
চর কুকরি মুকরি ইউনিয়ন, চর ফ্যাশন উপজেলা, ভোলা · পাহাড় ও বন · লুকানো রত্ন
চর কুকরি মুকরি
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বদ্বীপ উপকূলের এক অপার সৌন্দর্যের আধার হলো ভোলা জেলার চর কুকরি মুকরি। মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা এই বদ্বীপটি মূলত একটি সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। এর নামকরণের পেছনে একটি মজার ইতিহাস রয়েছে—স্থানীয় প্রবীণদের মতে, অতীতে এই চরে প্রচুর পরিমাণে 'কাকড়া' ও 'ইঁদুর' (স্থানীয় ভাষায় মুন্দির বা মুকরি) পাওয়া যেত। আবার অনেকের মতে, পর্তুগিজ বা মগ জলদস্যুরা একসময় এখানে আস্তানা গেড়েছিল এবং তাদের ভাষায় 'কুকরি মুকরি' শব্দটির কোনো বিশেষ অর্থ ছিল। শত বছরের পুরনো প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই দ্বীপটির বর্তমান বয়স প্রায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে মানুষের বসবাসযোগ্য ও বনায়নের আওতায় রয়েছে। জীববৈচিত্র্য, উপকূলীয় প্রকৃতি এবং ম্যানগ্রোভ বনের অনন্য রূপের জন্য এটি দেশজুড়ে অত্যন্ত বিখ্যাত। এখানে গেলে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন মাইলের পর মাইল বিস্তৃত বনের সবুজ কেওড়া ও গেওয়া গাছ, জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় খাল এবং পাখির কলকাকলি। শীতকালে এই দ্বীপে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে, যা পুরো পরিবেশকে মুখরিত করে তোলে। চরের ট্রেইল ধরে হাঁটার সময় বন্য শূকর, চিত্রা হরিণ, উদবিড়াল বা বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখার দুর্লভ সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এখানকার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের মন কেড়ে নেয়।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে লঞ্চে (যেমন—এমভি ফারহান বা কর্ণফুলী) সরাসরি ভোলার চর ফ্যাশন (বেতুয়া ঘাট) বা মনপুরা রুটে যাওয়া যায় (ভাড়া কেবিন বা ডেক ভেদে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা)। এছাড়া বাসে করে লক্ষ্মীপুর হয়ে ভোলা পার হয়েও যাওয়া যায়। ভোলা জেলা সদর বা চর ফ্যাশন সদর থেকে বাস বা সিএনজিতে করে কুকরি মুকরি যাওয়ার ট্রলার ঘাটে (যেমন কচ্ছপিয়া ঘাট) পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে ট্রলার বা স্পিডবোটে নদী পার হয়ে চর কুকরি মুকরিতে পৌঁছাতে হয় (চর ফ্যাশন থেকে যাতায়াত বাবদ জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতে পারে)।
কোথায় থাকবেন
চর কুকরি মুকরিতে রাত্রিযাপনের জন্য বন বিভাগের রেস্টহাউস এবং স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা কয়েকটি ইকো-কটেজ বা গেস্টহাউস রয়েছে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
দ্বীপের স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানের কিছু ছোট হোটেল ও খাবারের দোকান রয়েছে, যেখানে তাজা নদীর মাছ (বিশেষ করে ইলিশ) ও দেশীয় খাবার পাওয়া যায়।
কাছের দর্শনীয় স্থান
চর পাতিলা,দক্ষিণ বাংলার দীর্ঘতম বেতুয়া ল্যান্ডস্কেপ পার্ক
আরও ছবি





ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Anamul Hoque Rasel, ভোলা · ২১/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →