
ছাগলনাইয়া, ফেনী · ধর্মীয় স্থান · লুকানো রত্ন
চাঁদগাজী ভূঁইয়া মসজিদ
ঐতিহাসিক চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ: ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন: বাংলাদেশের ফেনী জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো চাঁদগাজী ভূঁইয়া জামে মসজিদ। মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু মুসলমানদের ইবাদতের স্থান নয়; এটি ফেনীর ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রাচীন স্থাপত্য এবং স্থানীয় জনপদের বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই মসজিদের নাম। ১. মসজিদের অবস্থান- ঠিকানা - গ্রাম: মাটিয়াগোধা - ইউনিয়ন: মহামায়া - উপজেলা: ছাগলনাইয়া - জেলা: ফেনী - বিভাগ: চট্টগ্রাম মসজিদটি চাঁদগাজী বাজারের কাছাকাছি ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় অবস্থিত। ২. মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা চাঁদগাজী ভূঁইয়া চাঁদগাজী ভূঁইয়া ছিলেন মোগল আমলে ফেনীর পূর্বাঞ্চলের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জমিদার। স্থানীয় ইতিহাসে তাঁর নামের সঙ্গে জমিদারি, জনপদ প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ডের স্মৃতি জড়িত। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, নদীভাঙনের কারণে তিনি সম্পদ ও লোকজন নিয়ে বর্তমান ছাগলনাইয়া অঞ্চলের মাটিয়াগোধা গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর নাম থেকেই চাঁদগাজী বাজারসহ এলাকার বিভিন্ন পরিচিত স্থানের নামকরণ হয়েছে বলে জানা যায়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তাঁর সময়কার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ৩. নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক পটভূমি মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে বিভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়। মসজিদের শিলালিপি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ১১২২ হিজরি, অর্থাৎ ১৭১২–১৭১৩ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কিছু সূত্রে এর নির্মাণকাল আরও আগের বলে দাবি করা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট নির্মাণসাল নিয়ে সূত্রভেদে পার্থক্য রয়েছে। মসজিদটি যে মোগল আমলের শেষ পর্যায়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, সে বিষয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এটি ফেনী অঞ্চলের প্রাচীন পাকা মসজিদগুলোর অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ৪. মসজিদের স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশল মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর প্রাচীন নির্মাণকৌশল এবং মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: - তিনটি প্রধান গম্বুজ: ছাদের ওপর একই সারিতে তিনটি গম্বুজ রয়েছে। মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটি গম্বুজের তুলনায় বড়। - মিনার ও অলংকরণ: মসজিদের বাইরের অংশে সরু মিনারসদৃশ স্থাপত্য এবং গম্বুজের ওপর নান্দনিক নকশা রয়েছে। - চুন-সুরকির নির্মাণ: চুন, সুরকি ও ছোট আকারের ইট দিয়ে মসজিদটি নির্মিত। দেয়ালগুলো বেশ পুরু। - ফুলেল ও টেরাকোটার নকশা: প্রবেশপথ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে প্রাচীন অলংকরণের ছাপ দেখা যায়। - ঐতিহাসিক শিলালিপি: প্রবেশপথের ওপরের অংশে মসজিদের পরিচয় ও নির্মাণকালসংক্রান্ত শিলালিপি রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৮ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৩৫ ফুট। এর অবস্থান ও নির্মাণবৈশিষ্ট্য একে স্থানীয় স্থাপত্য-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনে পরিণত করেছে। ৫. শিলালিপি ও ধর্মীয় গুরুত্ব মসজিদের প্রবেশপথের শিলালিপি এর ইতিহাস জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরবি ভাষায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং কালিমা শরিফের উল্লেখ পাওয়া যায়। নির্মাণকাল বোঝার ক্ষেত্রেও এই লিপি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
কীভাবে যাবেন
ফেনী জেলা শহর থেকে সড়কপথে ছাগলনাইয়া উপজেলায় যেতে হবে। সেখান থেকে চাঁদগাজী বাজারের কাছাকাছি মহামায়া ইউনিয়নের মাটিয়াগোধা গ্রামের মসজিদে যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
ফেনী শহরে আবাসিক হোটেল আছে
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
খাবারের পর্যাপ্ত হোটেল আছে
সুবিধা
টয়লেট, পারকিং, মোবাইল নেটওয়ার্ক আছে
কাছের দর্শনীয় স্থান
ভারতের সীমান্ত এলাকা, গ্রামীণ প্রকৃতি
নিরাপত্তা পরামর্শ
নিরাপত্তাজনিত কোন সমস্যা নাই
আরও ছবি





ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন AL AMRAN MD SOWKAT AZIZ, ফেনী · ১৪/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →