
টাঙ্গাইল জেলা · ঢাকা বিভাগ · Madhupur National Park
মধুপুর জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ গাইড
বিশাল শালবন; বানর, হরিণ আর গারো-কোচ জনগোষ্ঠীর গ্রাম দেখা যায়।
এক নজরে
- আয়তন
- প্রায় ৮,৪৩৬ হেক্টর
- ঘোষণা
- ১৯৬২ সালে সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যান
- বন
- শালবন (পত্রঝরা)
- জনগোষ্ঠী
- গারো ও কোচ
ইতিহাস ও বিস্তারিত
মধুপুর গড় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল জুড়ে বিস্তৃত একটি উঁচু লালমাটির অঞ্চল, যেখানে দেশের সবচেয়ে বড় শালবন ছিল। ১৯৬২ সালে বনটি সংরক্ষিত হয় এবং পরে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়।
বনে মুখপোড়া হনুমান, বানর, মায়া হরিণ, বনবিড়াল আর প্রায় ১৯০ প্রজাতির পাখি আছে। উদ্যানের ভেতরে লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র আর দোখলায় বন বিভাগের পুরনো রেস্ট হাউস।
শতাব্দী ধরে এখানে গারো ও কোচ জনগোষ্ঠী বসবাস করছে; বনভূমির অধিকার নিয়ে তাদের সাথে বন বিভাগের দ্বন্দ্বের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। মধুপুর এলাকা দেশের সবচেয়ে বড় আনারস উৎপাদন অঞ্চল।
যা যা করবেন
- শালবনের ভেতরের রাস্তায় হাঁটুন বা সাইকেল চালান
- লহরিয়া হরিণ প্রজনন কেন্দ্র দেখুন
- গারো গ্রামে যান (অনুমতি নিয়ে)
- মৌসুমে আনারস বাজার ঘুরুন
মধুপুর জাতীয় উদ্যান কীভাবে যাবেন
টাঙ্গাইল থেকে মধুপুর প্রায় ৫০ কিমি; বাসে গিয়ে রসুলপুর গেট।
ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল প্রায় ৯৮ কিমি, সময় লাগে ২.৫–৩ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: মহাখালী থেকে টাঙ্গাইলগামী বাস (নিরালা, ঝটিকা ইত্যাদি), ভাড়া ২০০–৩০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনে টাঙ্গাইল স্টেশন, ভাড়া ১৫০–৩৫০৳।
কোথায় থাকবেন
- বন বিভাগের রেস্ট হাউস (দোখলা, অনুমতি সাপেক্ষে)
- ধনবাড়ী নবাব মঞ্জিল রিসোর্ট
কী খাবেন
পোড়াবাড়ির চমচম (সবচেয়ে বিখ্যাত), মধুপুরের আনারস
জেনে রাখুন
- মধুপুরের আনারস (জুন-আগস্ট) বিখ্যাত
- গারো গ্রামে গেলে স্থানীয়দের অনুমতি নিয়ে ছবি তুলুন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- ধনবাড়ী নবাব মঞ্জিল (১৫ কিমি)
- দোখলা রেস্ট হাউস (উদ্যানের ভেতরে)
- জলছত্র আনারস বাজার (১০ কিমি)
টাঙ্গাইল জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- মহেড়া জমিদার বাড়ি — সুন্দর রঙিন প্রাসাদ, পুকুর আর বাগান নিয়ে জমিদার বাড়ি; বর্তমানে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার।
- আতিয়া মসজিদ — ১৬০৯ সালে তৈরি সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যের মিশেলে সুন্দর মসজিদ; পুরনো দশ টাকার নোটে ছিল।
- ধনবাড়ী নবাব মঞ্জিল — নবাব নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রাসাদ ও মসজিদ, এখন রিসোর্ট হিসেবে চলে।
- করটিয়া জমিদার বাড়ি — আটিয়ার চাঁদ খ্যাত জমিদারদের বাড়ি, পাশেই ঐতিহ্যবাহী সা'দত কলেজ।