বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, পল্টন থানা, ঢাকা
ছবি: Sahid Ali Tahmid, চাঁদপুর

পল্টন থানা, ঢাকা · ধর্মীয় স্থান · লুকানো রত্ন

বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

📛 বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ, যা রাজধানী ঢাকার পল্টন ও গুলিস্তানের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এটি ইসলামি স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতীক। 📜 ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট:- ➤ উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনা: ১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল লতিফ ইব্রাহিম বাওয়ানি (বাওয়ানি জুট মিলসের মালিক) এবং তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি ঢাকায় একটি বিশাল মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেন। ➤ সোসাইটি গঠন: এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১৯৫৯ সালে ‘বায়তুল মোকাররম মসজিদ সোসাইটি’ গঠিত হয়। ➤ জমির নির্বাচন: পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে পল্টনের প্রায় ৮.৩০ একর জমি নির্বাচন করা হয়, যেখানে তখন ‘পল্টন পুকুর’ নামে একটি বড় পুকুর ছিল। পুকুরটি ভরাট করে জমিতে মসজিদের কাজ শুরু হয়। ➤ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ➤ নামকরণ ও উদ্বোধন: আরবি ‘বায়তুল মোকাররম’ শব্দের অর্থ ‘সম্মানিত ঘর’। ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি (শুক্রবার) এই মসজিদে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক জুমার নামাজ আদায় করা হয়। সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৬৮ সালে। ➤ সরকারি ব্যবস্থাপনা: ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই মসজিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করছে। ➤ সম্প্রসারণ: ২০০৮ সালে সৌদি আরব সরকারের আর্থিক অনুদানে মসজিদটি আরও সম্প্রসারিত হয়। 🕌 স্থাপত্যশৈলী ও বৈশিষ্ট্য:- ➤ কাবা শরীফের অনুকরণে নকশা: সিন্ধুর প্রখ্যাত স্থপতি আব্দুল হোসেইন এম. থারিয়ানি (T. Abdul Hussain Thariani) এই মসজিদের নকশা প্রণয়ন করেন। মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের আদলে এর চারকোনা (কিউবিক) আকৃতি তৈরি করা হয়েছে। ➤ গম্বুজহীন কাঠামো: প্রচলিত অনেক মসজিদের মতো এর মূল ছাদের ওপর কোনো বড় গম্বুজ নেই। তবে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে গম্বুজযুক্ত চমৎকার প্রবেশপথ রয়েছে। ➤ উচ্চতা ও আয়তন: ৮ তলা বিশিষ্ট এই মূল ভবনের উচ্চতা প্রায় ৯৯ ফুট (যা আল্লাহর ৯৯টি নামের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়)। ➤ নামাজের ধারণক্ষমতা: শুরুতে প্রায় ৩০,০০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারলেও বর্তমানে সম্প্রসারণের পর এখানে ৪০,০০০-এর বেশি মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। ধারণক্ষমতার দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। ➤ কমপ্লেক্স সুবিধা: মূল মসজিদ ভবনের পাশাপাশি এখানে বিশাল প্রাঙ্গণ (পূর্ব সাহান), ইসলামি পাঠাগার, কনফারেন্স রুম, অফিস এবং বিখ্যাত বায়তুল মোকাররম মার্কেট রয়েছে। 🔻ঐতিহ্য ও বিশেষত্ব ➤ জাতীয় পরিচয়: এটি কেবল উপাসনালয় নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার প্রধান জামাত এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও ধর্মীয় উৎসব এখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়। ➤ কিসার টুকরো: মক্কা শরিফ থেকে পাঠানো পবিত্র কাবা শরিফের কিসার (পরর্দায় ব্যবহৃত কাপড়ের) একটি বিশেষ অংশ এখানে সংরক্ষিত আছে। ঐতিহ্য ও অন্যান্য গুরুত্ব ➤ কমপ্লেক্স ও বাজার: মসজিদের নিচতলা এবং এর আশপাশে রয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক এলাকা ‘বায়তুল মোকাররম মার্কেট’, যা বই, টুপি, আতর, জায়নামাজ ও পোশাকের জন্য বিখ্যাত। ➤ লাইব্রেরি ও অফিস: মসজিদ কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয় এবং ইসলাম প্রচারের বিভিন্ন বিভাগ।

🗓️ যাওয়ার সেরা সময়যে কোনো সময়ে।
⏱ কতক্ষণ লাগে১৫-২০ মিনিট। জ্যামের উপর নির্ভর করে।
💰 খরচপ্রবেশ মূল্য নেই

কীভাবে যাবেন

সায়েদাবাদ বাসষ্ট্যান্ড - বাইতুল মোকাররম। ঢাকার যে কোনো প্রান্ত থেকে বাস, সিএনজি এবং লেগুনাতে করে আসা যাবে।

কোথায় থাকবেন

শহরের যে কোনো হোটেলে

কাছে খাবারের ব্যবস্থা

হোটেল, রেঁস্তোরা, ক্যাফে ইত্যাদি রয়েছে

সুবিধা

নিরাপদ পার্কিং, ইন্টারনেট, টয়লেট ইত্যাদি

কাছের দর্শনীয় স্থান

পুরান ঢাকা, ফুটবল জাতীয় স্টেডিয়াম, হকি স্টেডিয়াম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, জাতীয় জাদুঘর ইত্যাদি

নিরাপত্তা পরামর্শ

বিভিন্ন পকেটমার এবং চিনতাইকারীর থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আরও ছবি

বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ২
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৩
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৪
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৫
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৬
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৭
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৮
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ৯
বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ: ছবি ১০

ম্যাপে অবস্থান

পাঠিয়েছেন Sahid Ali Tahmid, চাঁদপুর · ১০/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।

Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →

ঢাকা জেলার আরও লুকানো রত্ন

ঢাকা জেলার ভ্রমণ গাইড: সব দর্শনীয় স্থান →