দেবতাখুম, বান্দরবান
ছবি: অভিজিৎ দাস · CC BY-SA 4.0

বান্দরবান জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · Debotakhum

দেবতাখুম ভ্রমণ গাইড

দুই পাশে খাড়া পাথরের দেয়ালের মাঝে গভীর, ঠান্ডা পানির খুম; বাঁশের ভেলায় ভেসে ভেতরে যেতে হয়।

🗓️ ঘোরার সেরা সময়অক্টোবর–মার্চ (পানি শান্ত ও স্বচ্ছ); বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের কারণে বিপজ্জনক ও প্রায়ই বন্ধ
⏱ কতক্ষণ লাগবেপুরো দিন (বান্দরবান শহর থেকে যাওয়া-আসা)
💰 আনুমানিক খরচজনপ্রতি ১,৫০০–৩,০০০৳ (সিএনজি/জিপ রিজার্ভ ভাগাভাগি, গাইড ১,০০০–১,৫০০৳ প্রতি দল, ভেলা ও লাইফ জ্যাকেট জনপ্রতি ২০০–৪০০৳)

এক নজরে

গভীরতা
প্রায় ৫০–৭০ ফুট
দৈর্ঘ্য
প্রায় ৬০০ ফুট
অবস্থান
রোয়াংছড়ি উপজেলা
প্রবেশপথ
কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প

ইতিহাস ও বিস্তারিত

দেবতাখুম রোয়াংছড়ির শীলবান্ধা এলাকার একটি গভীর পাথুরে খাদ। স্থানীয় মারমা জনগোষ্ঠী একে পবিত্র মনে করে, সেখান থেকে 'দেবতার খুম' নাম। দুই পাশে প্রায় সমান্তরাল খাড়া পাথরের দেয়াল, মাঝে সবুজাভ গভীর পানি—দিনের বেলাতেও ভেতরে আলো কম থাকে।

২০১৮–১৯ সালের দিকে ভ্রমণপিপাসুদের ছবিতে জায়গাটি পরিচিতি পায়। পং সু আং খুম পার হয়ে বাঁশের ভেলায় করে মূল খুমের ভেতরে ঢুকতে হয়; ভেলা ঠেলে ঠেলে ভেতরের দিকে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই এখানকার প্রধান আকর্ষণ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রোয়াংছড়ি এলাকায় মাঝে মাঝে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকে; তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।

যা যা করবেন

  • ভেলায় চড়ে খুমের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যান
  • পং সু আং খুমে ছবি তুলুন
  • ফেরার পথে শীলবান্ধা ঝিরিপথ উপভোগ করুন

দেবতাখুম কীভাবে যাবেন

বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি হয়ে কচ্ছপতলী (প্রায় ২০ কিমি, সিএনজি/জিপ), সেখানে আর্মি ক্যাম্পে নিবন্ধন ও গাইড নিয়ে ১–১.৫ ঘণ্টা হাঁটা, তারপর ভেলা।

ঢাকা থেকে বান্দরবান প্রায় ৩৩০ কিমি, সময় লাগে ৭–৮ ঘণ্টা।

  • 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/কলাবাগান থেকে সরাসরি শ্যামলী, হানিফ, এস আলম, সেন্টমার্টিন পরিবহন; নন-এসি ৮৫০–১,০০০৳, এসি ১,৫০০–২,০০০৳।
  • 🚗 সড়কপথে: চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান বাসে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা।

কোথায় থাকবেন

  • বান্দরবান শহরে থেকে দিনে ঘুরে আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক
  • কচ্ছপতলী এলাকায় খুব সাধারণ মানের কটেজ/হোমস্টে (সীমিত)

কী খাবেন

বাঁশ কোরল, ব্যাম্বু চিকেন, পাহাড়ি সবজি ও ফল

জেনে রাখুন

  • কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্পে নাম নিবন্ধন ও নিবন্ধিত গাইড বাধ্যতামূলক—জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে নিন
  • নিরাপত্তাজনিত কারণে রোয়াংছড়ি এলাকায় পর্যটক প্রবেশ মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে—যাওয়ার আগে বান্দরবান জেলা প্রশাসন বা গাইডের কাছে খোঁজ নিন
  • খুমের পানি গভীর ও খুব ঠান্ডা—সাঁতার জানলেও লাইফ জ্যাকেট পরুন
  • ঝিরিপথে পাথর পিচ্ছিল—গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল পরুন আর মোবাইল ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে রাখুন
  • সকালে রওনা দিন; বিকেলের পর ফেরার পথে অন্ধকার নামে

কাছাকাছি আরো যা দেখবেন

  • শীলবান্ধা ঝর্ণা (পথে)
  • পং সু আং খুম (দেবতাখুমের আগে)
  • বান্দরবান শহর (২৫ কিমি)

বান্দরবান জেলার আরো দর্শনীয় স্থান

ম্যাপে অবস্থান