
শাহরাস্তি, চাঁদপুর · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
সাহাপুর চৌধুরী বাড়ি
📛 সাহাপুর রাজবাড়ি (স্থানীয়ভাবে যা সাহাপুর জমিদার বাড়ি বা চৌধুরী বাড়ি নামে সমধিক পরিচিত) বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার অন্যতম প্রধান একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ এই রাজবাড়িটি চাঁদপুর জেলার প্রাচীন মেহের পরগনার এক গৌরবময় অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিচে ঐতিহাসিক এই রাজবাড়িটির ইতিহাস, অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো: 📜 ঐতিহাসিক পটভূমি ও বংশ লতিকা:- ➤ প্রতিষ্ঠাকাল ও পরগনা: ঐতিহাসিকদের মতে, আনুমানিক পনেরো শতকের সময়কাল থেকে এই রাজবাড়ির গোড়াপত্তন শুরু হয়। প্রাচীনকালে এই সাহাপুর রাজবাড়িটিই ছিল শাসন ও কর আদায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ মেহের পরগনার রাজধানী। দাশরাজ বংশ ও রাজা শিবানন্দ খাঁ: প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী সোনারগাঁও রাজ্যের দুই আনা (২/১৬) অংশের রাজকীয় মালিকানা ছিল এখানকার বিখ্যাত দাশরাজ বংশের হাতে। এই প্রভাবশালী রাজবংশের হাত ধরেই রাজবাড়িটির মূল প্রসার ঘটে। বংশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাজা শিবানন্দ খাঁ (রায়) এই রাজবাড়ির মূল রাজপ্রাসাদ স্থাপন করেন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাধক জটাধরের পিতা এবং সদানন্দের দশম পুরুষ। 🏛️ রাজবাড়ির অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও স্থাপনা:- সমগ্র রাজবাড়িটির চারপাশ জুড়েই রয়েছে বিশাল এক সীমানা প্রাচীর, যা একসময় শত্রুর আক্রমণ থেকে রাজত্ব রক্ষায় ব্যবহৃত হতো। রাজবাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে যে রাজকীয় অবকাঠামোগুলোর ধ্বংসাবশেষ ও নিদর্শন দেখা যায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ➤ মূল রাজপ্রাসাদ ও পাহারা চৌকি: মুঘল ও প্রাচীন ভারতীয় মিশ্র স্থাপত্যরীতিতে তৈরি মূল প্রাসাদ ভবন। এর সাথে নিরাপত্তার জন্য ছিল প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে মোতায়েন করা বিশেষ পাহারা চৌকি। ধর্মীয় উপাসনালয় (ঠাকুর ও দুর্গা মন্দির): রাজপরিবারের নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় উৎসবের জন্য এখানে রাজকীয় কারুকার্যে শোভিত একটি ঠাকুর মন্দির ও একটি দুর্গা মন্দির স্থাপন করা হয়েছিল। ➤ বিনোদনের জন্য নাট্যশালা: সে আমলের নামিদামি শিল্পীদের নাচ-গান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য রাজবাড়ির চত্বরে একটি বৃহৎ ও সুসজ্জিত নাট্যশালা বা নাটমন্দির ছিল। ➤ আভিজাত্যের দেয়াল লিখন: সুদীর্ঘ কয়েকশ বছর পার হয়ে গেলেও রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরের দেয়ালে পোড়ামাটির কারুকার্য এবং কিছু সূক্ষ্ম নকশার ছাপ এখনো টিকে আছে। ⚠️ বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা:- কালের বিবর্তনে জমিদার প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি বা প্রত্নতাত্ত্বিক কোনো বড় ধরণের সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় পুরো প্রাসাদটি এখন ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভবনের ছাদ ধসে গেছে, দেয়াল বেয়ে উঠেছে পরজীবী বটবৃক্ষ এবং পুরো এলাকাটি একপ্রকার বন্য লতাপাতা ও জঙ্গলে ঘেরা অবস্থায় রয়েছে। তবে ভাঙাচোরা দেয়াল ও জৌলুস হারানো ইটগুলো এখনো দর্শনার্থীদের কাছে এর প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অন্যরকম আকর্ষণ তৈরি করে।
কীভাবে যাবেন
কালিয়াপাড়া বাজার থেকে সিএনজি বা অটোতে করে সরাসরি শাহাপুর চৌধুরী বাড়িতে যাওয়া যাবে।
কোথায় থাকবেন
১ দিনেই ঘুরে দেখা যাবে। তাই থাকার প্রয়োজন হবেনা। একান্ত উপজেলার যে কোনো হেটেলে থাকা যাবে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
সাথেই চায়ের দোকান রয়েছে। তবে সাথে পানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা দরকার।
সুবিধা
নিরাপদ পার্কিং, ইন্টারনেট, টয়লেট ইত্যাদি
কাছের দর্শনীয় স্থান
নাওড়া মঠ, শাহরাস্তি মাজার ও দিঘী, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে, মনবাগান আর্ট পার্ক ইত্যাদি।
নিরাপত্তা পরামর্শ
নিরাপদ রয়েছে।
আরও ছবি






ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Sahid Ali Tahmid, চাঁদপুর · ১১/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →