ট্রিপ প্ল্যান

একদিনে সীতাকুণ্ড ভ্রমণ: চন্দ্রনাথ পাহাড় আর গুলিয়াখালী সৈকত, খরচসহ

রাতের বাস বা ট্রেনে রওনা, ভোরে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়া, দুপুরে সীতাকুণ্ড বাজারে খাওয়া, বিকেলে গুলিয়াখালীর সবুজ ঘাসের সৈকতে সূর্যাস্ত। ঘণ্টা ধরে পুরো দিনের প্ল্যান, যাওয়ার পথ আর খরচ।

Unseen Bangladesh ডেস্ক৪ নভেম্বর ২০২৬ · ৯ মিনিটে পড়া Read in English
একদিনে সীতাকুণ্ড ভ্রমণ: চন্দ্রনাথ পাহাড় আর গুলিয়াখালী সৈকত, খরচসহ
ছবি: Syed Sajidul Islam, CC BY-SA 4.0

ট্রিপ টিকেট

ঢাকা থেকে
প্রায় ২১০–২২০ কিমি, রাতের বাসে ৫–৬ ঘণ্টা
চন্দ্রনাথ পাহাড়
প্রায় ১,০২০ ফুট, ওঠা-নামায় ৪–৫ ঘণ্টা
গুলিয়াখালী সৈকত
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৫ কিমি
খরচ
ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে জনপ্রতি প্রায় ২,০০০–৩,০০০৳
সেরা সময়
অক্টোবর–মার্চ; ভোরে পাহাড়, ভাটায় সৈকত

ঢাকা থেকে রাতের বাসে রওনা দিলে একদিনেই সীতাকুণ্ডের দুই সেরা জায়গা দেখা যায়: ভোরে প্রায় ১,০২০ ফুট উঁচু চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠা (ওঠা-নামায় ৪–৫ ঘণ্টা), আর বিকেলে সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরের গুলিয়াখালী সৈকতে সূর্যাস্ত। নন-এসি বাসে গেলে জনপ্রতি মোট খরচ সাধারণত ২,০০০–৩,০০০৳ এর মধ্যে থাকে, আর ঘোরার সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ।

সীতাকুণ্ড চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিমি উত্তরে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঠিক পাশে। এক পাশে পাহাড়সারি, অন্য পাশে সন্দ্বীপ চ্যানেল। তাই পাহাড় আর সমুদ্র, দুটোই একদিনে সেরে ফেলা যায়। নিচে ঘণ্টা ধরে পুরো দিনের প্ল্যান দেওয়া হলো।

ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড কীভাবে যাবেন

বাসে (সবচেয়ে সহজ)

সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী বা আরামবাগ থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে উঠে সীতাকুণ্ড বাজারে নামুন। রাত ১১টা–১২টার বাস ধরলে ভোর ৫টা–৬টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন, যা চন্দ্রনাথে ওঠার জন্য একদম ঠিক সময়।

বাসআনুমানিক ভাড়া (২০২৬)
নন-এসি৬৫০–৮০০৳ (সাধারণত চট্টগ্রামের ভাড়াই নেয়)
এসি১,১০০–১,৮০০৳

টিকিট কাটার সময়ই বলে দিন যে সীতাকুণ্ডে নামবেন। অনেক এসি বাস পথে থামতে চায় না; নন-এসি বাস এই দিক থেকে বেশি সুবিধাজনক।

ট্রেনে

আমাদের তালিকার আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সীতাকুণ্ডে থামে না। তাই ট্রেনে গেলে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে বাসে উত্তরে ফিরে আসতে হয়। একদিনের ট্যুরের জন্য সবচেয়ে সুবিধার রাতের ট্রেন তূর্ণা:

ট্রেনছাড়েপৌঁছায়ভাড়া (শোভন চেয়ার / স্নিগ্ধা / এসি বার্থ)
তূর্ণা, ঢাকা → চট্টগ্রামরাত ১১:১৫ভোর ৫:১৫৪৫০৳ / ৮৫৭৳ / ১,৫৯১৳
তূর্ণা, চট্টগ্রাম → ঢাকারাত ১১:৩০ভোর ৫:১০একই

চট্টগ্রাম শহরের অলংকার বা এ কে খান মোড় থেকে সীতাকুণ্ডের লোকাল বাস পাওয়া যায়; যেতে সাধারণত এক ঘণ্টার মতো লাগে। ছুটির দিন আর সময় বদলাতে পারে, তাই যাওয়ার আগে আমাদের ট্রেনের সময়সূচি দেখে নিন।

চট্টগ্রাম শহর থেকে

শহরে থাকলে সকালে অলংকার বা এ কে খান থেকে বাসে সীতাকুণ্ড বাজার, তারপর একই প্ল্যান। সন্ধ্যায় একই পথে শহরে ফেরা যায়।

একদিনের প্ল্যান: ঘণ্টা ধরে

  • ভোর ৫–৬টা: সীতাকুণ্ড বাজারে নেমে হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা। পানি আর হালকা শুকনো খাবার কিনে নিন।
  • সকাল ৬:৩০: বাজার থেকে সিএনজিতে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের গোড়া। গোড়ায় বাঁশের লাঠি পাওয়া যায় (২০–৩০৳), নিয়ে নিন।
  • সকাল ৭–৮:৩০: ওঠা। একপথে সাধারণত ১–১.৫ ঘণ্টা লাগে; পথে বিরূপাক্ষ মন্দিরে একটু থামুন।
  • সকাল ৮:৩০–৯:৩০: চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির, এক পাশে সবুজ পাহাড়ের ঢেউ, অন্য পাশে সন্দ্বীপ চ্যানেল।
  • সকাল ১১টা: নেমে আসা, বাজারে ফিরে বিশ্রাম।
  • দুপুর ১২:৩০: সীতাকুণ্ড বাজারে দুপুরের খাবার।
  • বিকেল ৩:৩০: সিএনজিতে গুলিয়াখালী সৈকত (প্রায় ৫ কিমি)।
  • বিকেল ৪–৫:৩০: ঘাসের মাঠ, জোয়ারের নালা আর কেওড়া বনের পাশে হাঁটা, তারপর সূর্যাস্ত। নভেম্বর-ডিসেম্বরে সূর্য ডোবে প্রায় বিকেল ৫টা–সোয়া ৫টায়।
  • সন্ধ্যা ৬টা: অন্ধকার নামার আগেই বাজারে ফেরা, তারপর ঢাকার রাতের বাস বা চট্টগ্রাম হয়ে তূর্ণা।
নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৫০টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।ম্যাপগুলো দেখুন →

চন্দ্রনাথ পাহাড়: যা জানা দরকার

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির
চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দিরছবি: Beylarbey, CC BY-SA 4.0

সীতাকুণ্ডের পাহাড়সারির সবচেয়ে উঁচু চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির। হিন্দুদের কাছে এটি পবিত্র তীর্থস্থান, শক্তিপীঠগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। প্রবেশে কোনো টিকিট লাগে না।

  • উচ্চতা: প্রায় ১,০২০ ফুট।
  • পথ: একদিকে সিঁড়ির পথ, অন্যদিকে মাটির পাহাড়ি পথ। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে উঠে পাহাড়ি পথে নামেন, এতে হাঁটুর ওপর চাপ কম পড়ে।
  • সময়: ওঠা-নামা মিলিয়ে ৪–৫ ঘণ্টা ধরে রাখুন।
  • সাথে রাখুন: কমপক্ষে এক লিটার পানি, ভালো গ্রিপের জুতা বা স্যান্ডেল, ছোট ব্যাগ।
  • ভিড়: প্রতি বছর ফাল্গুনে শিবচতুর্দশী মেলায় লাখো মানুষ পাহাড়ে ওঠেন। শুধু ঘুরতে গেলে মেলার কয়েকটা দিন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

মন্দির এলাকা উপাসনার জায়গা, তাই স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন আর জোরে গান-বাজনা এড়িয়ে চলুন। পাহাড়ের বিস্তারিত আছে আমাদের চন্দ্রনাথ পাহাড় গাইডে।

গুলিয়াখালী সৈকত: যা জানা দরকার

গুলিয়াখালী সৈকতের ঘাসের মাঠ আর জোয়ারের নালা
গুলিয়াখালী সৈকতের ঘাসের মাঠ আর জোয়ারের নালাছবি: Shahidul Hasan Roman, CC BY-SA 4.0

গুলিয়াখালী সাধারণ বালুর সৈকত নয়। সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নে সমুদ্রের তীর জুড়ে সবুজ ঘাসের মাঠ, তার মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে গেছে জোয়ারের পানির অসংখ্য নালা, আর একপাশে কেওড়া বন। প্রবেশ বিনামূল্যে।

  • জোয়ার-ভাটা: জোয়ারে ঘাসের মাঠ পানিতে ডুবে যায়, ভাটায় আবার জেগে ওঠে। সবুজ মাঠ দেখতে চাইলে যাওয়ার আগে চট্টগ্রামের জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নিন।
  • কাদা: নালার পাশে কাদায় পা আটকে যায়। জুতার বদলে স্যান্ডেল পরুন, আর নালা পার হওয়ার সময় সাবধান থাকুন।
  • ফেরা: রাস্তায় আলো কম, তাই সূর্যাস্তের পরপরই ফিরে আসুন।
  • সিএনজি: বাজার থেকে সিএনজি ভাড়া সাধারণত ২০০–৩০০৳। ফেরার জন্য একই সিএনজি অপেক্ষায় রাখলে সন্ধ্যায় গাড়ি খুঁজতে হয় না।

আরও তথ্য আছে গুলিয়াখালী সৈকত গাইডে।

একদিনে সীতাকুণ্ড ভ্রমণ খরচ কত

ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে, ৩–৪ জনের দলে গেলে জনপ্রতি আনুমানিক হিসাব:

খাতজনপ্রতি আনুমানিক খরচ
ঢাকা–সীতাকুণ্ড–ঢাকা বাস (নন-এসি)১,৩০০–১,৬০০৳
সিএনজি (পাহাড়ের গোড়া + গুলিয়াখালী, দলে ভাগ করে)২০০–৪০০৳
নাস্তা, দুপুরের খাবার, পানি৩০০–৫০০৳
বাঁশের লাঠি ও অন্যান্য৫০–১০০৳
মোটপ্রায় ২,০০০–৩,০০০৳

এসি বাসে গেলে মোট খরচ জনপ্রতি প্রায় ৩,০০০–৪,৫০০৳ হতে পারে। একা গেলে সিএনজির পুরো ভাড়া নিজেকেই দিতে হয়, তাই খরচ কিছুটা বাড়ে। নিজের হিসাব মিলিয়ে নিতে আমাদের ট্রিপ প্ল্যানার কাজে লাগবে।

পার্টনার · In2 Travelপাহাড়ে যাচ্ছেন? গায়ে থাকুক পাহাড়পাহাড়ি পথ আর মেঘের ছবি আঁকা ট্রাভেল জার্সি, পাহাড়ের ট্রিপের জন্য বানানো।শপে দেখুন →At the Mountain of MadnessAro Akbar Cholo Fire Jai

হাতে আরেকটা দিন থাকলে

সীতাকুণ্ড থেকে উত্তরে মীরসরাই খুব কাছে। দ্বিতীয় দিনে মহামায়া লেকে কায়াকিং আর খৈয়াছড়া ঝর্ণা ঘুরে আসতে পারেন। রাতে থাকার জন্য সীতাকুণ্ডে সাধারণ মানের হোটেল আছে; ভালো হোটেল চাইলে চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড় বা আগ্রাবাদ (প্রায় ২,০০০–৫,০০০৳)। শীতে আর কোথায় যাওয়া যায়, দেখুন শীতের সেরা ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকায়।

যাওয়ার আগে কয়েকটা টিপস

  • বর্ষায় পাহাড়ের পথ খুব পিচ্ছিল হয়; শীতকালই সবচেয়ে আরামদায়ক।
  • পাহাড়ে প্লাস্টিকের বোতল-প্যাকেট ফেলে আসবেন না, ব্যাগে করে নামিয়ে আনুন।
  • পাহাড়ে বা সৈকতে একা অন্ধকারে থাকবেন না।
  • ফোনে চার্জ রাখুন; চূড়ায় নেটওয়ার্ক কখনো কখনো দুর্বল থাকে।
  • ফেরার বাসের টিকিট, বিশেষ করে বৃহস্পতি-শুক্রবার, আগেই কেটে রাখুন।

প্রশ্নোত্তর

একদিনে সীতাকুণ্ড ভ্রমণ কি সম্ভব?

হ্যাঁ। ঢাকা থেকে রাতের বাসে গিয়ে ভোরে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠে, বিকেলে গুলিয়াখালী সৈকতে সূর্যাস্ত দেখে আবার রাতের বাসে ফেরা যায়। মাঝে কোনো হোটেলের দরকার হয় না।

ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড যাওয়ার উপায় কী?

সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী বা আরামবাগ থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে উঠে সীতাকুণ্ড বাজারে নামুন; নন-এসি ভাড়া প্রায় ৬৫০–৮০০৳, সময় ৫–৬ ঘণ্টা। ট্রেনে গেলে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে বাসে সীতাকুণ্ড ফিরতে হয়।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা কত?

চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ১,০২০ ফুট। চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির, যা সীতাকুণ্ডের পাহাড়সারির সবচেয়ে উঁচু চূড়া।

চন্দ্রনাথ পাহাড়ে উঠতে কত সময় লাগে?

একপথে সাধারণত ১–১.৫ ঘণ্টা, ওঠা-নামা আর চূড়ায় বিশ্রাম মিলিয়ে ৪–৫ ঘণ্টা।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত কোথায় অবস্থিত?

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে, সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে। বাজার থেকে সিএনজিতে যাওয়া যায়।

সীতাকুণ্ড ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

অক্টোবর থেকে মার্চ। এ সময় আবহাওয়া শুকনো আর ঠান্ডা থাকে, পাহাড়ে ওঠা সহজ হয়। গুলিয়াখালীতে ভাটার সময় গেলে সবুজ মাঠ সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।

এই লেখার জায়গাগুলোর পূর্ণ গাইড

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।