
শেরপুর সদর, শেরপুর · ধর্মীয় স্থান · লুকানো রত্ন
মাইসাহেবা জামে মসজিদ
মাইসাহেবা জামে মসজিদ শেরপুর জেলার সবচেয়ে বড় মসজিদ। এটি শহরের কেন্দ্রস্থলে শেরপুর সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে মাইসাহেবা মসজিদ অবস্থিত। আনুমানিক ২৫০ বছর[১] পূর্বে নির্মিত এই মসজিদটি শেরপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে বক্রাকার খিলানের ব্যবহার, সুউচ্চ দুইটি মিনার এবং স্থাপত্য কলার আধুনিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনতলা বিশিষ্ট মাইসাহেবা মসজিদে একসঙ্গে ৬ হাজার এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। বর্তমানে মসজিদ টির সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তৎকালীন তিনআনি জমিদারের খাজনা আদায়ের ঘরের সাথে একটি পরিত্যক্ত ঘর ছিল। সেই ঘরটিতে স্থানীয় প্রজা মহিলা নামাজ আদায় করেছেন। পরবর্তীতে জমিদারের নির্দেশে ঘর ভেঙ্গে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মসজিদর নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। তিনআনি জমিদার মুক্তাগাছার জমিদার কে দাওয়াত দেওয়ায় তিনআনি জমিদারের কাছে বিশ্রামের নিরিবিলি জায়গা চান করেন। খাজনা আদায়ের ঘরের সাথে থাকা ঘরটি দেওয়ার মনস্থির করেন তিনআনি জমিদার। তাই হাতি দিয়ে ঘরটি ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। হাতি ঘরটির কাছে আসে ঘরটি না ভেঙ্গে বসে যায়। খবর পেয়ে তিনআনি জমিদার ছুটে আসেন এবং ঘরের ভিতর দেখেন একজন মহিলা সৃষ্টিকর্তার উপাসনায় মগ্ন, জমিদার ব্যপারটি বুঝতে পারেন এবং ক্ষমা চেয়ে ফেরত যান। পরে এখানে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং নাম দেন মাইসাহেবা জামে মসজিদ। মাইসাহেবা জামে মসজিদটি ৩ তলা। নীচতলায় রয়েছে নামাজের ব্যবস্থা ও ওযুর ব্যবস্থা। দোতলা নামাজের ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় পাঠাগার রয়েছে। বর্তমানে মূল মসজিদে ৬ সহস্রাদিক মুসল্লী একত্রে নামায আদায় করতে পারেন। মসজিদের প্রবেশ পথে দুইটি বড় গেইট এবং মসজিদের দুটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। বর্তমানে দশ হাজার মুসল্লির ধারণ ক্ষমতা, মহিলাদের নামাজের স্থান ও সমগ্র মসজিদ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত করার কাজ চলছে। নিরাপত্তা জন্য রয়েছে সিসি ক্যামেরা।
কীভাবে যাবেন
শেরপুর শহর থেকে অটো তে ১০-২০ টাকা ভাড়া দিয়ে মাইসাহেবা মসজিদ যাওয়া যায়।
কোথায় থাকবেন
হোটেল সম্পদ
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
স্টার রেস্টুরেন্ট
কাছের দর্শনীয় স্থান
ডিসি লেক ১ কিলো
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন মোঃ আজিজুল হাকিম, শেরপুর · ০৮/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।