
ঢাকা জেলা · ঢাকা বিভাগ · Jatiya Sangsad Bhaban
জাতীয় সংসদ ভবন ভ্রমণ গাইড
স্থপতি লুই কানের নকশায় তৈরি বিশ্ববিখ্যাত আধুনিক স্থাপত্য। চারপাশের লেক ও চন্দ্রিমা উদ্যানে বিকেলে ঘুরতে ভালো লাগে।
এক নজরে
- স্থপতি
- লুই আই কান (যুক্তরাষ্ট্র)
- নির্মাণ
- ১৯৬১–১৯৮২
- এলাকা
- প্রায় ২০০ একর কমপ্লেক্স
- স্বীকৃতি
- আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার (১৯৮৯)
ইতিহাস ও বিস্তারিত
১৯৫৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জন্য দ্বিতীয় রাজধানী ও সংসদ ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে স্থপতি মাজহারুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি বিশ্বের সেরা স্থপতিদের একজনকে আনার প্রস্তাব করেন; এর ফলে মার্কিন স্থপতি লুই আই কান এ কাজের দায়িত্ব পান।
১৯৬১ সালে কাজ শুরু হলেও মুক্তিযুদ্ধের কারণে বন্ধ থাকে; স্বাধীনতার পর আবার শুরু হয়ে ১৯৮২ সালে শেষ হয়। লুই কান ১৯৭৪ সালে মারা যান, তাই তিনি সম্পূর্ণ ভবন দেখে যেতে পারেননি। বৃত্ত, ত্রিভুজ ও আয়তক্ষেত্রের জ্যামিতিক ছিদ্র দিয়ে আলো-ছায়ার খেলা আর চারপাশের কৃত্রিম লেক—যেন পানির ওপর ভাসমান একটি ভবন।
ভবনটি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত; ১৯৮৯ সালে আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার পায়। কানের জীবন নিয়ে তাঁর ছেলের তৈরি প্রামাণ্যচিত্র 'মাই আর্কিটেক্ট'-এ এই ভবনের বিশেষ অংশ আছে।
যা যা করবেন
- মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ভবনের সম্মুখভাগ দেখুন
- চন্দ্রিমা উদ্যান ও ক্রিসেন্ট লেকে বিকেলে হাঁটুন
- ভেতরে ঘুরতে চাইলে সংসদ সচিবালয় থেকে অনুমতির খোঁজ নিন
জাতীয় সংসদ ভবন কীভাবে যাবেন
শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও; মেট্রোরেলের আগারগাঁও বা ফার্মগেট স্টেশন থেকে কাছে।
কোথায় থাকবেন
- প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা (বিলাসবহুল)
- গুলশান-বনানী, পল্টন ও ফার্মগেট এলাকায় মাঝারি মানের অনেক হোটেল (৳২,০০০–৬,০০০)
কী খাবেন
পুরান ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানি, হাজীর বিরিয়ানি, বাকরখানি, বোরহানি, নান্না মিয়ার মোরগ পোলাও
জেনে রাখুন
- মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে ভবনের সেরা দৃশ্য দেখা যায়
- নিরাপত্তা এলাকায় ড্রোন ওড়ানো নিষেধ
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- চন্দ্রিমা উদ্যান (পাশে)
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর (২ কিমি)
- বিজ্ঞান জাদুঘর ও নভোথিয়েটার (২ কিমি)
- আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন (১.৫ কিমি)
ঢাকা জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- লালবাগ কেল্লা — ১৬৭৮ সালে মুঘল সুবেদার শাহজাদা আজম শাহের সময়ে শুরু হওয়া অসমাপ্ত দুর্গ। ভেতরে পরী বিবির মাজার, দরবার হল ও মসজিদ।
- আহসান মঞ্জিল — বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকার নবাবদের গোলাপি প্রাসাদ, এখন জাদুঘর। নবাবি আমলের আসবাব ও ছবি দেখা যায়।
- হাতিরঝিল — শহরের মাঝখানে লেক, ব্রিজ আর হাঁটার পথ। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জা ও ওয়াটার ট্যাক্সি জনপ্রিয়।
- জাতীয় জাদুঘর — দেশের সবচেয়ে বড় জাদুঘর; প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও লোকশিল্পের বিশাল সংগ্রহ।
- তারা মসজিদ — চীনামাটির টুকরো দিয়ে তারার নকশায় সাজানো আঠারো শতকের সুন্দর মসজিদ।
- ঢাকেশ্বরী মন্দির — ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন ও জাতীয় মন্দির, শহরের নামের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হয়।
- আর্মেনিয়ান চার্চ — ১৭৮১ সালে তৈরি আর্মেনিয়ানদের গির্জা, পুরান ঢাকার বহুজাতিক ইতিহাসের সাক্ষী।
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর — ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দলিল, ছবি ও স্মৃতিচিহ্নের আধুনিক জাদুঘর।