
কটিয়াদি, কিশোরগঞ্জ · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
অস্কার জয়ী সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটা
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে অবস্থিত মসূয়া জমিদারবাড়ি সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটা হিসেবে পরিচিত। এটি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্থান। প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও চিত্রকর উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং তাঁর পুত্র সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পারিবারিক শিকড়ও এই বাড়ির সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে সুকুমার রায়ের সন্তান সত্যজিৎ রায় বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং ১৯৯২ সালে সম্মানসূচক অস্কার লাভ করেন। বর্তমানে জমিদারবাড়ির পুরোনো স্থাপনার কিছু অংশ, পূজামণ্ডপের ধ্বংসাবশেষ, পুকুর, ঘাট ও ঐতিহাসিক পরিবেশ দেখা যায়। স্থাপনাটি বর্তমানে জরাজীর্ণ হওয়ায় এখানে ভ্রমণের মূল আকর্ষণ হলো রায় পরিবারের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও এই স্থানের সঙ্গে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির সম্পর্ক অনুভব করা। ইতিহাস, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও পুরোনো স্থাপত্যে আগ্রহীদের জন্য এটি একটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মসূয়া যাওয়ার একাধিক রুট রয়েছে। ১. যাত্রাবাড়ী/সায়দাবাদ/গোলাপবাগ → নরসিংদী → বটতলা → কটিয়াদী → কিশোরগঞ্জ রুট: এই পথে বাসে এসে কটিয়াদীর আগেই যাত্রাঘাট বাজারে নামা যায়। যাত্রাঘাট থেকে অটোরিকশা/সিএনজি নিয়ে প্রায় ৫ মিনিটে মসূয়া বাজারে পৌঁছানো যায়। মসূয়া বাজার থেকে স্থানীয়ভাবে জেনে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায় যাওয়া যায়। মসূয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি নামার সুবিধার কারণে এটি একটি সহজ ও সময়-সাশ্রয়ী রুট। ২. যাত্রাবাড়ী/সায়দাবাদ/গোলাপবাগ → ভৈরব → কটিয়াদী → কিশোরগঞ্জ রুট: এই পথে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে নেমে অটোরিকশা বা সিএনজি নিয়ে মসূয়া বাজারে যেতে হয়। কটিয়াদী থেকে মসূয়া বাজার প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং স্থানীয় যানবাহনে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগতে পারে। ৩. মহাখালী → গাজীপুর → কটিয়াদী রুট: মহাখালী থেকে গাজীপুর হয়ে কটিয়াদীর দিকে আসা যায়। এই রুটে যাত্রাঘাটে নেমে অটোরিকশা/সিএনজি নিয়ে মসূয়া বাজারে যাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও সময় সাশ্রয়ী। যাত্রাঘাট থেকে মসূয়া বাজার প্রায় ৫ মিনিটের পথ। ঢাকা থেকে কটিয়াদী পর্যন্ত সড়কপথে সাধারণত প্রায় ২.৫–৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে, তবে যানজট ও বাসের রুট অনুযায়ী সময় কম-বেশি হতে পারে। মসূয়া বাজার থেকে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটায় স্থানীয় অটোরিকশা/রিকশা বা অন্যান্য স্থানীয় যানবাহনে যাওয়া যায়। ভ্রমণের আগে বাসের গন্তব্য ও যাত্রাঘাটে নামার সুবিধা চালক/হেলপারের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
কোথায় থাকবেন
দিনভ্রমণে ঢাকা থেকে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। রাত কাটাতে হলে কটিয়াদী বা কিশোরগঞ্জ শহরের আবাসিক হোটেল ব্যবহার করা যেতে পারে। মসূয়ার সরকারি অতিথিশালা থাকলেও ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেটি কার্যত ব্যবহার না হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাই সেখানে থাকার ওপর নির্ভর না করাই ভালো।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
কটিয়াদী বাজারে সাধারণ মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। মসূয়া গ্রামের ভেতরে খাবারের দোকান সীমিত হতে পারে, তাই প্রয়োজন হলে কটিয়াদী বাজার থেকে খাবার ও পানি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ভালো।
সুবিধা
কটিয়াদী বাজারে প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা পাওয়া যায়। মসূয়া ঐতিহাসিক স্থানে পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুবিধা সীমিত। মোবাইল নেটওয়ার্ক সাধারণত পাওয়া যায়, তবে নির্দিষ্ট স্থানে নেটওয়ার্কের মান ভিন্ন হতে পারে।
কাছের দর্শনীয় স্থান
বাড়ির সামনেই আছে লাল শাপলার বিল। তাছাড়া কটিয়াদী বাজার ও কটিয়াদী উপজেলা (কাছাকাছি), কিশোরগঞ্জ শহর, শোলাকিয়া ঈদগাহ, পাগলা মসজিদ, জঙ্গলবাড়ী ও নিকলী হাওর।
নিরাপত্তা পরামর্শ
পুরোনো ভবনের কিছু অংশ জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ভেতরে বা দুর্বল দেয়াল ও ছাদের কাছে প্রবেশ না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। বর্ষাকালে কাদা ও রাস্তার অবস্থা বিবেচনা করুন। স্থানীয়দের নির্দেশনা মেনে চলুন এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার কোনো অংশে হাত দেওয়া, লেখা বা ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন।
🏚️ মসূয়া জমিদারবাড়িতে আসলে কী আছে?
ঐতিহাসিক বাড়িটির মূল কমপ্লেক্সটি একসময় অনেক বড় ছিল। একটি গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে পুরো আবাসিক কমপ্লেক্সের আয়তন প্রায় ৪.৩ একর বলা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল— দোতলা আবাসিক ভবন পূজামণ্ডপ রান্নাঘর কাচারিবাড়ি পুকুর ও ঘাট বাড়ির বিভিন্ন অংশের আঙিনা বর্তমানে এগুলোর অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। � TBS News 🛕 পূজামণ্ডপ বাড়ির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল পুরোনো পূজামণ্ডপ। বর্তমানে এটিই স্থাপত্যের দৃশ্যমান অবশিষ্টাংশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। 🏛️ পুরোনো আবাসিক ভবন দোতলা মূল ভবনের অনেক অংশ এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। পুরোনো সিঁড়ি ও স্থাপত্যের কিছু অংশ এখনও দেখা যায়। � TBS News 🌊 পুকুর ও ঘাট রায় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক পুকুরও রয়েছে। পরিবারের হাতির গোসলের জন্য ব্যবহৃত একটি বড় পুকুরের উল্লেখ পাওয়া যায়; এটিকে স্থানীয়ভাবে ‘হাতির পুকুর’ বলা হয়। � Prothom Alo 🏢 কাচারিবাড়ি মূল বাড়ির পাশে থাকা কাচ
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন আব্দুল্লাহ হিল অনির, কিশোরগঞ্জ · ০৬/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →