যশোর জেলা · খুলনা বিভাগ · Godkhali
গদখালী ফুলের গ্রাম ভ্রমণ গাইড
মাঠের পর মাঠ গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা; দেশের ফুলের রাজধানী।
এক নজরে
- শুরু
- ১৯৮২ সাল (রজনীগন্ধা চাষ)
- অবস্থান
- ঝিকরগাছা, যশোর-বেনাপোল সড়ক
- চাষ
- গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, গাঁদা
- সেরা সময়
- ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি
ইতিহাস ও বিস্তারিত
১৯৮২ সালে ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামের কৃষক শের আলী সরদার ভারত থেকে রজনীগন্ধার বীজ এনে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু করেন। লাভ দেখে আশপাশের কৃষকরাও ফুল চাষে ঝুঁকে পড়েন।
এখন গদখালী, পানিসারা, হাড়িয়া ও আশপাশের গ্রামে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়, আর হাজারো পরিবার এর সাথে যুক্ত। দেশের ফুলের চাহিদার বড় অংশ এখান থেকে যায়, তাই গদখালীকে 'ফুলের রাজধানী' বলা হয়। প্রতিদিন ভোরে গদখালী বাজারে ফুলের পাইকারি হাট বসে।
বসন্ত, ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও বিজয় দিবসের আগে এখানকার ফুলের বাজার সবচেয়ে জমজমাট থাকে; তখন মাঠগুলো রঙে ভরে যায় আর পর্যটক ও ফটোগ্রাফাররা আসেন।
যা যা করবেন
- ভোরে গদখালী ফুলের পাইকারি বাজার দেখুন
- ফুলের মাঠে ছবি তুলুন (চাষির অনুমতি নিয়ে)
- টিস্যু কালচার ও নার্সারি ঘুরে দেখুন
গদখালী ফুলের গ্রাম কীভাবে যাবেন
ঝিকরগাছায়, যশোর-বেনাপোল সড়কে; বাস/অটোতে।
ঢাকা থেকে যশোর প্রায় ১৯০ কিমি, সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: গাবতলী থেকে গ্রীন লাইন, ঈগল, সোহাগ, হানিফ; নন-এসি ৫৫০–৭৫০৳, এসি ১,০০০–১,৫০০৳।
- 🚆 ট্রেনে: পদ্মা সেতু রেলপথে বেনাপোল এক্সপ্রেস, ভাড়া ৪০০–১,০০০৳।
- ✈️ বিমানে: বিমান, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার; একপথ ৩,৫০০–৫,৫০০৳।
কোথায় থাকবেন
- হোটেল সিটি প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল
- হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল
- শহরে মাঝারি মানের হোটেল
কী খাবেন
খেজুরের গুড় ও পাটালি (শীতে), জামতলার রসগোল্লা
জেনে রাখুন
- ভোরে গদখালী ফুলের পাইকারি বাজার দেখুন
- ফুল ছিঁড়বেন না—চাষিদের জীবিকা
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- বেনাপোল স্থলবন্দর (২০ কিমি)
- যশোর শহর (১৮ কিমি)
- চাঁচড়া শিবমন্দির (যশোর শহরে)
যশোর জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- সাগরদাঁড়ি (মধুসূদনের বাড়ি) — মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটা, কপোতাক্ষ নদ আর জাদুঘর।
- বেনাপোল স্থলবন্দর — ভারতের সাথে সবচেয়ে ব্যস্ত সীমান্ত পথ।
- চাঁচড়া রাজবাড়ি ও শিবমন্দির — আঠারো শতকের জোড়বাংলা রীতির শিবমন্দির।