
কিশোরগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ · ধর্মীয় স্থান · লুকানো রত্ন
শহীদী মসজিদ
শহীদী মসজিদ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরান থানা এলাকায় অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা [১]। এই মসজিদটি একই সাথে মুসলিমদের আত্মত্যাগ এবং স্থাপত্য সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন [১]। মসজিদটির বিস্তারিত ইতিহাস, স্থাপত্য ও চারপাশের পরিবেশ নিচে তুলে ধরা হলো: 📜 ১৯৪২ সালের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও নামকরণ • সংস্কারের সূচনা: মসজিদটির আদি প্রতিষ্ঠার সঠিক সময় জানা না গেলেও, ১৯৩৮ সালে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আতাহার আলী (রহ.) কিশোরগঞ্জে এসে এই মসজিদের ইমামতি ও সংস্কারের দায়িত্ব নেন। • ১৯৪২ সালের সংঘর্ষ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪২ সালের ২৪ অক্টোবর (বাংলা ৮ কার্তিক ১৩৪৯) মসজিদের সামনে দিয়ে একটি দুর্গাপূজার ভাসান (বিসর্জন)-এর মিছিল যাচ্ছিল। বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ নিয়ে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ব্রিটিশ পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে। • নামকরণ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্রিটিশ পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদের ভেতরে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন মুসল্লি নিহত (শহিদ) হন। মসজিদের দেওয়ালে ও খুঁটিতে সেই বুলেটের দাগ দীর্ঘদিন সংরক্ষিত ছিল। এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের পর থেকেই মসজিদটির নাম রাখা হয় 'শহীদী মসজিদ' [১]। 🏛️ স্থাপত্য শৈলী ও বৈশিষ্ট্য • তিনতলা ভবন: মসজিদটি আধুনিক নকশায় নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন তিনতলা কাঠামো। এর মেঝে ও দেওয়ালে সুন্দর টাইলসের কাজ রয়েছে। • ব্যতিক্রমী বারান্দা: সাধারণত আমাদের দেশের বেশিরভাগ মসজিদের বারান্দা পূর্ব দিকে থাকে। তবে শহীদী মসজিদের প্রধান ও বিশাল বারান্দাটি দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। • পাঁচতলা উচ্চতার মিনার: ১৯৫৭ সালে মাওলানা আতাহার আলী (রহ.) মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি সুউচ্চ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মিনারটি পাঁচতলা ভবনের সমান উঁচু। • বহুমাত্রিক ব্যবহার: এই মিনারের বিভিন্ন তলায় শুধুমাত্র আজান দেওয়ার জায়গা নয়, বরং ইসলামিক গণপাঠাগার (লাইব্রেরি) এবং মসজিদের অন্যান্য দাপ্তরিক কাজের কক্ষ করা হয়েছে। • ধারণক্ষমতা: মসজিদটিতে একসাথে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। 🏫 সংলগ্ন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানসমূহ শহীদী মসজিদকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে একটি বিশাল ইসলামী শিক্ষা বলয় গড়ে উঠেছে: • আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া: ১৯৪৫ সালে মাওলানা আতাহার আলী (রহ.) মসজিদের পশ্চিম পাশেই এই বিখ্যাত কওমি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। • এতিমখানা ও সমাজকল্যাণ: মসজিদের অধীনে একটি বড় এতিমখানা পরিচালিত হয়, যেখানে কয়েকশত সুবিধাবঞ্চিত শিশু বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনার সুযোগ পায়।
কীভাবে যাবেন
অবস্থান ও যাতায়াত • ঠিকানা: স্টেশন রোড, পুরান থানা বাজার, কিশোরগঞ্জ পৌরসভা [১]। • নিকটবর্তী স্থান: এটি কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের খুব কাছে এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ঈদগাহ শোলাকিয়া ইদগাহ ময়দান থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।
কোথায় থাকবেন
হোটেল বা রিসোর্ট
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
সবকিছু পাওয়া যাবে
সুবিধা
সব আছে
কাছের দর্শনীয় স্থান
শোলাকিয়া ঈদগাহ, পাগলা মসজিদ, ঈশাখার বাড়ি
আরও ছবি







ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন মো: মাহমুদুল হাসান সাগর, কিশোরগঞ্জ · ০৭/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →