
চট্টগ্রাম জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · Guliakhali Beach
গুলিয়াখালী সৈকত ভ্রমণ গাইড
সবুজ ঘাসের কার্পেট আর কেওড়া বনের সাথে ব্যতিক্রমী সমুদ্র সৈকত।
এক নজরে
- অবস্থান
- মুরাদপুর ইউনিয়ন, সীতাকুণ্ড
- বৈশিষ্ট্য
- ঘাসের গালিচা, নালা ও কেওড়া বন
- প্রবেশ
- বিনামূল্যে
- সেরা সময়
- ভাটার সময়, শীতকাল
ইতিহাস ও বিস্তারিত
গুলিয়াখালী সৈকত প্রচলিত বালুময় সৈকতের মতো নয়। এখানে সমুদ্রের তীর জুড়ে সবুজ ঘাসের মাঠ, তার মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে জোয়ারের পানির অসংখ্য ছোট নালা। একপাশে উপকূলীয় বন বিভাগের লাগানো কেওড়া বন—যা সৈকতটিকে সুন্দরবনের মতো চেহারা দেয়।
২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সামাজিক মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর জায়গাটি দেশজুড়ে পরিচিত হয়। জোয়ারের সময় ঘাসের মাঠ পানিতে ডুবে যায়, আর ভাটায় আবার সবুজ মাঠ জেগে ওঠে—দিনের দুই সময়ে দুই রকম রূপ দেখা যায়।
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে কাছে হওয়ায় চন্দ্রনাথ পাহাড় বা ইকোপার্ক ঘোরার দিনে বিকেলে গুলিয়াখালীতে সূর্যাস্ত দেখা জনপ্রিয় পরিকল্পনা।
যা যা করবেন
- ভাটার সময় ঘাসের মাঠে হেঁটে ছবি তুলুন
- কেওড়া বনের পাশ দিয়ে হাঁটুন
- সূর্যাস্ত দেখে সন্ধ্যার আগে ফিরুন
গুলিয়াখালী সৈকত কীভাবে যাবেন
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সিএনজিতে প্রায় ৫ কিমি।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম প্রায় ২৫০ কিমি, সময় লাগে ৫–৬ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ/আরামবাগ থেকে গ্রীন লাইন, হানিফ, শ্যামলী, এনা ইত্যাদি; নন-এসি ৬৫০–৮০০৳, এসি ১,১০০–১,৮০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ণ, মহানগর, তূর্ণা নিশীথা; ভাড়া প্রায় ৪০০–১,২০০৳।
- ✈️ বিমানে: বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার; একপথ ৪,০০০–৭,০০০৳, ৪৫ মিনিট।
কোথায় থাকবেন
- র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ (বিলাসবহুল)
- দ্য পেনিনসুলা চিটাগং
- জিইসি মোড় ও আগ্রাবাদে মাঝারি মানের অনেক হোটেল (৳২,০০০–৫,০০০)
কী খাবেন
মেজবানি মাংস, কালাভুনা, শুঁটকি ভর্তা, বেলা বিস্কুট
জেনে রাখুন
- জোয়ার-ভাটার সময় দেখে যান
- কাদায় পা আটকে যেতে পারে—স্যান্ডেল পরুন
- সন্ধ্যার আগে ফিরে আসুন, রাস্তায় আলো কম
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- চন্দ্রনাথ পাহাড় (৫ কিমি)
- সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক (৫ কিমি)
- বাঁশবাড়িয়া সৈকত (৮ কিমি)
চট্টগ্রাম জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত — কর্ণফুলীর মোহনায় শহরের কাছের সমুদ্র সৈকত; সন্ধ্যায় জাহাজের আলো আর সামুদ্রিক খাবারের দোকান।
- ফয়'স লেক — পাহাড়ে ঘেরা কৃত্রিম লেক, বোটিং, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক আর রিসোর্ট।
- চন্দ্রনাথ পাহাড় — সীতাকুণ্ডে প্রায় ১,০০০ ফুট উঁচু পাহাড়চূড়ায় মন্দির; ট্রেকিং ও চারপাশের দৃশ্যের জন্য জনপ্রিয়।
- খৈয়াছড়া ঝর্ণা — মীরসরাইয়ে নয়টি ধাপের বড় ঝর্ণা; বর্ষায় পানি সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মহামায়া লেক — পাহাড়ের মাঝে লেক, কায়াকিং আর লেকের শেষে ছোট ঝর্ণা।
- বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার — পাহাড়ের উপর মাজার, পাশের পুকুরে বিরল বোস্তামী কচ্ছপ দেখা যায়।
- চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি — দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের পরিচ্ছন্ন, শান্ত সমাধিক্ষেত্র।