ট্রিপ প্ল্যান

সিলেট ২ দিনের ট্যুর প্ল্যান ও খরচ: জাফলং, লালাখাল, রাতারগুল ও সাদা পাথর

দুই দিনে সিলেটের কোন কোন জায়গা দেখা সম্ভব, কোন রাস্তায় কোন জায়গা পড়ে, ট্রেনে কখন যাবেন, সিএনজি-লেগুনার ভাড়া কত, আর শীতে কোন জায়গা সবচেয়ে সুন্দর: পরিবার, বন্ধু বা দম্পতির জন্য এক প্ল্যান।

Unseen Bangladesh ডেস্ক২৯ অক্টোবর ২০২৬ · ৭ মিনিটে পড়া English
সিলেট ২ দিনের ট্যুর প্ল্যান ও খরচ: জাফলং, লালাখাল, রাতারগুল ও সাদা পাথর
ছবি: Fahadzyl, CC BY-SA 4.0

ট্রিপ টিকেট

ঢাকা থেকে
প্রায় ২৪০ কিমি; ট্রেনে ৬.৫–৭.৫ ঘণ্টা, বাসে ৫–৬
ট্রেন ভাড়া
শোভন চেয়ার ৪১০৳, স্নিগ্ধা ৭৮৮৳
কত দিন
২ দিন, ১–২ রাত
খরচ
জনপ্রতি ৩,৫০০–৬,০০০৳ (২ দিন)
শীতে
জাফলং আর লালাখালের পানি সবচেয়ে স্বচ্ছ সবুজ

সিলেটের দর্শনীয় জায়গাগুলো শহরের চারদিকে ছড়িয়ে আছে, আর একেকটা দুই-তিন ঘণ্টার পথ। তাই দুই দিনে সব দেখার চেষ্টা না করে একই রাস্তায় পড়ে এমন জায়গাগুলো এক দিনে রাখুন। এই প্ল্যানে প্রথম দিন তামাবিল রোডে জাফলং আর লালাখাল, দ্বিতীয় দিন কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাটের দিকে সাদা পাথর বা রাতারগুল, আর বিকেলে শহর।

সিলেটের সব জায়গার পরিচিতি পাবেন আমাদের সিলেট ভ্রমণ গাইডে।

ঢাকা থেকে সিলেট

ট্রেনকমলাপুর ছাড়েসিলেট পৌঁছায়
পারাবত এক্সপ্রেসসকাল ৬:৩০দুপুর ১:০০
জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসসকাল ১১:১৫সন্ধ্যা ৭:০০
কালনী এক্সপ্রেসদুপুর ২:৫৫রাত ৯:৩০
উপবন এক্সপ্রেসরাত ১০:০০ভোর ৫:০০

ভাড়া শোভন চেয়ার ৪১০৳, স্নিগ্ধা ৭৮৮৳, এসি সিট ৯৪৩৳; উপবনে এসি বার্থ ১,৪৬৫৳। দুই দিনের ট্রিপে রাতের উপবন সবচেয়ে কাজের, ভোরে পৌঁছে পুরো দিন পাওয়া যায়। সব ট্রেন দেখুন ট্রেনের সময়সূচিতে। বাসে (এনা, শ্যামলী, হানিফ, গ্রীন লাইন) ৫–৬ ঘণ্টা, নন-এসি ৭০০–৯০০৳, এসি ১,২০০–১,৮০০৳।

দিন ১: জাফলং আর লালাখাল (তামাবিল রোড)

সকাল ৭টা: সিএনজি বা লেগুনা ঠিক করুন

সিলেট শহরের আম্বরখানা বা শিশুপার্কের কাছ থেকে জাফলংয়ের সিএনজি আর লেগুনা পাওয়া যায়। সারা দিনের জন্য জাফলং আর লালাখাল ধরে নিন।

গাড়িকতজনসারা দিনের আনুমানিক ভাড়া
সিএনজি৩–৪২,০০০–২,৮০০৳
লেগুনা৮–১০৩,০০০–৪,০০০৳
মাইক্রোবাস৮–১০৪,০০০–৫,৫০০৳
লোকাল বাস (জাফলং পর্যন্ত)জনপ্রতি৮০–১২০৳ একপথ

সকাল ৯–১০টা: পথে চা বাগান আর তামাবিল

সিলেট থেকে জাফলং প্রায় ৬০ কিমি। পথে জৈন্তাপুরের চা বাগান, শ্রীপুর আর তামাবিল স্থলবন্দরের কাছে মেঘালয়ের পাহাড় দেখা যায়।

সকাল ১১টা–দুপুর ২টা: জাফলং

ডাউকি নদীর স্বচ্ছ পানি আর পাথরের বিছানা, ওপারে ভারতের ঝুলন্ত সেতু। নৌকা ভাড়া করে নদী পেরিয়ে সংগ্রামপুঞ্জির খাসিয়া পল্লী আর মায়াবী ঝর্ণার দিকে যাওয়া যায়; নৌকা ঘণ্টা হিসাবে ৫০০–১,০০০৳। সীমানা চিহ্ন পেরিয়ে যাবেন না।

জাফলংয়ের চা বাগান, পেছনে মেঘালয়ের পাহাড়
জাফলংয়ের চা বাগান, পেছনে মেঘালয়ের পাহাড়ছবি: Abdul Momin, CC BY-SA 4.0

বিকেল ৩–৫টা: লালাখাল

ফেরার পথে জৈন্তাপুরের সারিঘাট থেকে লালাখাল। সারি নদীর পানি শীতে নীলচে-সবুজ, দুই পাশে চা বাগান আর পাহাড়। সারিঘাট থেকে নৌকায় লালাখাল যাওয়া-আসা প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, নৌকা ১,২০০–২,০০০৳ (৮–১০ জন বসা যায়)।

সন্ধ্যা: শহরে ফেরা আর পানসী-পাঁচ ভাই

সন্ধ্যায় শহরে ফিরে জিন্দাবাজারের পানসী বা পাঁচ ভাই রেস্তোরাঁয় ভর্তা-ভাত আর সাতকড়া দিয়ে রান্না মাংস।

নতুন · আনসিন শপবাংলাদেশ: ৩১টি তথ্যভিত্তিক ম্যাপনদী, বৃষ্টি, গরম, ঘূর্ণিঝড়, ধান, মিষ্টি আর আরও অনেক কিছু, আসল ডেটা থেকে আঁকা। বাংলা আর ইংরেজিতে, JPG আর PDF।৳১২০ম্যাপগুলো দেখুন →

দিন ২: সাদা পাথর বা রাতারগুল, তারপর শহর

দ্বিতীয় দিনের সকালের জন্য দুটো বিকল্প, মৌসুম দেখে বেছে নিন।

বিকল্প ক: সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ (শীতের জন্য ভালো)

শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিমি, সিএনজিতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। ভোলাগঞ্জ ঘাট থেকে নৌকায় ১৫–২০ মিনিট (নৌকা যাওয়া-আসা ৮০০–১,২০০৳)। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর পানির ওপর সাদা পাথর। শীতে পানি কম আর স্বচ্ছ থাকে, পাথরের ওপর হেঁটে বেড়ানো যায়।

বিকল্প খ: রাতারগুল জলাবন (বর্ষা থেকে নভেম্বর)

গোয়াইনঘাটে, শহর থেকে প্রায় ২৬ কিমি। দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন; ডিঙি নৌকায় পানিতে ডোবা হিজল-করচ গাছের ভেতর দিয়ে যাওয়া যায় (নৌকা ৭৫০–১,০০০৳)। ডিসেম্বরের পর পানি নেমে যায়, তখন নৌকা কম চলে, তাই শীতের মাঝামাঝি গেলে সাদা পাথরই ভালো।

দুপুর ২টা: মালনীছড়া চা বাগান

বিমানবন্দর সড়কে, শহর থেকে মাত্র ৫ কিমি। উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগানগুলোর একটি। টিলার ওপরের পথ ধরে হাঁটলে চা পাতা তোলার দৃশ্য দেখা যায়।

বিকেল: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার আর ক্বিন ব্রিজ

দরগাহ গেটে মাজার, পুকুরের গজার মাছ আর জালালি কবুতর। সন্ধ্যায় সুরমা নদীর ওপর ক্বিন ব্রিজ আর আলী আমজাদের ঘড়িঘর। তারপর রাতের ট্রেন বা বাসে ঢাকা।

বিছনাকান্দি কোথায় রাখবেন

বিছনাকান্দি (হাদারপাড় হয়ে নৌকায়) বর্ষা আর শরতে সবচেয়ে সুন্দর, যখন পাথরের ওপর দিয়ে স্রোত বয়। শীতে পানি অনেক কমে যায়। তিন দিন থাকলে তৃতীয় দিন রাতারগুল আর বিছনাকান্দি একসাথে রাখা যায়, দুটোই গোয়াইনঘাটের দিকে।

দুই দিনের খরচ (জনপ্রতি)

চারজনের দল, এক রাত হোটেলে, ধরে:

খাতবাজেটআরামে
ট্রেন যাওয়া-আসা৮২০৳ (শোভন চেয়ার)১,৫৭৬–১,৮৮৬৳ (স্নিগ্ধা/এসি)
হোটেল এক রাত (ভাগাভাগি)৫০০–৮০০৳১,৫০০–৩,০০০৳
সিএনজি দুই দিন (ভাগাভাগি)১,০০০–১,৪০০৳১,০০০–১,৪০০৳
নৌকা (লালাখাল, সাদা পাথর)৫০০–৮০০৳৫০০–৮০০৳
খাওয়া৮০০–১,২০০৳১,৫০০–২,০০০৳
মোট৩,৬০০–৫,০০০৳৬,০০০–৯,০০০৳
জনপ্রিয় · আনসিন শপ৬৪ জেলার ম্যাপপ্রতিটি জেলার 3D রিলিফ ম্যাপ: নদী, দর্শনীয় স্থান, পাশের জেলা আর বিখ্যাত খাবার। বাংলা আর ইংরেজিতে ১২৮টি ম্যাপ।৳৮০ম্যাপগুলো দেখুন →

শীতে সিলেট

  • নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি জাফলং, লালাখাল আর সাদা পাথরের পানি সবচেয়ে পরিষ্কার
  • ঝর্ণা আর বিছনাকান্দিতে পানি কম থাকে
  • ভোরে কুয়াশা থাকে, তাই সকালের দৃশ্যের জন্য একটু দেরিতে বের হলেও চলে
  • জানুয়ারির ছুটিতে হোটেল আগে বুক করুন

পরিবার আর দম্পতির জন্য পরামর্শ

বাচ্চা বা বয়স্ক মানুষ থাকলে সিএনজির বদলে মাইক্রোবাস নিন, আর প্রথম দিন শুধু জাফলং রাখুন। দম্পতিরা চাইলে লালাখালের পাশের রিসোর্টে এক রাত থাকতে পারেন। সাথে শ্রীমঙ্গল যোগ করতে চাইলে দেখুন শ্রীমঙ্গল ২ দিনের ট্যুর প্ল্যান; দুটো মিলিয়ে চার দিনে ঘোরা যায়।

প্রশ্নোত্তর

দুই দিনে কি জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল আর সাদা পাথর সব দেখা যায়?

খুব তাড়াহুড়ো হয়। জাফলং একটা রাস্তায়, বাকিগুলো আরেক দিকে। দুই দিনে তিনটা ভালোভাবে হয়, চারটা দেখতে চাইলে তিন দিন রাখুন।

সিলেট ঘুরতে জনপ্রতি কত টাকা লাগে?

ট্রেনে শোভন চেয়ারে আর চারজন মিলে সিএনজি নিলে দুই দিনে ৩,৬০০–৫,০০০৳। ভালো হোটেল আর এসি ট্রেনে ৬,০০০–৯,০০০৳।

জাফলংয়ে কি গোসল করা নিরাপদ?

ডাউকি নদীতে স্রোত আর হঠাৎ গভীর গর্ত আছে, প্রতি বছর দুর্ঘটনা ঘটে। সাঁতার না জানলে নামবেন না, আর গভীর পানিতে যাবেন না।

সিলেটে কী কী খাবার খাওয়া উচিত?

সাতকড়া দিয়ে মাংস, নানা রকম ভর্তা, শুঁটকি, আর সিলেটের চা। আমাদের ৬৪ জেলার বিখ্যাত খাবার তালিকাও দেখুন।

ম্যাপে দেখুন, প্ল্যান করুন

জায়গাগুলোর বিস্তারিত, যাওয়ার উপায় আর খরচ দেখুন, আর নিজের ট্রিপ সাজান।