
বাগেরহাট জেলা · খুলনা বিভাগ · Karamjal
করমজল ভ্রমণ গাইড
সুন্দরবনের সবচেয়ে সহজ প্রবেশপথ; হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্র, কাঠের ট্রেইল।
এক নজরে
- অবস্থান
- পশুর নদীর তীর, মোংলা থেকে ৮ কিমি
- প্রজনন কেন্দ্র
- লোনা পানির কুমির ও বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ
- ট্রেইল
- প্রায় ১ কিমি কাঠের পথ
- সময়
- দিনে ঘুরে আসা যায় (২–৩ ঘণ্টা)
ইতিহাস ও বিস্তারিত
করমজল সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের একটি পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, যা মোংলা বন্দরের কাছে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। যাঁরা লঞ্চে তিন দিনের ট্যুরে যেতে পারেন না, তাঁদের জন্য এটি সুন্দরবন দেখার সবচেয়ে সহজ উপায়।
২০০২ সালে এখানে লোনা পানির কুমির প্রজনন কেন্দ্র চালু হয়; এখানকার বিখ্যাত কুমির 'জুলিয়েট' ও 'রোমিও' থেকে শত শত বাচ্চা কুমির জন্ম নিয়ে বনে ছাড়া হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের প্রজননও এখানে হয়। হরিণ বেষ্টনী, বানর, কাঠের ট্রেইল আর ওয়াচ টাওয়ার থেকে বনের ভেতরটা দেখা যায়।
যা যা করবেন
- কাঠের ট্রেইল ধরে বনের ভেতরে হাঁটুন
- কুমির ও কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র দেখুন
- ওয়াচ টাওয়ার থেকে বনের দৃশ্য দেখুন
- ট্রলারে পশুর নদী ঘুরুন
করমজল কীভাবে যাবেন
মোংলা ঘাট থেকে ট্রলারে প্রায় ১ ঘণ্টা; দিনেই ঘুরে আসা যায়।
ঢাকা থেকে বাগেরহাট প্রায় ২০০ কিমি, সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।
- 🚌 বাসে: পদ্মা সেতু হয়ে বাগেরহাট/মোংলার বাস (সোহাগ, দোলা, মেঘনা), ভাড়া ৬০০–৮০০৳।
- 🚗 সড়কপথে: খুলনা থেকে বাসে প্রায় ১ ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন
- মোংলায় পর্যটন মোটেল পশুর
কী খাবেন
চিংড়ি, বাগেরহাটের নারিকেল
জেনে রাখুন
- একদিনে সুন্দরবন দেখার সবচেয়ে সহজ উপায়
- বানরদের খাবার দেবেন না—হাত থেকে জিনিস কেড়ে নেয়
কাছাকাছি আরো যা দেখবেন
- মোংলা বন্দর (৮ কিমি)
- হারবাড়িয়া (ট্রলারে)
- ষাট গম্বুজ মসজিদ (৪৫ কিমি)
বাগেরহাট জেলার আরো দর্শনীয় স্থান
- ষাট গম্বুজ মসজিদ — পনেরো শতকে খান জাহান আলীর তৈরি; ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান।
- খান জাহান আলীর মাজার — খান জাহান আলীর সমাধি ও খাঞ্জেলি দিঘি; দিঘির কুমির বিখ্যাত ছিল।
- কটকা ও কচিখালী — সুন্দরবনের গভীরে সৈকত, হরিণের পাল আর বাঘের পায়ের ছাপ।
- নয় গম্বুজ মসজিদ — ঠাকুর দিঘির পাড়ে খান জাহান আলী আমলের নয় গম্বুজ মসজিদ।