ভ্রমণ গাইড

খাগড়াছড়ি ভ্রমণ গাইড ও খরচ ২০২৬: দর্শনীয় স্থান, একদিনের প্ল্যান ও যাওয়ার উপায়

খাগড়াছড়ি শুধু সাজেক যাওয়ার পথ নয়। মশাল হাতে আলুটিলা গুহা, পাথরের ঢালে গড়িয়ে নামা রিছাং ঝর্ণা, পাহাড়চূড়ার দেবতা পুকুর আর পাহাড়ি খাবার: ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার উপায়, একদিনের রুট, থাকা আর খরচ।

Unseen Bangladesh ডেস্ক৪ নভেম্বর ২০২৬ · ৯ মিনিটে পড়া Read in English
খাগড়াছড়ি ভ্রমণ গাইড ও খরচ ২০২৬: দর্শনীয় স্থান, একদিনের প্ল্যান ও যাওয়ার উপায়
ছবি: Solayman .Emon, CC BY-SA 4.0

ট্রিপ টিকেট

ঢাকা থেকে
প্রায় ২৭০ কিমি, বাসে ৬–৮ ঘণ্টা
বাস ভাড়া
নন-এসি ৭০০–৯৫০৳, এসি ১,৩০০–১,৮০০৳
কত দিন
শহরের স্পট ১ দিনে; সাজেকসহ ২–৩ দিন
খরচ
জনপ্রতি দিনে প্রায় ১,৮০০–৩,৫০০৳ (বাস ভাড়া বাদে)
সেরা সময়
অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি; ঝর্ণার পানির জন্য বর্ষা

খাগড়াছড়ি পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি জেলা, ঢাকা থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দূরে; রাতের বাসে ৬–৮ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। শহরের কাছের আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝর্ণা আর ঝুলন্ত সেতু এক দিনেই দেখা যায়, সাজেক যোগ করলে লাগে ২–৩ দিন। বাস ভাড়া বাদে জনপ্রতি দিনে খরচ সাধারণত ১,৮০০–৩,৫০০ টাকা।

বেশির ভাগ মানুষ খাগড়াছড়িকে চেনে সাজেক যাওয়ার পথ হিসেবে। ভোরে বাস থেকে নেমে সোজা চাঁদের গাড়িতে উঠে পড়েন, শহরটা আর দেখা হয় না। অথচ এক দিন হাতে রাখলেই পাহাড়ের ভেতর দিয়ে অন্ধকার সুড়ঙ্গ, পাথরের প্রাকৃতিক স্লাইড আর পাহাড়চূড়ার রহস্যময় পুকুর দেখা যায়। এই গাইডে খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায়, একদিনের রুট, থাকা-খাওয়া আর খরচ এক জায়গায়।

খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান

জায়গাশহর থেকেকী দেখবেন
আলুটিলা গুহাপ্রায় ৭ কিমিমশাল হাতে পাহাড়ের ভেতরের অন্ধকার সুড়ঙ্গ
রিছাং ঝর্ণাআলুটিলার কাছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় ১.৫ কিমি হাঁটাপাথরের ঢালু পথে গড়িয়ে নামা পানি
দেবতা পুকুর (মাতাই পুখিরি)মাটিরাঙ্গা সড়কে, তারপর প্রায় ১ ঘণ্টা হাঁটাপ্রায় ৭০০ ফুট উঁচু পাহাড়চূড়ার পুকুর
হর্টিকালচার পার্ক ও ঝুলন্ত সেতুশহরের কাছেলেক, ঝুলন্ত সেতু আর বিকেলের হাঁটা
হাজাছড়া ঝর্ণাদীঘিনালার পথেমূল রাস্তা থেকে ১০–১৫ মিনিট হাঁটা, ছায়াঘেরা পথ
দীঘিনালা বনবিহারদীঘিনালাপথে থামার মতো বৌদ্ধ বিহার

আলুটিলা গুহা

খাগড়াছড়ির সবচেয়ে পরিচিত জায়গা। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে প্রায় ৩৫০ ফুট লম্বা অন্ধকার সুড়ঙ্গ, ভেতরে আলো নেই, আর অনেক জায়গায় পায়ের নিচে পানি আর পিচ্ছিল পাথর। প্রবেশপথে মশাল পাওয়া যায়, অনেকে মোবাইলের টর্চও ব্যবহার করেন। পিচ্ছিল পাথরে হাঁটতে হয়, তাই স্যান্ডেল নয়, ভালো গ্রিপের জুতা পরুন। আলুটিলা পাহাড়ের ওপর থেকে খাগড়াছড়ি শহর আর চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্যও সুন্দর। বিস্তারিত দেখুন আলুটিলা গুহার গাইডে।

খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহার প্রবেশপথ
খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহার প্রবেশপথছবি: Sahed Mustopha, CC BY-SA 4.0

রিছাং ঝর্ণা

পাহাড়ের গা বেয়ে পানি সরাসরি না পড়ে পাথরের লম্বা ঢালে গড়িয়ে নামে, দেখতে প্রাকৃতিক স্লাইডের মতো। মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পাহাড়ি পথে হাঁটতে হয়, ফেরার সময় চড়াই। বর্ষায় পানি সবচেয়ে বেশি থাকে; শীতে পানি কমে যায়, তবে পাথর তখন কম পিচ্ছিল। পাথরে পিছলে নামার সময় সাবধান থাকুন। দেখুন রিছাং ঝর্ণার গাইড।

দেবতা পুকুর

মাটিরাঙ্গা সড়ক থেকে প্রায় এক ঘণ্টা পাহাড়ে উঠলে চূড়ায় একটি পুকুর, স্থানীয় ত্রিপুরা ভাষায় মাতাই পুখিরি, মানে দেবতার পুকুর। এত উঁচুতে পুকুরটি কখনো শুকায় না বলে প্রচলিত আছে, আর স্থানীয়দের কাছে এটি পবিত্র জায়গা। হাঁটার পথ খাড়া, তাই সকালে রওনা দিন আর সাথে পানি রাখুন। পুকুরের পানিতে নামবেন না, স্থানীয়দের বিশ্বাসকে সম্মান করুন। বিস্তারিত দেবতা পুকুরের গাইডে।

দেবতা পুকুরের পথে পাহাড়ি রাস্তা
দেবতা পুকুরের পথে পাহাড়ি রাস্তাছবি: Mahjuja Islam, CC BY 4.0

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি কীভাবে যাবেন

খাগড়াছড়িতে ট্রেন বা বিমান নেই, সবচেয়ে সহজ পথ বাস। বেশির ভাগ বাস রাতে ছাড়ে আর ভোরে শহরের শাপলা চত্বরে পৌঁছায়।

কোথা থেকেকীভাবেসময়আনুমানিক ভাড়া (একপথ, ২০২৬)
ঢাকাসায়েদাবাদ/কলাবাগান থেকে শান্তি, শ্যামলী, হানিফ, সেন্টমার্টিন পরিবহন৬–৮ ঘণ্টানন-এসি ৭০০–৯৫০৳, এসি ১,৩০০–১,৮০০৳
চট্টগ্রামঅক্সিজেন মোড় থেকে শান্তি বা লোকাল বাস৩–৪ ঘণ্টা২৫০–৪০০৳
ফেনীমহিপাল থেকে খাগড়াছড়ির বাসপ্রায় ৩ ঘণ্টা২০০–৩০০৳

ট্রেনে খাগড়াছড়ি যাওয়ার উপায়

সরাসরি ট্রেন নেই, তবে ঢাকা থেকে ট্রেনে ফেনী গিয়ে বাসে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। ঢাকা–ফেনী শোভন চেয়ার ৩৩০৳, স্নিগ্ধা ৬৩৩৳। রাতের তূর্ণা (রাত ১১:১৫ ছাড়ে, ফেনী রাত ৩:৪০) ধরলে ভোরে মহিপাল থেকে প্রথম বাসে সকালেই খাগড়াছড়ি। সব ট্রেনের সময় দেখুন ট্রেনের সময়সূচিতে।

জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।ম্যাপগুলো দেখুন →

একদিনে খাগড়াছড়ি ভ্রমণ: সহজ রুট

রাতের বাসে গিয়ে এক দিনে শহরের কাছের সব জায়গা দেখে রাতের বাসে ফেরা যায়।

  • ভোর ৬টা: শাপলা চত্বরে নেমে নাস্তা। সারা দিনের জন্য সিএনজি ঠিক করুন, কোন কোন জায়গায় যাবেন তা আগে বলে দরদাম করুন।
  • সকাল ৮টা: আলুটিলা গুহা আর পাহাড়ের ওপরের ভিউপয়েন্ট।
  • সকাল ১০টা: রিছাং ঝর্ণা; যাওয়া-আসার হাঁটাসহ ২–৩ ঘণ্টা রাখুন।
  • দুপুর ১টা: শহরে ফিরে পাহাড়ি রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার।
  • বিকেল ৩টা: হর্টিকালচার পার্কের ঝুলন্ত সেতু আর লেকের পাশে বিকেল।
  • রাত: রাতের খাবার খেয়ে ঢাকা বা চট্টগ্রামের বাস।

দেবতা পুকুর যোগ করতে চাইলে আরেকটা সকাল লাগবে, কারণ শুধু ওঠানামাতেই দুই ঘণ্টার মতো যায়। আর সাজেক যেতে চাইলে পরদিন সকালে দীঘিনালা হয়ে রওনা দিন; পুরো প্ল্যান আছে আমাদের সাজেক ২ দিনের ট্যুর প্ল্যানে।

খাগড়াছড়ি ভ্রমণে খরচ কত

খাত (জনপ্রতি, ঢাকা থেকে, ১ রাত থেকে)আনুমানিক খরচ
ঢাকা–খাগড়াছড়ি বাস, যাওয়া-আসা (নন-এসি)১,৪০০–১,৯০০৳
হোটেল এক রাত (ঘর ১,২০০–৩,০০০৳, ২–৩ জন ভাগ করে)৫০০–১,৫০০৳
সারা দিনের সিএনজি (৩–৪ জন ভাগ করে)দরদাম সাপেক্ষে, ভাগে সাধারণত কয়েকশো টাকা
খাওয়া৬০০–১,০০০৳
প্রবেশ ফি, মশাল, টুকিটাকি২০০–৩০০৳

সব মিলিয়ে বাস ভাড়া বাদে জনপ্রতি দিনে প্রায় ১,৮০০–৩,৫০০৳। চট্টগ্রাম থেকে গেলে বাসের খরচ অনেক কম। শুক্র-শনিবার আর ডিসেম্বরের ছুটিতে হোটেলের দাম বাড়ে, তাই আগে বুক করুন। কম খরচে ঘোরার আরও উপায় পাবেন বাজেট ভ্রমণ টিপসে।

কোথায় থাকবেন, কী খাবেন

  • থাকা: পর্যটন মোটেল খাগড়াছড়ি সবচেয়ে পরিচিত; শহরে মাঝারি মানের অনেক হোটেল আছে, ঘর সাধারণত ১,২০০–৩,০০০৳।
  • খাবার: পাহাড়ি রান্নার জন্য শহরের সিস্টেম রেস্তোরাঁ বিখ্যাত। বাঁশের চোঙায় রান্না ব্যাম্বু চিকেন আর পাহাড়ি সবজির পদ চেখে দেখুন।
পার্টনার · In2 Travelপাহাড়ে যাচ্ছেন? গায়ে থাকুক পাহাড়পাহাড়ি পথ আর মেঘের ছবি আঁকা ট্রাভেল জার্সি, পাহাড়ের ট্রিপের জন্য বানানো।শপে দেখুন →At the Mountain of MadnessAro Akbar Cholo Fire Jai

খাগড়াছড়ি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

  • অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি: আরামদায়ক ঠান্ডা, পরিষ্কার আকাশ, পাহাড়ি পথে হাঁটা সহজ। সাজেকের সাথে মিলিয়ে ঘোরার সেরা সময়।
  • জুন–সেপ্টেম্বর: রিছাং আর হাজাছড়া ঝর্ণায় সবচেয়ে বেশি পানি, পাহাড় সবুজ। তবে পথ পিচ্ছিল থাকে।
  • মার্চ–মে: গরম বেশি, ঝর্ণায় পানি প্রায় থাকে না।

শীতের আরও জায়গা পাবেন শীতে ঘোরার সেরা জায়গার তালিকায়।

যাওয়ার আগে জেনে রাখুন

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছাত্র পরিচয়পত্রের কপি সাথে রাখুন; পাহাড়ি পথে চেকপোস্টে দেখাতে হতে পারে।
  • পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, বিহার আর পবিত্র জায়গায় শালীন পোশাক পরুন।
  • গুহা আর ঝর্ণার জন্য ভালো গ্রিপের জুতা আর একটা ছোট টর্চ নিন।
  • জরুরি দরকারে ৯৯৯, আর খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশ: ০১৩২০-১৫৯৫৪৭।

প্রশ্নোত্তর

খাগড়াছড়ি ভ্রমণে কত টাকা লাগে?

ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে গিয়ে এক রাত থাকলে জনপ্রতি মোট প্রায় ৩,২০০–৫,৫০০৳। বাস ভাড়া বাদে খাগড়াছড়িতে দিনে খরচ সাধারণত ১,৮০০–৩,৫০০৳।

খাগড়াছড়ির দর্শনীয় স্থান কোনগুলো?

আলুটিলা গুহা, রিছাং ঝর্ণা, দেবতা পুকুর, হর্টিকালচার পার্কের ঝুলন্ত সেতু, হাজাছড়া ঝর্ণা আর দীঘিনালা বনবিহার। খাগড়াছড়ি থেকেই সাজেক ভ্যালি যেতে হয়।

একদিনে কি খাগড়াছড়ি ঘোরা সম্ভব?

হ্যাঁ। রাতের বাসে ভোরে পৌঁছে আলুটিলা, রিছাং আর ঝুলন্ত সেতু দেখে রাতের বাসে ফেরা যায়। দেবতা পুকুর বা সাজেক যোগ করলে আরও এক-দুই দিন লাগবে।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে কত সময় লাগে?

প্রায় ২৭০ কিলোমিটার, বাসে ৬–৮ ঘণ্টা। সায়েদাবাদ বা কলাবাগান থেকে শান্তি, শ্যামলী, হানিফ আর সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাস যায়।

খাগড়াছড়ি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি, তখন আবহাওয়া আরামদায়ক আর আকাশ পরিষ্কার। ঝর্ণায় ভরা পানি দেখতে চাইলে বর্ষায় যান, তবে পথ পিচ্ছিল থাকে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক কত দূর?

প্রায় ৭০ কিলোমিটার, দীঘিনালা হয়ে চাঁদের গাড়িতে প্রায় ৩ ঘণ্টা। দীঘিনালার পর সেনা এসকর্টের সাথে যেতে হয়; বিস্তারিত আমাদের সাজেক ভ্যালি গাইডে।

এই লেখার জায়গাগুলোর পূর্ণ গাইড

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।