
মেহেরপুর জেলা · খুলনা বিভাগ · Mujibnagar
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ভ্রমণ গাইড
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ প্রথম সরকারের শপথস্থল; আম্রকানন, স্মৃতিসৌধ ও মুক্তিযুদ্ধের মানচিত্র কমপ্লেক্স।
এক নজরে
- ঐতিহাসিক দিন
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
- আগের নাম
- বৈদ্যনাথতলা (ভবেরপাড়া)
- স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন
- ১৯৮৭ সাল
- অবস্থান
- মেহেরপুর শহর থেকে ১৭ কিমি
ইতিহাস ও বিস্তারিত
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার (প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার) ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে শপথ গ্রহণ করে। সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয় এবং জায়গাটির নাম দেওয়া হয় 'মুজিবনগর'। সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন কারাবন্দী শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
শপথের স্থানে ১৯৮৭ সালে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়; এর ২৩টি ত্রিভুজাকৃতি দেয়াল ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩ বছরের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক। পরে এখানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়, যেখানে বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর আর ভাস্কর্যে শপথ অনুষ্ঠান, গণহত্যা ও আত্মসমর্পণের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
শপথস্থলের প্রাচীন আমগাছগুলো আজও দাঁড়িয়ে আছে; প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুজিবনগর দিবস পালিত হয়।
যা যা করবেন
- স্মৃতিসৌধ ও ঐতিহাসিক আম্রকানন ঘুরুন
- মানচিত্রে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলো দেখুন
- মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য গ্যালারি দেখুন
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কীভাবে যাবেন
মেহেরপুর শহর থেকে প্রায় ১৭ কিমি।
ঢাকা থেকে মেহেরপুর প্রায় ২৮০ কিমি, সময় লাগে ৬ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: গাবতলী থেকে মেহেরপুরের বাস (জে আর, শ্যামলী, রয়েল), ভাড়া ৬০০–৮০০৳।
কোথায় থাকবেন
- মুজিবনগরে পর্যটন মোটেল
কী খাবেন
মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি, আম
জেনে রাখুন
- ঐতিহাসিক আম্রকাননে প্রাচীন আমগাছগুলো দেখুন
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- আমঝুপি নীলকুঠি (১৫ কিমি)
- মেহেরপুর শহর (১৭ কিমি)
- ভারত সীমান্ত (কাছে)
মেহেরপুর জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- আমঝুপি নীলকুঠি — ইংরেজ নীলকরদের কুঠি; ইতিহাসে পলাশীর ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত লোককথা।