
মোহাম্মদপুর থানা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।, ঢাকা · ধর্মীয় স্থান · লুকানো রত্ন
সাত গুম্বজ মসজিদ
📜 সাত গম্বুজ মসজিদ সম্পর্কে ঐতিহাসিক বিবরণ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো: ⇨ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বুড়িগঙ্গার স্মৃতি:- সপ্তদশ শতাব্দীতে (১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে) যখন মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র উমিদ খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন, তখন ঢাকার ভৌগোলিক রূপ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মসজিদটি একটি উঁচু প্ল্যাটফর্ম বা চত্বরের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৮১৪ সালে স্যার চার্লস ডি ওয়াইলির আঁকা একটি ঐতিহাসিক চিত্র থেকে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে এই মসজিদের ঠিক পাশ দিয়েই বুড়িগঙ্গা নদী প্রবাহিত হতো। দূর থেকে এর রাজকীয় অবয়বের কারণে সে আমলে একে অনেকে ‘তাজমহল মসজিদ’ বলেও ডাকতেন। পরবর্তীতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় এটি এখন জনবসতিপূর্ণ শহরের মাঝে আবৃত হয়ে পড়েছে। 🏗️ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিখুঁত স্থাপত্যশৈলী:- মসজিদটির ভেতরের ও বাইরের কাঠামোতে মুঘলদের সুনিপুণ কারুকার্য লক্ষ্য করা যায় ⇨ ছাদ ও গম্বুজ বিন্যাস: মসজিদের ছাদকে মূলত তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। প্রধান প্রার্থনা হলের ঠিক উপরে রয়েছে ৩টি মূল কন্দ বা বাল্বস (Bulbous) আকৃতির প্রধান গম্বুজ। আর চার কোণে থাকা অষ্টভুজাকৃতির মিনারগুলোর মাথায় রয়েছে ছোট ছোট ৪টি অনু-গম্বুজ বা ক্যাভিলিয়ন। এই সুষম বিন্যাসের কারণেই দূর থেকে মসজিদটিকে অনন্য দেখায়। ⇨ প্রবেশপথ ও প্লাস্টার রিলীফ: পূর্ব দেওয়ালে থাকা ৩টি প্রবেশপথের খিলানগুলো বেশ চওড়া এবং নান্দনিকভাবে বাঁকানো। ভেতরের কেন্দ্রীয় মিহরাবটিতে মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী প্লাস্টার রিলীফ বা খোদাই করা নকশার কাজ রয়েছে। ⇨ দেওয়াল ও মেঝের গঠন: মসজিদটির দেওয়ালগুলো বেশ পুরু এবং শক্ত ইটের গাঁথুনি দিয়ে তৈরি, যা গ্রীষ্মকালেও ভেতরের পরিবেশকে শীতল রাখতে সাহায্য করে। 🔻‘বিবির মাজার’ ও পারিপার্শ্বিক স্থাপনা:- মসজিদের মূল প্রাঙ্গণের ঠিক পূর্ব দিকে একটি প্রাচীন সমাধি রয়েছে, যা বিবির মাজার নামে পরিচিত। লোককথা অনুযায়ী, এটি সুবাদার শায়েস্তা খাঁর কোনো এক কন্যার সমাধি (কারো মতে উমিদ খাঁর পরিবারের সদস্য)। এই সমাধিটির গঠন বেশ কৌতুহলী; এর ভেতরের কক্ষটি অষ্টকোণাকার (Octagonal) হলেও বাইরের দেয়ালটি চতুষ্কোণাকার। স্থাপত্যবিদদের মতে, এই সমাধিটির সাথে লালবাগ দুর্গের ভেতরে অবস্থিত ‘পরী বিবির মাজার’-এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল রয়েছে। 🔰 বর্তমান অবস্থা ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব:- বহু বছর ধরে অবহেলায় থাকার পর ব্রিটিশ আমলে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত। মসজিদের সামনে একটি সুন্দর ও সুবিন্যস্ত বাগান রয়েছে, যা ঢাকার ব্যস্ততম মোহাম্মদপুর এলাকার মাঝে এক টুকরো শান্ত ও নির্মল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়।
কীভাবে যাবেন
সায়েদাবাদ - মুহাম্মদপুর আসতে হবে বাসে। মোহাম্মদপুর থেকে মসজিদে যেতে হবে রিক্সায়।
কোথায় থাকবেন
শহরের যে কোনো হোটেলে
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
হোটেল, রেঁস্তোরা, ক্যাফে ইত্যাদি রয়েছে
সুবিধা
নিরাপদ পার্কিং, ইন্টারনেট, টয়লেট ইত্যাদি
কাছের দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর, বুড়িগঙ্গা, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, জুলাই জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, জাতীয় স্টেডিয়াম ইত্যাদি
নিরাপত্তা পরামর্শ
ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পকেটমার ও চিন্তাইকারী থাকতে পারে। তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Sahid Ali Tahmid, চাঁদপুর · ১৭/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →