সাজেক ২ দিনের ট্যুর প্ল্যান ও খরচ ২০২৬: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ট্রেনে যাওয়ার উপায়
দুই দিনে সাজেক আর খাগড়াছড়ির সেরা জায়গাগুলো কীভাবে ঘুরবেন, ৪, ৮ বা ১২ জনের দলে জনপ্রতি খরচ কত পড়ে, ট্রেনে ফেনী হয়ে বা চট্টগ্রাম থেকে কীভাবে যাবেন, আর শীতে সাজেক কেমন থাকে।

- ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি
- প্রায় ২৭০ কিমি, বাসে ৬–৮ ঘণ্টা
- খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক
- প্রায় ৭০ কিমি, চাঁদের গাড়িতে ৩ ঘণ্টা
- কত দিন
- ২ দিন, ১ রাত সাজেকে
- খরচ
- জনপ্রতি ৪,৫০০–৮,০০০৳ (৮–১২ জনের দলে)
- শীতে
- পরিষ্কার আকাশ, ভোরে কুয়াশা আর ঠান্ডা
ট্রিপ টিকেট
সাজেকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দুটো: দুই দিনে কী কী দেখা যাবে, আর জনপ্রতি খরচ কত পড়বে। উত্তর নির্ভর করে আপনার দলের আকারের ওপর, কারণ সাজেকের সবচেয়ে বড় খরচ চাঁদের গাড়ি, যেটা দলের সবাই ভাগ করে নেয়। এই লেখায় দুই দিনের ঘণ্টা ধরে প্ল্যান আর ৪, ৮ ও ১২ জনের দলের আলাদা হিসাব দেওয়া হলো।
সাজেকের ইতিহাস, কটেজ বাছাই আর খাবার নিয়ে বিস্তারিত পাবেন আমাদের সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ গাইডে।
কোথা থেকে কীভাবে যাবেন
সব পথ এসে মেলে খাগড়াছড়ি শহরে। সেখান থেকে চাঁদের গাড়ি বা সিএনজিতে দীঘিনালা হয়ে সাজেক।
| কোথা থেকে | কীভাবে | সময় | আনুমানিক ভাড়া (একপথ) |
|---|---|---|---|
| ঢাকা | শ্যামলী, হানিফ, শান্তি, এস আলমের বাস | ৬–৮ ঘণ্টা | নন-এসি ৮০০–৯৫০৳, এসি ১,৩০০–১,৮০০৳ |
| চট্টগ্রাম | অক্সিজেন মোড় থেকে শান্তি বা লোকাল বাস | ৩–৪ ঘণ্টা | ২৫০–৪০০৳ |
| ফেনী | মহিপাল থেকে খাগড়াছড়ির বাস | ৩ ঘণ্টা | ২০০–৩০০৳ |
| কুমিল্লা | ঢাকা-খাগড়াছড়ির বাসে ওঠা, বা ফেনী হয়ে | ৪–৫ ঘণ্টা | ৫০০–৭০০৳ |
ট্রেনে সাজেক যাওয়ার উপায়
সরাসরি ট্রেন নেই, তবে ট্রেনে ফেনী গিয়ে সেখান থেকে বাসে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ফেনী শোভন চেয়ার ৩৩০৳, স্নিগ্ধা ৬৩৩৳। তূর্ণা (রাত ১১:১৫, ফেনী রাত ৩:৪০) বা মহানগর এক্সপ্রেস (রাত ৮:৩০) ধরলে ভোরে ফেনী থেকে প্রথম বাস ধরে সকালেই খাগড়াছড়ি পৌঁছানো যায়। সব সময় দেখুন আমাদের ট্রেনের সময়সূচিতে।
দিন ১: খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক
ভোর ৫:৩০–৮টা: খাগড়াছড়ি পৌঁছানো
রাতের বাসে ভোরে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে নামুন। নাস্তা সেরে আগে থেকে ঠিক করা চাঁদের গাড়িতে উঠুন। আগে ঠিক না থাকলে স্ট্যান্ডেই দরদাম করে নিন।
সকাল ৮–১০টা: দীঘিনালা আর হাজাছড়া ঝর্ণা
দীঘিনালা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা। পথে হাজাছড়া ঝর্ণা, মূল রাস্তা থেকে ১০–১৫ মিনিট হাঁটা। শীতে পানি কম থাকে, কিন্তু ছায়াঘেরা পথটা সুন্দর।
সকাল ১০টা: সেনা এসকর্টে সাজেকের পথে
দীঘিনালার পর গাড়িগুলো সেনা এসকর্টের সাথে দল বেঁধে চলে, সাধারণত সকাল ১০টা ও দুপুর ৩টার দিকে। সময় বদলাতে পারে, তাই খাগড়াছড়িতে চালকের কাছে সর্বশেষ সময় জেনে নিন। রাস্তার উঁচুনিচু ঢেউয়ের মতো বাঁক নিজেই একটা অভিজ্ঞতা।
দুপুর ১টা: রুইলুই পাড়ায় চেক-ইন
কটেজে উঠে দুপুরের খাবার। দুপুরে একটু বিশ্রাম নিন, কারণ পরদিন ভোরে উঠতে হবে।
বিকেল ৪টা: হেলিপ্যাড আর সূর্যাস্ত
হেলিপ্যাড থেকে পশ্চিমের পাহাড়সারির ওপর সূর্যাস্ত। শীতে আকাশ পরিষ্কার থাকে বলে বহু দূরের পাহাড়ও স্পষ্ট দেখা যায়।
রাত: ব্যাম্বু চিকেন, ক্যাম্পফায়ার আর তারা
রাতের খাবার বিকেলেই অর্ডার করে রাখুন, বিশেষ করে ব্যাম্বু চিকেন। শীতের রাতে আকাশ খুব পরিষ্কার, শহর থেকে দূরে বলে অসংখ্য তারা দেখা যায়।
নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৩১টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।৳১২০ম্যাপগুলো দেখুন →


দিন ২: কংলাক, তারপর খাগড়াছড়ির জায়গাগুলো
ভোর ৫টা: কংলাক পাহাড়ে সূর্যোদয়
রুইলুই থেকে প্রায় ২ কিমি গাড়িতে, তারপর ২০–৩০ মিনিট খাড়া হাঁটা। পাহাড়ের নিচে বাঁশের লাঠি ভাড়া পাওয়া যায়। ভোরে উপত্যকায় মেঘ বা কুয়াশা জমে থাকে, তার ওপর দিয়ে সূর্য ওঠে। কংলাক পাড়ায় লুসাই জনগোষ্ঠীর ঘরবাড়ি দেখুন।

সকাল ১০টা: ফেরার এসকর্ট
নাস্তা সেরে কটেজ ছেড়ে সকালের এসকর্টে খাগড়াছড়ির পথে।
দুপুর ১–৫টা: আলুটিলা, রিছাং আর ঝুলন্ত সেতু
খাগড়াছড়ি শহরের আগে আলুটিলা গুহা: মশাল হাতে প্রায় ৩৫০ ফুট লম্বা অন্ধকার সুড়ঙ্গ। কাছেই রিছাং ঝর্ণা, মূল সড়ক থেকে প্রায় ১.৫ কিমি হাঁটা। সময় থাকলে শহরের কাছে হর্টিকালচার পার্কের ঝুলন্ত সেতু। এই থামাগুলো চাঁদের গাড়ির চুক্তিতে আগেই ঢুকিয়ে নিন।

রাত: ঢাকা বা চট্টগ্রামের বাস
খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়ি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খেয়ে রাতের বাসে ফেরা।
দলের আকার অনুযায়ী জনপ্রতি খরচ
চাঁদের গাড়ি (খাগড়াছড়ি–সাজেক যাওয়া-আসা, পথের স্পটসহ) সাধারণত ১০,০০০–১৩,০০০৳; একটা গাড়িতে ১২ জন পর্যন্ত বসা যায়। দুই-তিনজন হলে সিএনজি (৫,০০০–৬,৫০০৳ যাওয়া-আসা) সস্তা পড়ে।
| খাত (জনপ্রতি, ঢাকা থেকে) | ৪ জন (সিএনজি) | ৮ জন (চাঁদের গাড়ি) | ১২ জন (চাঁদের গাড়ি) |
|---|---|---|---|
| ঢাকা–খাগড়াছড়ি বাস, যাওয়া-আসা (নন-এসি) | ১,৮০০৳ | ১,৮০০৳ | ১,৮০০৳ |
| সাজেকের গাড়ি | ১,৫০০৳ | ১,৪০০৳ | ১,০০০৳ |
| কটেজ এক রাত (২–৪ জন এক ঘরে) | ১,০০০–২,০০০৳ | ৮০০–১,৫০০৳ | ৭০০–১,২০০৳ |
| খাওয়া ২ দিন | ১,৫০০৳ | ১,৫০০৳ | ১,৫০০৳ |
| প্রবেশ ফি, লাঠি, টুকিটাকি | ৩০০৳ | ৩০০৳ | ৩০০৳ |
| মোট | ৬,১০০–৭,১০০৳ | ৫,৮০০–৬,৫০০৳ | ৫,৩০০–৫,৮০০৳ |
চট্টগ্রাম থেকে গেলে বাসের খরচ প্রায় ১,০০০–১,২০০৳ কম পড়ে। শুক্র-শনিবার আর ডিসেম্বরের ছুটিতে কটেজের দাম বাড়ে।
জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।৳৮০ম্যাপগুলো দেখুন →


বাইকে সাজেক
অনেকে নিজের মোটরবাইকে বা খাগড়াছড়ি থেকে বাইক ভাড়া করে সাজেক যান। খাগড়াছড়ি থেকে চালকসহ ভাড়া বাইক যাওয়া-আসায় সাধারণত ২,৫০০–৪,০০০৳ (দুজন বসা যায়)। বাইককেও সেনা এসকর্টের সাথে যেতে হয়। পথে খাড়া চড়াই-উতরাই আর তীক্ষ্ণ বাঁক, তাই অভিজ্ঞ না হলে নিজে চালাবেন না, আর হেলমেট ছাড়া একদম না।
শীতে সাজেক: যা জানা দরকার
- নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি রাতে ও ভোরে বেশ ঠান্ডা, ১০°সে-এর কাছাকাছি নামে; গরম জ্যাকেট, টুপি আর মোজা নিন
- বর্ষার মতো ঘন মেঘ কম, তবে ভোরে উপত্যকায় কুয়াশার সাগর দেখা যায়
- আকাশ পরিষ্কার বলে সূর্যাস্ত আর রাতের তারা সবচেয়ে ভালো দেখা যায়
- ঝর্ণায় পানি কম থাকে
- ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি ভিড়; কটেজ অন্তত দুই সপ্তাহ আগে বুক করুন
প্রশ্নোত্তর
দুই দিনে সাজেক যেতে মোট কত টাকা লাগে?
ঢাকা থেকে ৮–১২ জনের দলে নন-এসি বাসে গেলে জনপ্রতি ৫,০০০–৬,৫০০৳। এসি বাস বা ভালো রিসোর্ট নিলে ৮,০০০–১০,০০০৳ পর্যন্ত হয়।
একা বা দুজন গেলে কীভাবে খরচ কমাব?
খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বরে অন্য দলের সাথে চাঁদের গাড়ি ভাগ করুন, অথবা সিএনজি নিন। অনেক ফেসবুক ট্রাভেল গ্রুপে সিট ভাগাভাগির পোস্টও পাওয়া যায়।
সাজেক যেতে কি অনুমতি লাগে?
আলাদা অনুমতি লাগে না, তবে পথে চেকপোস্টে নাম লিখতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছাত্র পরিচয়পত্রের কপি সাথে রাখুন।
রাঙ্গামাটি শহর থেকে কি সাজেক যাওয়া যায়?
সাজেক রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও সাধারণ পর্যটকদের পথ খাগড়াছড়ি দিয়েই। রাঙ্গামাটি ঘুরতে চাইলে আমাদের কাপ্তাই লেক গাইড দেখুন।
ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন
জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।


