
বান্দরবান জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · Debotakhum
দেবতাখুম ভ্রমণ গাইড
দুই পাশে খাড়া পাথরের দেয়ালের মাঝে গভীর, ঠান্ডা পানির খুম; বাঁশের ভেলায় ভেসে ভেতরে যেতে হয়।
এক নজরে
- গভীরতা
- প্রায় ৫০–৭০ ফুট
- দৈর্ঘ্য
- প্রায় ৬০০ ফুট
- অবস্থান
- রোয়াংছড়ি উপজেলা
- প্রবেশপথ
- কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প
ইতিহাস ও বিস্তারিত
দেবতাখুম রোয়াংছড়ির শীলবান্ধা এলাকার একটি গভীর পাথুরে খাদ। স্থানীয় মারমা জনগোষ্ঠী একে পবিত্র মনে করে, সেখান থেকে 'দেবতার খুম' নাম। দুই পাশে প্রায় সমান্তরাল খাড়া পাথরের দেয়াল, মাঝে সবুজাভ গভীর পানি—দিনের বেলাতেও ভেতরে আলো কম থাকে।
২০১৮–১৯ সালের দিকে ভ্রমণপিপাসুদের ছবিতে জায়গাটি পরিচিতি পায়। পং সু আং খুম পার হয়ে বাঁশের ভেলায় করে মূল খুমের ভেতরে ঢুকতে হয়; ভেলা ঠেলে ঠেলে ভেতরের দিকে যাওয়ার অভিজ্ঞতাই এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রোয়াংছড়ি এলাকায় মাঝে মাঝে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ থাকে; তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।
যা যা করবেন
- ভেলায় চড়ে খুমের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যান
- পং সু আং খুমে ছবি তুলুন
- ফেরার পথে শীলবান্ধা ঝিরিপথ উপভোগ করুন
দেবতাখুম কীভাবে যাবেন
বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি হয়ে কচ্ছপতলী (প্রায় ২০ কিমি, সিএনজি/জিপ), সেখানে আর্মি ক্যাম্পে নিবন্ধন ও গাইড নিয়ে ১–১.৫ ঘণ্টা হাঁটা, তারপর ভেলা।
ঢাকা থেকে বান্দরবান প্রায় ৩৩০ কিমি, সময় লাগে ৭–৮ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/কলাবাগান থেকে সরাসরি শ্যামলী, হানিফ, এস আলম, সেন্টমার্টিন পরিবহন; নন-এসি ৮৫০–১,০০০৳, এসি ১,৫০০–২,০০০৳।
- 🚗 সড়কপথে: চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান বাসে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
- বান্দরবান শহরে থেকে দিনে ঘুরে আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক
- কচ্ছপতলী এলাকায় খুব সাধারণ মানের কটেজ/হোমস্টে (সীমিত)
কী খাবেন
বাঁশ কোরল, ব্যাম্বু চিকেন, পাহাড়ি সবজি ও ফল
জেনে রাখুন
- কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্পে নাম নিবন্ধন ও নিবন্ধিত গাইড বাধ্যতামূলক—জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে নিন
- নিরাপত্তাজনিত কারণে রোয়াংছড়ি এলাকায় পর্যটক প্রবেশ মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে—যাওয়ার আগে বান্দরবান জেলা প্রশাসন বা গাইডের কাছে খোঁজ নিন
- খুমের পানি গভীর ও খুব ঠান্ডা—সাঁতার জানলেও লাইফ জ্যাকেট পরুন
- ঝিরিপথে পাথর পিচ্ছিল—গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল পরুন আর মোবাইল ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে রাখুন
- সকালে রওনা দিন; বিকেলের পর ফেরার পথে অন্ধকার নামে
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- শীলবান্ধা ঝর্ণা (পথে)
- পং সু আং খুম (দেবতাখুমের আগে)
- বান্দরবান শহর (২৫ কিমি)
বান্দরবান জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- নীলগিরি — প্রায় ২,২০০ ফুট উঁচুতে; ভোরে মেঘ পায়ের নিচে দেখা যায়।
- নীলাচল — শহরের কাছের পাহাড়চূড়া; সূর্যাস্ত আর পাহাড়ের সারির দৃশ্য।
- স্বর্ণমন্দির (বুদ্ধ ধাতু জাদি) — পাহাড়চূড়ায় সোনালি রঙের থেরবাদী বৌদ্ধ মন্দির।
- বগা লেক — প্রায় ১,২০০ ফুট উঁচুতে প্রাকৃতিক লেক; কেওক্রাডং যাওয়ার পথে থাকা যায়।
- কেওক্রাডং — দেশের অন্যতম উঁচু পাহাড়চূড়া; ট্রেকারদের প্রিয় গন্তব্য।
- নাফাখুম জলপ্রপাত — সাঙ্গু নদীর উপর দেশের বড় জলপ্রপাতগুলোর একটি।
- মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স — লেক, ঝুলন্ত সেতু আর ক্যাবল কার নিয়ে পরিবার নিয়ে ঘোরার জায়গা।
- চিম্বুক পাহাড় — নীলগিরির পথে উঁচু পাহাড়; ম্রো গ্রাম আর মেঘের দৃশ্য।
- শৈলপ্রপাত — রাস্তার পাশেই ছোট ঝর্ণা; বম জনগোষ্ঠীর তাঁতের জিনিস কেনা যায়।