেই রয়েছে প্রায় ২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ঘন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এখানে কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও রেনট্রি গাছের ছায়াঘন পরিবেশ এক নৈসর্গিক আবহ তৈরি করেছে। বনের ভেতর মাঝেমধ্যে হরিণ, বুনো মহিষ ও শেয়ালের দেখা মেলে। • অতিথি পাখির কলকাকলি: শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) এই দ্বীপে সাইবেরিয়া ও বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে প্রচুর পরিযায়ী বা অতিথি পাখি আসে। পাখির ডানা ঝাপটানো আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকে পুরো চারপাশ। • ল্যান্ডিং স্টেশন: পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকতে ট্রলার ও ছোট লঞ্চ ভেড়ানোর জন্য প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডিং স্টেশন বা জেটি তৈরি করা হয়েছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে তারুয়া সৈকত যাওয়ার সংক্ষিপ্ত রুট: ১. লঞ্চ (ঢাকা -> বেতুয়া ঘাট): সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়াগামী লঞ্চে উঠুন। পরদিন সকালে বেতুয়া ঘাটে পৌঁছাবেন। (ভাড়া: ডেক ৩০০-৩৫০ টাকা, কেবিন ১২০০+ টাকা) ২. বাইক/সিএনজি (বেতুয়া -> চর কচ্ছপিয়া ঘাট): বেতুয়া ঘাট থেকে মোটরবাইক বা সিএনজি নিয়ে সরাসরি চর কচ্ছপিয়া ঘাটে যান। সময় লাগবে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা। (ভাড়া: জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকা) ৩. ট্রলার/স্পিডবোট (কচ্ছপিয়া -> ঢালচর): কচ্ছপিয়া ঘাট থেকে প্রতিদিন দুপুরে ঢালচরের লোকাল ট্রলার ছাড়ে (ভাড়া: ১৫০-২০০ টাকা, সময়: ২ ঘণ্টা)। অথবা স্পিডবোট রিজার্ভ করে ৪০ মিনিটে যেতে পারেন। ৪. মোটরবাইক (ঢালচর -> তারুয়া সৈকত): ঢালচর বাজার থেকে লোকাল মোটরবাইকে চড়ে মাত্র ১০-১৫ মিনিটে পৌঁছে যান মূল তারুয়া সমুদ্র সৈকতে। (ভাড়া: ৫০-১০০ টাকা)
কোথায় থাকবেন
ঢালচর বাজারের লোকাল হোটেল, বন বিভাগের রেস্ট হাউস, বালুচরে তাঁবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
ঢালচর বাজারের লোকাল হোটেল
কাছের দর্শনীয় স্থান
চর কুকরি-মুকরি (১৫ কিমি)
নিরাপত্তা পরামর্শ
সাগরে জোয়ারের সময় এবং বৈরী আবহাওয়ায় লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ট্রলার ভ্রমণ বা সাগরের পানিতে নামা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
আরও ছবি





ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন রুসাফী মীর, ভোলা · ০৯/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →