
কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
টেগর লজ
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকায় গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত টেগর লজ (Tagore Lodge) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবসা, জমিদারির তদারকি এবং সাহিত্য সাধনার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন। শিলাইদহের কুঠিবাড়ি ব্যাপকভাবে পরিচিত হলেও, কুষ্টিয়া শহরের সঙ্গে কবির ব্যবসায়িক ও যাতায়াতের এই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু ছিল টেগর লজ। টেগর লজের ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট ১. প্রতিষ্ঠা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম (১৮৯৫): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন শিলাইদহে পারিবারিক জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে আসেন, তখন তিনি কেবল জমিদারিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং নানা উদ্যোগী ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে যুক্ত করেন। ১৮৯১ সালে তিনি ‘টেগর অ্যান্ড কোম্পানি’ নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং ১৮৯৫ সালে কুষ্টিয়ার মিলপাড়া এলাকায় এই দোতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন যা কোম্পানির কার্যালয় বা ‘টেগর লজ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২. ব্যবসার ধরণ ও সহযোগী: এই লজকে কেন্দ্র করে ভুষিমাল, পাট, আখমাড়াই এবং পরবর্তীতে স্বদেশি আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় একটি তাঁতশালা বা তাঁতশিল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কবিগুরুকে ব্যবসার কাজে সহায়তা করতেন তাঁর দুই ভ্রাতুষ্পুত্র—সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ৩. সাহিত্যিক সংযোগ ও যাতায়াত: কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া কিংবা শিলাইদহ যাতায়াতের সময় রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই এই লজে এসে রাত্রিযাপন বা বিশ্রাম করতেন। এখানে বসেই তিনি ও তাঁর পরিবার ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করতেন। এখানকার পরিবেশ ও গড়াই নদীর আশপাশ কবির বহু সৃষ্টিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। যেমন—কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন কুরচি ফুল নিয়ে লেখা তাঁর বিখ্যাত ‘কুরচি’ কবিতাটি এই সময়ের স্মৃতি বহন করে। ৪. উত্তরাধিকার ও সংস্কার: কালের পরিক্রমায় ব্যবসা লোকসানে পড়া এবং বিভিন্ন হাতবদলের কারণে ঐতিহাসিক এই ভবনটি একসময় চরম জরাজীর্ণ ও বেদখল হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া পৌরসভার উদ্যোগে ও স্থানীয় সচেতন মহলের প্রচেষ্টায় ২০০৪ সালে ভবনটি ক্রয় করে সংস্কার করা হয়। বর্তমান অবস্থা বর্তমানে টেগর লজটি একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। এর নিচতলায় হলরুম এবং দোতলায় কয়েকটি ঘর রয়েছে, যার মধ্যে একটি ঘরে কবিগুরুর রচিত গ্রন্থমালা এবং তাঁর আঁকা বিভিন্ন ছবির অনুকৃতি প্রদর্শিত হয়। এর আঙিনায় কবিগুরুর আবক্ষ মূর্তি এবং একটি ছোট মুক্তমঞ্চ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কীভাবে যাবেন
কুষ্টিয়া শহরের মধ্যেই অবস্থিত। কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মোড় অথবা থানা মোড় থেকে অটো/ইজিবাইক অথবা ব্যাটারি চালিত রিকশা করে যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
কুষ্টিয়া শহরের যেকোনো হোটেলে
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
কুষ্টিয়া শহরের যেকোনো রেস্টুরেন্ট/রেস্তোরাঁ
কাছের দর্শনীয় স্থান
লালন শাহের মাজার, গড়াই নদী, রেইন উইক শহর রক্ষা বাঁধ।
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন নাঈম, কুষ্টিয়া · ১১/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →