গুচ্ছগ্রাম, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী
ছবি: RAFIKUL ISLAM, নোয়াখালী

কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী · নদী, সৈকত বা লেক · লুকানো রত্ন

গুচ্ছগ্রাম

নোয়াখালী জেলার একটি ভাইরাল পর্যটন কেন্দ্র হলো গুচ্ছগ্রাম সমুদ্র সৈকত, যা জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নে অবস্থিত। বর্তমানে এটি পর্যটকদের মধ্যে বেশ সমাদৃত এবং অন্যতম জনপ্রিয়। গুচ্ছগ্রাম সমুদ্র সৈকতের বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: এখানকার শান্ত পরিবেশ, চারপাশের খেজুর বাগান এবং ঐতিহ্যবাহী নৌকা ভ্রমণ পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। সকাল ও সন্ধ্যায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগের সুযোগ। এছাড়াও নারিকেল বাগান সেন্টমার্টিন দ্বীপের কথা মনে করিয়ে দিবে, যা আপনার মনকে মুহূর্তই রাঙিয়ে দিতে বাধ্য। ২. ট্র্যাভেল ও জেটিঘাট: উরির চর দ্বীপে যাতায়াত সহজ করার জন্য এখানে একটি জেটি বা ঘাট তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে নৌকা ও স্পিডবোটে ভ্রমণ করা যায়। ৩. রেস্তোরাঁ ও কটেজ: দর্শনার্থীদের বসার ও খাওয়ার জন্য এখানে ছোট ছোট রেস্তোরাঁ কটেজ গড়ে উঠেছে। খাবারের মধ্যে অন্যতম কাঁকড়া ফ্রাই, খাসি ভুনা, গরুর পায়া, ইলিশ ভাজা ও স্থানীয় ফাস্টফুড আইটেম। ৪. ক্যাম্পিং: রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এখানে Coco Beach Campsite & Camping নামে অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে এদের উদ্যোগে চন্দ্রালোকিত রাতে তাঁবু টাঙিয়ে ক্যাম্পিংয়েরও ব্যাবস্থা রয়েছে। ৫. সামাজিক উন্নয়ন: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), নোয়াখালীর মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প কাজ করছে।

🗓️ যাওয়ার সেরা সময়সব সময় এটি উপভোগ করা যায়, তবে সেপ্টেম্বর-জানুয়ারি ভ্রমণ করা ভালো। তাহলে শরতের মেঘের খেলা এবং শীতের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
⏱ কতক্ষণ লাগেবসুরহাট থেকে ১ ঘণ্টা এবং জেলা শহর থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।
💰 খরচপ্রাকৃতিক পরিবেশ হওয়ায় কোনো প্রবেশ মূল্য নেই।

কীভাবে যাবেন

১। ঢাকা থেকে : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জগামী স্টার লাইন অথবা ড্রিম লাইন বাসে করে বসুরহাট নামবেন। তারপর বসুরহাট থেকে বাংলা বাজারের সিএনজি নিবেন, ভাড়া ৪০ টাকা। এরপর বাংলা বাজার থেকে সরাসরি গুচ্ছগ্রামের সিএনজি পাওয়া যায়, ভাড়া ৫০ টাকা। এছাড়া রিকশা দিয়েও যাওয়া যায়। ২। জেলা শহর মাইজদী থেকে: মাইজদী থেকে বসুরহাটের সিএনজি নিয়ে বসুরহাট আসবেন, ভাড়া ১০০ টাকা। এরপর সিএনজি দিয়ে গুচ্ছগ্রাম যেতে পারবেন। এছাড়া মাইজদী থেকে সোনাপুর নেমে সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকেও সিএনজি রিজার্ভ করে আসা যায়, সেক্ষেত্রে জনপ্রতি ভাড়া ১২০ টাকা পড়বে।

কোথায় থাকবেন

গুচ্ছগ্রামেই Coco Beach Campsite and Cottage নামে একটি কটেজ রয়েছে। এটি উন্মুক্ত পরিবেশে হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।জনপ্রতি ১০০০ টাকা (২বেলা নাস্তা+২বেলা খাবার) দিয়ে এখানে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও ৮০০ টাকা ফির বিনিময়ে ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে শীতকালে ক্যাম্পিং জনপ্রিয়।

কাছে খাবারের ব্যবস্থা

কটেজে থাকলে তারা সরবরাহ করবে। তবে দর্শনার্থীদের জন্য সেখানে হোটেল রয়েছে যেখানে নদীর তাজা মাছ, কাঁকড়া, ভেড়ার মাংস, স্থানীয় সকল খাবার ও বিভিন্ন ধরণের ভর্তা পাওয়া যায়।

সুবিধা

স্থানীয় বাড়ীতে পার্কিংয়ের ব্যাবস্থা রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও উন্নত।

কাছের দর্শনীয় স্থান

মুছাপুর ক্লোজার (৩ কিমি)

নিরাপত্তা পরামর্শ

বর্ষায় পথ পিচ্ছিল থাকে তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাস্তা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও ছবি

গুচ্ছগ্রাম: ছবি ২
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৩
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৪
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৫
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৬
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৭
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৮
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ৯
গুচ্ছগ্রাম: ছবি ১০

ম্যাপে অবস্থান

পাঠিয়েছেন RAFIKUL ISLAM, নোয়াখালী · ১৩/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।

Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →

নোয়াখালী জেলার আরও লুকানো রত্ন

নোয়াখালী জেলার ভ্রমণ গাইড: সব দর্শনীয় স্থান →