রূপসা জমিদার বাড়ী, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর
ছবি: আবু রায়হান, চাঁদপুর

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন

রূপসা জমিদার বাড়ী

ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ির ইতিহাস চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জনপদ রূপসা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারণে রূপসা এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাসকে ধারণ করে আজও দাঁড়িয়ে আছে রূপসা জমিদার বাড়ি—যা শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, বরং এ অঞ্চলের সামাজিক, শিক্ষা, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। উনিশ শতকের প্রথমভাগে বর্তমান খাজুরিয়া এলাকার হিন্দু জমিদারদের জমিদারি পতনের পর ব্রিটিশদের কাছ থেকে সেই জমিদারি ক্রয় করেন মোহাম্মদ গাজী। পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য পুত্র আহমেদ গাজী চৌধুরীর সময়ে রূপসা জমিদার পরিবারের প্রভাব ও বিস্তৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রজাহিতৈষী আহমেদ গাজী চৌধুরী জমিদারদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে যে অত্যাচারী ও শোষকের চিত্র প্রচলিত রয়েছে, আহমেদ গাজী চৌধুরী ছিলেন তার ব্যতিক্রম। তিনি ছিলেন প্রজাহিতৈষী, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, ধর্মপ্রাণ ও দানশীল ব্যক্তি। জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে তিনি কৃষকদের জমি ওয়াকফ করেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় রূপসা আহম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসা আহম্মদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা ও রূপসা স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রূপসার প্রাচীন মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ প্রতিষ্ঠায় তিনি ভূমিকা রাখেন। লাউতলী দীঘির প্রায় ১৩ একর সম্পত্তিও মসজিদের নামে ওয়াকফ করার কথা স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। চাঁদপুর শহরের চৌধুরী জামে মসজিদ ও চৌধুরী ঘাট এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া-র সঙ্গে এই জমিদার পরিবারের জনহিতকর কর্মকাণ্ডের সম্পর্কের কথাও জানা যায়। ফলে রূপসা জমিদার বাড়ির ইতিহাস শুধু জমিদারি পরিচালনার ইতিহাস নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষা বিস্তার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নের ইতিহাস। তহুরুন্নেছা চৌধুরানী আহমেদ গাজী চৌধুরীর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। তাঁর পাঁচ কন্যার মধ্যে দ্বিতীয় কন্যা তহুরুন্নেছা চৌধুরানী পরবর্তীতে জমিদারির উত্তরাধিকার গ্রহণ করেন। সিলেটের হবিগঞ্জের দাউদনগরের জমিদার সৈয়দ শাহ কেরামত উল্যাহর পুত্র সৈয়দ হাবিব উল্যাহর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। বিবাহের পরও তহুরুন্নেছা রূপসায় অবস্থান করে জমিদারি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বামী জমিদারি পরিচালনায় তাঁকে সহযোগিতা করতেন। তহুরুন্নেছা চৌধুরানীর জমিদারি পরিচালনার দক্ষতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি স্থানীয় ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর এক পুত্র ও এক কন্যা ছিল। পরবর্তীতে কন্যার অকালমৃত্যু এবং স্বামী সৈয়দ হাবিব উল্যাহর মৃত্যুর পর জমিদারির দায়িত্ব তাঁর একমাত্র পুত্রের হাতে আসে। সৈয়দ আব্দুর রশিদ চৌধুরী—‘রসু চৌধুরী’ তহুরুন্নেছা চৌধুরানীর একমাত্র পুত্র সৈয়দ আব্দুর রশিদ চৌধুরী, যিনি রূপসা অঞ্চলে ‘রসু চৌধুরী’ নামে অধিক পরিচিত ছিলেন, জমিদার পরিবারের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ১৯০৭ সালে জন্মগ্রহণকারী আব্দুর রশিদ চৌধুরী কলকাতায় শিক্ষা জীবন শেষ করেন। পরবর্তীতে তিনি জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে

🗓️ যাওয়ার সেরা সময়আগস্ট-ফেব্রুয়ারী
⏱ কতক্ষণ লাগেচাঁদপুর সদর থেকে ১.০০ ঘন্টা
💰 খরচবিনামূল্যে

কীভাবে যাবেন

কীভাবে যাবেন? চাঁদপুর জেলা শহর → ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সিএনজি/অটোরিকশায় জনপ্রতি আনুমানিক ৫০–৭০ টাকা। ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড → রূপসা জমিদার বাড়ি সিএনজি/অটোরিকশায় জনপ্রতি আনুমানিক ৩০–৪০ টাকা। রূপসা জমিদার বাড়ি ফরিদগঞ্জ থেকে সড়কপথে প্রায় ৫ কিলোমিটার। 📍 মোট আনুমানিক ভাড়া: ৮০–১১০ টাকা/জন। ভাড়া সময়, গাড়ির ধরন ও স্থানীয় পরিবহনভেদে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

কোথায় থাকবেন

উপজেলা অথবা জেলা শহরের হোটেলে

কাছে খাবারের ব্যবস্থা

সকল ধরনের খাবারের দোকান আছে

কাছের দর্শনীয় স্থান

লাউতলী দীঘি (৪কি.মি.), সাহেবগঞ্জ নীলকুঠি (৮ কি.মি.), কড়ৈতলী বাবুই বাড়ী (৭ কি.মি.)

নিরাপত্তা পরামর্শ

নিরাপত্তা সমস্যা নেই

আরও ছবি

রূপসা জমিদার বাড়ী: ছবি ২
রূপসা জমিদার বাড়ী: ছবি ৩
রূপসা জমিদার বাড়ী: ছবি ৪
রূপসা জমিদার বাড়ী: ছবি ৫

ম্যাপে অবস্থান

পাঠিয়েছেন আবু রায়হান, চাঁদপুর · ০৯/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।

Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →

চাঁদপুর জেলার আরও লুকানো রত্ন

চাঁদপুর জেলার ভ্রমণ গাইড: সব দর্শনীয় স্থান →