
নোয়াখালী জেলা · চট্টগ্রাম বিভাগ · Nijhum Dwip
নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ গাইড
মেঘনার মোহনায় দ্বীপ; কেওড়া বনে দলবদ্ধ চিত্রা হরিণ আর নির্জন সৈকত।
এক নজরে
- আয়তন
- প্রায় ১৬৩ বর্গকিমি (আশপাশের চরসহ)
- জাতীয় উদ্যান
- ২০০১ সালে ঘোষিত
- হরিণ
- ১৯৭৮ সালে ৪ জোড়া চিত্রা হরিণ ছাড়া হয়
- অবস্থান
- হাতিয়া উপজেলা, মেঘনার মোহনা
ইতিহাস ও বিস্তারিত
নিঝুম দ্বীপ মেঘনার মোহনায় ১৯৪০–৫০-এর দশকে পলি জমে জেগে ওঠা একগুচ্ছ চর নিয়ে গঠিত—বল্লারচর, কামলার চর, চর ওসমান, চর মুরি ইত্যাদি। জেলেরা প্রথমে এখানে বসতি শুরু করেন। ১৯৭০-এর দশকে সাবেক মন্ত্রী আমিরুল ইসলাম কালাম দ্বীপটির নির্জনতা দেখে এর নাম দেন 'নিঝুম দ্বীপ'।
১৯৭০-এর দশকে বন বিভাগ এখানে কেওড়া, গেওয়া ও বাইন গাছের উপকূলীয় বন সৃষ্টি করে। ১৯৭৮ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া চিত্রা হরিণ ছাড়া হয়; অনুকূল পরিবেশে সংখ্যা বেড়ে এখন কয়েক হাজারে দাঁড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ২০০১ সালে দ্বীপটি জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়।
শীতে এখানে সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চল থেকে হাজারো পরিযায়ী পাখি আসে। চৌধুরীর খাল, কবিরাজের চর আর নামার বাজার সৈকত হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক ও আধুনিক সুবিধা সীমিত—এই নির্জনতাই দ্বীপটির আসল আকর্ষণ।
যা যা করবেন
- ভোরে বা বিকেলে নৌকায় চৌধুরীর খালে গিয়ে হরিণের পাল দেখুন
- নামার বাজার সৈকতে সূর্যাস্ত দেখুন
- শীতে কবিরাজের চরে পরিযায়ী পাখি দেখুন
- স্থানীয় জেলেদের সাথে মাছ ধরার দৃশ্য দেখুন
- রাতে তারাভরা আকাশ উপভোগ করুন
নিঝুম দ্বীপ কীভাবে যাবেন
হাতিয়া থেকে মোক্তারিয়া ঘাট পার হয়ে দ্বীপে; বা সদরঘাট থেকে তমরদ্দির লঞ্চ।
ঢাকা থেকে নোয়াখালী প্রায় ১৭০ কিমি, সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: সায়েদাবাদ থেকে একুশে, হিমাচল, সুগন্ধা; ভাড়া ৪০০–৬০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: কমলাপুর থেকে উপকূল এক্সপ্রেস (নোয়াখালী), ভাড়া ২৫০–৫৫০৳।
- 🚢 লঞ্চে: নিঝুম দ্বীপ যেতে সদরঘাট থেকে হাতিয়ার তমরদ্দির লঞ্চ (সারারাত)।
কোথায় থাকবেন
- নিঝুম রিসোর্ট (অবকাশ পর্যটন লিমিটেড)
- নামার বাজারে কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল ও কটেজ (৳১,০০০–৩,০০০)
কী খাবেন
নোয়াখালীর নারিকেলের নাড়ু, মহিষের দই
জেনে রাখুন
- হরিণ দেখতে ভোরে বা সন্ধ্যার আগে চৌধুরীর খাল বা কবিরাজের চরে নৌকায় যান
- সদরঘাট থেকে হাতিয়ার তমরদ্দি ঘাটগামী লঞ্চ সাধারণত বিকেলে ছাড়ে—কেবিন আগে বুক করুন
- দ্বীপে বিদ্যুৎ সীমিত (সোলার/জেনারেটর)—পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন
- এটিএম নেই বললেই চলে—পর্যাপ্ত নগদ টাকা নিন
- বর্ষায় (জুন–সেপ্টেম্বর) মেঘনা উত্তাল থাকে—এ সময় যাত্রা এড়িয়ে চলুন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- চৌধুরীর খাল ও কবিরাজের চর (নৌকায়)
- কমলার দ্বীপ
- হাতিয়ার মোক্তারিয়া ঘাট
- হাতিয়া দ্বীপের কমলার দিঘি
নোয়াখালী জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- গান্ধী আশ্রম — ১৯৪৬ সালে মহাত্মা গান্ধীর সফরের স্মৃতিতে আশ্রম ও জাদুঘর।
- বজরা শাহী মসজিদ — ১৭৪১ সালের মুঘল আমলের তিন গম্বুজ মসজিদ।