
সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম · ঝর্ণা · লুকানো রত্ন
সহস্রধারা ঝর্ণা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের পাহাড়ি অরণ্যের মাঝে অবস্থিত এক অপার প্রাকৃতিক বিস্ময় হলো ‘সহস্রধারা ঝর্ণা’। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শত শত বছরের প্রাচীন এই পাহাড়ি ঝর্ণাটি এর সুউচ্চ খাড়া পাহাড় থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে আছড়ে পড়া জলধারার জন্য বিখ্যাত। মূল ইকোপার্কের ভেতরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অংশ হওয়ায় কোনো মানবনির্মিত প্রাচীন স্থাপত্য না থাকলেও এর চারপাশের চিরসবুজ বনাঞ্চল ও পাহাড়ি প্রতিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের সবসময় আকর্ষিত করে। পাহাড়ি প্রাকৃতিক পরিবেশ, রিফ্রেশিং ঝিরিপথ এবং ঝর্ণার জলধারার গর্জন উপভোগ করার জন্য অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি দেশের অন্যতম সমাদৃত এক ট্রাভেল স্পট। এখানে গেলে দর্শনার্থীরা পার্কের মূল সড়ক থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার পথে চারিদিকের বুকজোড়া সবুজ পাহাড়ি ভিউ দেখতে পাবেন। সিঁড়ির ধাপগুলো পার হয়ে ঝর্ণার মূল পয়েন্টে পৌঁছালে উঁচু পাহাড়ের খাঁজ বেয়ে অবিরত নেমে আসা ধবল পানির ফোয়ারা চোখে পড়বে। ঝর্ণার নিচে জমে থাকা পাথুরে জলপ্রপাতে গা ভাসিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা পথ চলার সব ক্লান্তি এক মুহূর্তেই দূর করে দেয়। বর্ষাকালে এর পানির প্রবাহ কয়েকগুণ বেড়ে রূপ নেয় এক হিংস্র সৌন্দর্যে। ঝর্ণার পাশাপাশি পার্কের চারপাশের পাহাড়ি লেক, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং নানা প্রজাতির বিরল গাছগাছালির ছায়াঘেরা নির্জন পরিবেশ যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা বা চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে বাস বা ট্রেনে সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড বা বাজারে পৌঁছানো যায় (চট্টগ্রাম শহর থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে ভাড়া আনুমানিক ৮০-১২০ টাকা)। সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের মূল ফটক। গেট থেকে ইকোপার্কের ভেতরে প্রবেশের টিকিট (জনপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা) কেটে সিএনজি রিভার্স নিয়ে কিংবা হে হেঁটে পাহাড়ি পথ ধরে সরাসরি সহস্রধারা ঝর্ণার সিঁড়ির মুখে পৌঁছানো যায় (ইকোপার্ক গেট থেকে সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া ২০০-৩০০ টাকার মতো নিতে পারে)।
কোথায় থাকবেন
ঝর্ণা বা ইকোপার্কের ভেতরে স্থায়ীভাবে থাকার আধুনিক সুব্যবস্থা নেই। রাত্রিযাপনের জন্য সীতাকুণ্ড বাজারে বেশ কয়েকটি বাজেট ক্যাটাগরির আবাসিক হোটেল রয়েছে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
ইকোপার্কের গেটে ও ভেতরের পার্কিং এলাকায় ছোটখাটো কিছু দোকান রয়েছে যেখানে হালকা নাস্তা, পানি ও ডাব পাওয়া যায়। তবে দুপুরের বা রাতের মানসম্মত দেশীয় ভারি খাবারের জন্য সীতাকুণ্ড বাজার সংলগ্ন হোটেলগুলোতে (যেমন—আল-আমিন বা সৌদিয়া হোটেল) ফিরে আসতে হবে।
কাছের দর্শনীয় স্থান
সুপ্তধারা ঝর্ণা,চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দির , গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, মহামায়া লেক।
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Anamul Hoque Rasel, ভোলা · ২৫/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →