
মীরসরাই উপজেলার সোনাপাহাড়।, চট্টগ্রাম · ঝর্ণা · লুকানো রত্ন
মেলখুম ট্রেইল
বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী ট্র্যাকারদের কাছে অন্যতম রোমাঞ্চকর ও রহস্যময় এক গিরিপথ হলো চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত মেলখুম ট্রেইল। এর নামকরণের পেছনে একটি মজার ইতিহাস রয়েছে—স্থানীয় ভাষায় 'মেল' হলো একধরনের লতা, যা একসময় মাছের চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অতীতে স্থানীয় লোকজন এই লতার রস খুম বা কূপের পানিতে মিশিয়ে মাছ শিকার করত, আর এ থেকেই জায়গাটির নাম হয় মেলকুম বা মেলখুম। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই ট্রেইলটির বয়স শত শত বছরের পুরনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেকিং ও হাইকিংয়ের জন্য এটি বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশ, আলো-ছায়ার খেলা এবং রোমাঞ্চকর জলপথের জন্য এটি অত্যন্ত বিখ্যাত। মেলখুমের প্রবেশমুখে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ফুট উঁচু দুটি খাড়া পাহাড় একে অপরের খুব কাছাকাছি আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে আছে। এর মাঝখানের সরু পথটি দিয়ে চলার সময় মনে হবে আপনি কোনো ভূগর্ভস্থ গুহায় প্রবেশ করেছেন। সংকীর্ণ এই গিরিখাতের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো খুব একটা প্রবেশ করতে পারে না, ফলে দিনের বেলাতেও সেখানে এক ধরনের গা ছমছমে অন্ধকার ও শীতল পরিবেশ বিরাজ করে। ছড়ার হাঁটুপানি থেকে শুরু করে বুকসমান ঠান্ডা পানিতে হেঁটে বা সাঁতরে এই ট্রেইল পার হতে হয়। পাহাড়ের গা বেয়ে টুপটাপ ঝরে পড়া পানির ফোঁটা, মাথার ওপরে সরু আকাশের রেখা এবং চারপাশের নিস্তব্ধতা ভ্রমণকারীদের মনে এক রোমাঞ্চকর শিহরণ জাগায়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম বা মীরসরাইগামী (বা সীতাকুণ্ড/বড়তাকিয়া) বাসে চড়ে সরাসরি মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড় বাজার বা নাহার এগ্রো এর সামনে নামতে হবে (নন-এসি বাসে ভাড়া প্রায় ৫০০-৭০০ টাকা)। সেখান থেকে পূর্ব দিকে হেঁটে রেললাইন পার হয়ে মাটির রাস্তা ও পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে স্থানীয় গাইডের সহায়তায় পায়ে হেঁটে মেলখুম ট্রেইলে পৌঁছাতে হয় (স্থানীয় যাতায়াত ও গাইড খরচ বাবদ ৩০০-৫০০ টাকা রাখতে পারেন)।
কোথায় থাকবেন
সাধারণত একদিনের (Day Tour) ট্রিপ হিসেবে এটি ঘুরে দেখা হয়। রাতে থাকতে চাইলে মীরসরাই সদর, সীতাকুণ্ড কিংবা সরাসরি চট্টগ্রাম শহর বা ফেনী জেলা সদরে ফিরে গিয়ে ভালো মানের আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতে হবে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
ট্র্যাকিংয়ে যাওয়ার আগেই সোনাপাহাড় বাজার বা বারৈয়ারহাট থেকে হালকা শুকনো খাবার, পানি ও দুপুরের খাবার সাথে নিয়ে নেওয়া ভালো। ট্র্যাকিং শেষে মীরসরাই বাজার বা সোনাপাহাড় বাজারের স্থানীয় লোকালে সাধারণ মানের খাবার হোটেল পেয়ে যাবেন।
কাছের দর্শনীয় স্থান
খৈয়াছড়া ঝরনা: দূরত্ব প্রায় ১৫-১৮ কিলোমিটারের মতো। কমদহ ঝরনা ও নাপিত্তাছড়া ট্রেইল: এখান থেকে সড়কপথে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার।
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Anamul Hoque Rasel, ভোলা · ২১/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →