
ঢাকা জেলা · ঢাকা বিভাগ · Lalbagh Fort
লালবাগ কেল্লা ভ্রমণ গাইড
১৬৭৮ সালে মুঘল সুবেদার শাহজাদা আজম শাহের সময়ে শুরু হওয়া অসমাপ্ত দুর্গ। ভেতরে পরী বিবির মাজার, দরবার হল ও মসজিদ।
এক নজরে
- নির্মাণ শুরু
- ১৬৭৮ সাল
- নির্মাতা
- শাহজাদা মুহাম্মদ আজম, পরে শায়েস্তা খান
- আসল নাম
- কেল্লা আওরঙ্গাবাদ
- সময়সূচি
- রবিবার বন্ধ, সোমবার অর্ধদিবস
ইতিহাস ও বিস্তারিত
১৬৭৮ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজম বাংলার সুবেদার থাকার সময় বুড়িগঙ্গার তীরে এই দুর্গের নির্মাণ শুরু করেন এবং নাম দেন 'কেল্লা আওরঙ্গাবাদ'। কাজ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সুবেদার শায়েস্তা খান কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু ১৬৮৪ সালে তাঁর প্রিয় কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর তিনি দুর্গটিকে অশুভ মনে করে নির্মাণ বন্ধ করে দেন। তাই কেল্লাটি আজও অসম্পূর্ণ। পরী বিবিকে দুর্গের মাঝখানে সমাহিত করা হয়; মার্বেল, কষ্টিপাথর ও টালি দিয়ে তৈরি তাঁর সমাধিসৌধটি কেল্লার সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা।
কেল্লায় আরো আছে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম (শায়েস্তা খানের বাসভবন ও দরবার, বর্তমানে জাদুঘর) আর হাম্মামখানা। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় এখানে দেশীয় সৈন্যরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কেল্লাটি সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়।
যা যা করবেন
- পরী বিবির সমাধিসৌধের কারুকাজ দেখুন
- দিওয়ান-ই-আম জাদুঘরে মুঘল আমলের অস্ত্র, পোশাক ও মুদ্রা দেখুন
- সন্ধ্যায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখুন (নির্দিষ্ট দিনে)
- বের হয়ে পুরান ঢাকার বিরিয়ানি খান
লালবাগ কেল্লা কীভাবে যাবেন
পুরান ঢাকার লালবাগে; রিকশা বা সিএনজিতে যাওয়া যায়। রবিবার বন্ধ থাকে।
কোথায় থাকবেন
- প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা (বিলাসবহুল)
- গুলশান-বনানী, পল্টন ও ফার্মগেট এলাকায় মাঝারি মানের অনেক হোটেল (৳২,০০০–৬,০০০)
কী খাবেন
পুরান ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, বাকরখানি, বোরহানি, নান্না মিয়ার মোরগ পোলাও
জেনে রাখুন
- রবিবার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে—যাওয়ার আগে সময়সূচি দেখে নিন
- সন্ধ্যায় লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হয় (নির্দিষ্ট দিনে)
- কাছেই পুরান ঢাকার বিরিয়ানি ও বাকরখানি চেখে দেখুন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- ঢাকেশ্বরী মন্দির (১ কিমি)
- আহসান মঞ্জিল (৩ কিমি)
- তারা মসজিদ ও আর্মেনিয়ান চার্চ (৩ কিমি)
- চকবাজার শাহী মসজিদ (২ কিমি)
ঢাকা জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- আহসান মঞ্জিল — বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকার নবাবদের গোলাপি প্রাসাদ, এখন জাদুঘর। নবাবি আমলের আসবাব ও ছবি দেখা যায়।
- জাতীয় সংসদ ভবন — স্থপতি লুই কানের নকশায় তৈরি বিশ্ববিখ্যাত আধুনিক স্থাপত্য। চারপাশের লেক ও চন্দ্রিমা উদ্যানে বিকেলে ঘুরতে ভালো লাগে।
- হাতিরঝিল — শহরের মাঝখানে লেক, ব্রিজ আর হাঁটার পথ। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জা ও ওয়াটার ট্যাক্সি জনপ্রিয়।
- জাতীয় জাদুঘর — দেশের সবচেয়ে বড় জাদুঘর; প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও লোকশিল্পের বিশাল সংগ্রহ।
- তারা মসজিদ — চীনামাটির টুকরো দিয়ে তারার নকশায় সাজানো আঠারো শতকের সুন্দর মসজিদ।
- ঢাকেশ্বরী মন্দির — ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন ও জাতীয় মন্দির, শহরের নামের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হয়।
- আর্মেনিয়ান চার্চ — ১৭৮১ সালে তৈরি আর্মেনিয়ানদের গির্জা, পুরান ঢাকার বহুজাতিক ইতিহাসের সাক্ষী।
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর — ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দলিল, ছবি ও স্মৃতিচিহ্নের আধুনিক জাদুঘর।