
সিলেট জেলা · সিলেট বিভাগ · Shrine of Shah Jalal
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ভ্রমণ গাইড
দেশের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান।
এক নজরে
- আগমন
- ১৩০৩ সাল (প্রচলিত মতে)
- অবস্থান
- দরগাহ গেট, সিলেট শহর
- বিখ্যাত
- জালালী কবুতর, গজার মাছের পুকুর
- প্রবেশ
- বিনামূল্যে
ইতিহাস ও বিস্তারিত
হযরত শাহজালাল (রহ.) ইয়েমেন বা তুরস্কের দিক থেকে আসা সুফি সাধক বলে জানা যায়। প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী ১৩০৩ সালে তিনি ৩৬০ জন অনুসারী নিয়ে সিলেটের রাজা গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করেন এবং এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। তাঁর অনুসারীদের অনেকে সিলেট ও আশপাশে বসতি গড়েন, যাঁদের মাজার আজও নানা জায়গায় আছে।
বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৫–৪৬ সালে সিলেটে এসে শাহজালালের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে উল্লেখ আছে। মাজার প্রাঙ্গণে শাহজালালের ব্যবহৃত তলোয়ার, খড়ম ও অন্যান্য জিনিস সংরক্ষিত আছে বলে প্রচলিত।
মাজারের পুকুরে গজার মাছ আর প্রাঙ্গণে হাজারো 'জালালী কবুতর' দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে; স্থানীয়রা এদের পবিত্র মনে করেন এবং কেউ ধরেন না।
যা যা করবেন
- শালীন পোশাকে মাজার জিয়ারত করুন
- জালালী কবুতর ও গজার মাছের পুকুর দেখুন
- কাছের শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজারে যান
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার কীভাবে যাবেন
সিলেট শহরের দরগাহ গেটে।
ঢাকা থেকে সিলেট প্রায় ২৪০ কিমি, সময় লাগে ৫–৬ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/ফকিরাপুল থেকে গ্রীন লাইন, এনা, হানিফ, শ্যামলী; নন-এসি ৬৫০–৭৫০৳, এসি ১,২০০–১,৬০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী, উপবন এক্সপ্রেস; ভাড়া প্রায় ৩৭৫–১,১০০৳।
- ✈️ বিমানে: বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার; একপথ ৩,৫০০–৬,০০০৳, ৪৫ মিনিট।
কোথায় থাকবেন
- রোজ ভিউ হোটেল
- নির্ভানা ইন
- গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট
- দরগাহ গেট ও জিন্দাবাজারে মাঝারি মানের হোটেল (৳১,৫০০–৩,৫০০)
কী খাবেন
সাতকরা দিয়ে মাংস, পাঁচ ভাই/পানসী রেস্তোরাঁর ভর্তা-ভাত, চা
জেনে রাখুন
- শালীন পোশাক পরুন
- কাছেই শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার (৮ কিমি)
- কিন ব্রিজ ও সুরমা নদী (২ কিমি)
- আলী আমজাদের ঘড়ি (২ কিমি)
- মালনীছড়া চা বাগান (৫ কিমি)
সিলেট জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- রাতারগুল জলাবন — দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন; বর্ষায় নৌকায় গাছের ফাঁকে ঘোরা।
- জাফলং — ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নিচে পিয়াইন নদী, পাথর আর স্বচ্ছ পানি; পাশে খাসিয়া পুঞ্জি।
- বিছনাকান্দি — পাহাড় থেকে নামা স্বচ্ছ পানি আর বিছানো পাথর; বর্ষা ও শরতে সবচেয়ে সুন্দর।
- লালাখাল — নীল-সবুজ পানির নদী আর চা বাগান; নৌকায় ঘোরা।
- সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ — ধলাই নদীর মুখে সাদা পাথর আর পাহাড় থেকে নামা ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি।
- মালনীছড়া চা বাগান — উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান (১৮৫৪)।
- পান্থুমাই ঝর্ণা — মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নামা বড় ঝর্ণা, নদী থেকে দেখা যায়।