অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর
ছবি: Sahid Ali Tahmid, চাঁদপুর

চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন

অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ

📛 অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ হলো চাঁদপুর জেলার কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরত্বগাথার এক অনন্য স্মারক ভাস্কর্য। চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটি দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। 📜 পটভূমি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব:- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা একাধিক বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ ও সম্মুখ সমরে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর চাঁদপুরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা তুলে ধরার তাগিদ অনুভূত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে তৎকালীন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এস এম শামছুল আলমের বিশেষ উদ্যোগে এবং স্থানীয় চাঁদপুরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালেই সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। 🏗️ স্থাপত্য ও অনন্য নকশা স্মৃতিসৌধটির নকশা করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাস্কর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সাবেক প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ (যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকনিক ভাস্কর্য 'অপরাজেয় বাংলা'-রও স্থপতি)। 🔸 কাঠামো: ১৫ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি সিমেন্ট, পাথর এবং লোহার সমন্বয়ে নির্মিত。 🔹 তাৎপর্য: প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা একটি দৃষ্টিনন্দন লেকের ঠিক মাঝখানে এটি স্থাপন করা হয়েছে। পানির বুক চিরে একটি শক্তিশালী হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে একটি রাইফেল বা অস্ত্র, যা যুদ্ধের ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় "অঙ্গীকার"-কে ফুটিয়ে তোলে। 🔸 সংযোগ সড়ক: মূল সড়ক থেকে লেকের পানির ওপর দিয়ে স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে যাওয়ার জন্য একটি সোজা সংযোগকারী রাস্তা রয়েছে। 🔻 বর্তমান অবস্থা ও উদযাপন:- বর্তমানে এটি চাঁদপুরের অন্যতম প্রধান একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু ও দর্শনীয় স্থান। প্রতি বছর মহান স্বাধীনতা দিবস (২৬শে মার্চ) এবং বিজয় দিবসের (১৬ই ডিসেম্বর) প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে এই বেদিতেই পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে চাঁদপুরের বীর শহীদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশেষ দিবসগুলোতে লেকের চারপাশ ও ভাস্কর্যটি চমৎকার আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।

🗓️ যাওয়ার সেরা সময়যে কোনো সময়ে।
⏱ কতক্ষণ লাগে১০-১৫ মিনিট
💰 খরচপ্রবেশ মূল্য নেই

কীভাবে যাবেন

চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড - অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ। সিএনজি, অটোরিকশা বা রিকশায় করে।

কোথায় থাকবেন

শহরের যে কোনো হেটেলে থাকা যাবে

কাছে খাবারের ব্যবস্থা

সাথেই বিভিন্ন হোটেল, রেঁস্তোরা, ক্যাফে ইত্যাদি রয়েছে

সুবিধা

নিরাপদ পার্কিং, ইন্টারনেট, টয়লেট ইত্যাদি

কাছের দর্শনীয় স্থান

মিনি কক্সবাজার, রক্তধারা, বড় স্টেশন মোলহেড ইত্যাদি

নিরাপত্তা পরামর্শ

ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও ছবি

অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ২
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ৩
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ৪
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ৫
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ৬
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ৭
অঙ্গীকার স্মৃতিসৌধ: ছবি ৮

ম্যাপে অবস্থান

পাঠিয়েছেন Sahid Ali Tahmid, চাঁদপুর · ১০/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।

Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →

চাঁদপুর জেলার আরও লুকানো রত্ন

চাঁদপুর জেলার ভ্রমণ গাইড: সব দর্শনীয় স্থান →