ট্রিপ প্ল্যান

বান্দরবান ৩ দিনের ট্যুর প্ল্যান ও খরচ ২০২৬: নীলাচল, নীলগিরি, দেবতাখুম

তিন দিনে বান্দরবানের সেরা জায়গাগুলো কীভাবে সাজাবেন: স্বর্ণমন্দির আর নীলাচলের সূর্যাস্ত, শৈলপ্রপাত-চিম্বুক-নীলগিরির পাহাড়ি পথ, আর শীতে দেবতাখুমের স্বচ্ছ পানিতে বাঁশের ভেলা। ৬–৮ জনের দলের পুরো খরচসহ।

Unseen Bangladesh ডেস্ক২৯ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ মিনিটে পড়া English
বান্দরবান ৩ দিনের ট্যুর প্ল্যান ও খরচ ২০২৬: নীলাচল, নীলগিরি, দেবতাখুম
ছবি: Mahjuja Islam, CC BY-SA 4.0

ট্রিপ টিকেট

ঢাকা থেকে
প্রায় ৩৩০ কিমি, বাসে ৭–৮ ঘণ্টা
চট্টগ্রাম থেকে
বহদ্দারহাট থেকে বাসে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা
কত দিন
৩ দিন, ২ রাত
খরচ
জনপ্রতি ৬,০০০–৮,০০০৳ (৬–৮ জনের দলে)
শীতে
পরিষ্কার আকাশ, দেবতাখুমের পানি সবচেয়ে স্বচ্ছ

বান্দরবানে দেখার জায়গা অনেক, কিন্তু সব একদিকে নয়। শহরের কাছের জায়গাগুলো এক দিনে, থানচি সড়কের পাহাড়চূড়াগুলো আরেক দিনে, আর রোয়াংছড়ির দেবতাখুম তৃতীয় দিনে রাখলে তিন দিনেই বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর দিকগুলো দেখা হয়ে যায়, তাড়াহুড়ো ছাড়া। শীতে বর্ষার মেঘ কম থাকে, কিন্তু আকাশ পরিষ্কার, পাহাড়সারি বহু দূর পর্যন্ত দেখা যায়, আর খুমের পানি থাকে স্বচ্ছ সবুজ।

বান্দরবানের সব জায়গা আর দূরের ট্রেকিং রুট নিয়ে বিস্তারিত পাবেন আমাদের বান্দরবান ভ্রমণ গাইডে।

যাওয়ার উপায়

মাধ্যমআনুমানিক ভাড়া (একপথ)সময়
ঢাকা থেকে নন-এসি বাস৮৫০–১,০০০৳৭–৮ ঘণ্টা
ঢাকা থেকে এসি বাস১,৫০০–২,০০০৳৭–৮ ঘণ্টা
ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রামশোভন চেয়ার ৪৫০–৪৯৫৳৫–৭ ঘণ্টা
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে বাস২০০–৩০০৳প্রায় ২.৫ ঘণ্টা

রাতের বাসে গেলে ভোরে বান্দরবান পৌঁছে প্রথম দিনটা পুরো পাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে রাতের তূর্ণায় চট্টগ্রাম, তারপর সকালের বাসে বান্দরবান। ট্রেনের সময় দেখুন ট্রেনের সময়সূচিতে।

দিন ১: শহরের কাছে, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির আর নীলাচল

সকাল: পৌঁছে চেক-ইন আর মেঘলা

শহরের হোটেলে ব্যাগ রেখে নাস্তা। তারপর সিএনজি বা চাঁদের গাড়িতে শহর থেকে ৪ কিমি দূরের মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স: লেক, দুটি ঝুলন্ত সেতু আর পাহাড়ি পথ।

দুপুর: স্বর্ণমন্দির (বুদ্ধ ধাতু জাদি)

বালাঘাটায়, শহর থেকে প্রায় ৪ কিমি। পাহাড়ের চূড়ায় সোনালি রঙের থেরবাদী বৌদ্ধ মন্দির, দেশের সবচেয়ে বড়গুলোর একটি। দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে খোলা থাকে; জুতা খুলে আর শালীন পোশাকে ঢুকুন।

বান্দরবানের স্বর্ণমন্দিরের কারুকাজ
বান্দরবানের স্বর্ণমন্দিরের কারুকাজছবি: Moheen Reeyad, CC BY-SA 4.0

বিকেল: নীলাচলে সূর্যাস্ত

শহর থেকে প্রায় ৬ কিমি, পাহাড়চূড়ার ভিউপয়েন্ট। শীতের বিকেলে চারপাশের পাহাড় স্তরে স্তরে দেখা যায়, দূরে শহরের আলো জ্বলে ওঠে।

প্রথম দিনের তিনটা জায়গার জন্য পুরো চাঁদের গাড়ি ১,৫০০–২,৫০০৳।

নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৩১টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।৳১২০ম্যাপগুলো দেখুন →

দিন ২: শৈলপ্রপাত, চিম্বুক আর নীলগিরি

সকাল ৮টা: থানচি সড়কে রওনা

সকালে শহর থেকে চাঁদের গাড়ি নিয়ে থানচি সড়ক ধরে বের হন। শৈলপ্রপাত, চিম্বুক আর নীলগিরি যাওয়া-আসা ৩,৫০০–৫,৫০০৳।

সকাল ৮:৩০: শৈলপ্রপাত

শহর থেকে প্রায় ৮ কিমি, রাস্তার পাশেই ছোট ঝর্ণা। শীতে পানি কম, কিন্তু পাশে বম নারীদের হাতে বোনা কাপড় আর হস্তশিল্প কেনার জায়গা।

সকাল ১০টা: চিম্বুক পাহাড়

শহর থেকে প্রায় ২৬ কিমি। চূড়া থেকে চারদিকে ঢেউখেলানো পাহাড় আর নিচে সাঙ্গু নদীর বাঁক। পথে ম্রো জনগোষ্ঠীর পাড়া।

চিম্বুক পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশপথ
চিম্বুক পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশপথছবি: Moheen Reeyad, CC BY-SA 4.0

দুপুর ১২টা–৩টা: নীলগিরি

শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিমি, প্রায় ২,২০০ ফুট উঁচু। সেনাবাহিনী পরিচালিত পর্যটন কেন্দ্রে রেস্তোরাঁ আর ভিউপয়েন্ট। দুপুরের খাবার এখানেই সেরে নিন। ভোরের মেঘ দেখতে চাইলে নীলগিরি রিসোর্টে এক রাত থাকা যায়, তবে অনেক আগে বুক করতে হয়।

বিকেল: শহরে ফেরা

সন্ধ্যার আগেই শহরে ফিরুন; পাহাড়ি রাস্তায় অন্ধকারে চলা এড়িয়ে চলুন। রাতে শহরের রেস্তোরাঁয় বাঁশকোড়ল, ব্যাম্বু চিকেন আর পাহাড়ি সবজি।

দিন ৩: দেবতাখুম, তারপর ফেরা

সকাল ৭টা: রোয়াংছড়ি হয়ে কচ্ছপতলী

শহর থেকে সিএনজি বা জিপে রোয়াংছড়ি হয়ে কচ্ছপতলী, প্রায় ২০ কিমি। সেখানে আর্মি ক্যাম্প বা পুলিশ ক্যাম্পে নাম নিবন্ধন আর বাধ্যতামূলক স্থানীয় গাইড নিতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সাথে রাখুন।

সকাল ৯টা–দুপুর ১টা: দেবতাখুম

কচ্ছপতলী থেকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা হেঁটে শীলবান্ধা পাড়া, তারপর খুম। দুই পাশে খাড়া পাথরের দেয়ালের মাঝে গভীর, ঠান্ডা পানি, ভেতরে যেতে হয় বাঁশের ভেলায়। শীতে পানি শান্ত আর স্বচ্ছ, তাই এটাই দেবতাখুমের সেরা সময়। লাইফ জ্যাকেট পরুন, সাঁতার না জানলে ভেলা থেকে পানিতে নামবেন না।

দেবতাখুমের ভেতরের পাথুরে দেয়াল
দেবতাখুমের ভেতরের পাথুরে দেয়ালছবি: অভিজিৎ দাস, CC BY-SA 4.0

বিকেল: শহরে ফেরা আর রাতের বাস

দুপুরের পর শহরে ফিরে গোসল-খাওয়া সেরে রাতের বাসে ঢাকা বা চট্টগ্রাম।

দেবতাখুম বন্ধ থাকলে

রোয়াংছড়ির দিকে যাওয়া বন্ধ থাকলে তৃতীয় দিন রাখুন শহর থেকে ১৪ কিমি দূরের প্রান্তিক লেক, রামজাদি বৌদ্ধ মন্দির, সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণ আর শহরের বাজারে পাহাড়ি পণ্য কেনা।

খরচের হিসাব (জনপ্রতি, ৬–৮ জনের দল)

খাতখরচ
ঢাকা–বান্দরবান বাস, যাওয়া-আসা (নন-এসি)১,৭০০–২,০০০৳
হোটেল ২ রাত (ভাগাভাগি)১,০০০–১,৮০০৳
দিন ১ ও দিন ২-এর চাঁদের গাড়ি (ভাগাভাগি)৮০০–১,০০০৳
দেবতাখুম: গাড়ি, গাইড, ভেলা৬০০–৮০০৳
খাওয়া (৩ দিন)১,৫০০–২,০০০৳
প্রবেশ ফি ও টুকিটাকি৩০০–৪০০৳
মোট৫,৯০০–৮,০০০৳

এসি বাস আর ভালো রিসোর্ট নিলে জনপ্রতি ১০,০০০–১৪,০০০৳ পর্যন্ত যায়। দল যত বড়, চাঁদের গাড়ির খরচ তত কম।

জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।৳৮০ম্যাপগুলো দেখুন →

কোথায় থাকবেন

প্রথম দিনের জন্য শহরের হোটেলই সুবিধার, সব জায়গা কাছে। শহরে মাঝারি মানের হোটেল ১,৫০০–৩,৫০০৳। মেঘলার কাছে কয়েকটি রিসোর্ট আর নীলগিরির পথে সাইরু হিল রিসোর্ট (বিলাসবহুল)। শীতের ছুটিতে ঘর আগে বুক করুন।

শীতে বান্দরবান: যা নেবেন

  • হালকা গরম জ্যাকেট; রাতে আর ভোরে পাহাড়ে ঠান্ডা
  • গ্রিপওয়ালা জুতা বা স্যান্ডেল, দেবতাখুমের পথ পিচ্ছিল
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কয়েকটা কপি
  • বমির ওষুধ, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের জন্য
  • পর্যাপ্ত নগদ টাকা; দূরের এলাকায় এটিএম নেই

প্রশ্নোত্তর

বান্দরবান ৩ দিনে কত টাকা লাগে?

ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে ৬–৮ জনের দলে জনপ্রতি ৬,০০০–৮,০০০৳। এসি বাস আর রিসোর্টে ১০,০০০৳-এর বেশি।

দুই দিনে কি বান্দরবান হয়?

হয়, তবে প্রথম দিন শহরের কাছের জায়গা আর দ্বিতীয় দিন নীলগিরি রেখে দেবতাখুম বাদ দিতে হবে।

নাফাখুম বা বগা লেক কি এই প্ল্যানে যোগ করা যায়?

না, দুটোর জন্যই আলাদা অন্তত দুই-তিন দিন লাগে আর রুমা-থানচির অনুমতির ব্যাপার আছে। বিস্তারিত দেখুন বান্দরবান ভ্রমণ গাইডে।

বান্দরবানের সাথে আর কোথায় যাওয়া যায়?

রাঙ্গামাটি বা কক্সবাজার। দেখুন কাপ্তাই লেক গাইড আর কক্সবাজার ২ দিনের প্ল্যান।

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।