
গ্রাম: শাহাবাজপুর, উপজেলা: শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
খনিয়া দিঘি মসজিদ
বাংলাদেশের উত্তর জনপদের ঐতিহাসিক স্মৃতির এক অনন্য সাক্ষী হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক খনিয়াদীঘি মসজিদ। সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতির এক অপূর্ব নিদর্শন এই মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘রাজবিবি মসজিদ’ বা ‘চামচিকা মসজিদ’ নামেও পরিচিত। আনুমানিক ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দের দিকে (১৫ শতকে) যখন গৌড় বাংলার রাজধানী ছিল, তখন কোনো এক রাজবিবি বা অভিজাত নারী এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অনন্য কাঠামোর জন্য এটি বিশ্বজুড়ে প্রাচীন কীর্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে সমাদৃত। এখানে গেলে প্রাচীন সুলতানি স্থাপত্যের দারুণ কিছু নিদর্শন দেখা মিলবে। মসজিদটির মূল প্রার্থনাকক্ষটি বর্গাকার এবং এর ছাদে একটি বিশাল আকৃতির একক গম্বুজ রয়েছে, যা সেই আমলের স্থাপত্যে বেশ দুর্লভ। এর সামনের দিকে একটি বারান্দা এবং তাতে ছোট আকারের আরও তিনটি গম্বুজ সংযুক্ত রয়েছে। প্রায় ৭ ফুট চওড়া প্রাচীন দেয়াল এবং এর কার্নিশ ও পিলারে পোড়ামাটির (টেরাকোটা) চমৎকার নকশার অবশিষ্টাংশ আজও চোখে পড়ে। এই নান্দনিক নির্মাণশৈলী এবং মসজিদের পাশেই অবস্থিত বিশাল আকৃতির ঐতিহাসিক ‘খনিয়া দিঘি’র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু মনকে নিমিষেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় শত বছর আগের সোনালী অতীতে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে (দেশ ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস ইত্যাদি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে পৌঁছানো যায় (এসি/নন-এসি ভেদে ভাড়া প্রায় ৮৩০ থেকে ১৫০০ টাকা)। এছাড়া ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে সেখান থেকে বাসেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসা যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর বা কানসাট থেকে সিএনজি, মাহেন্দ্র বা স্থানীয় বাহনে খুব সহজেই খনিয়াদীঘি মসজিদে যাওয়া যায় (যাতায়াত খরচ বাবদ স্থানীয় যানে জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকার মতো লাগতে পারে)।
কোথায় থাকবেন
খনিয়াদীঘি মসজিদের আশেপাশে সরাসরি থাকার ভালো কোনো আধুনিক হোটেল নেই। রাত্রিযাপনের জন্য পর্যটকদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে ফিরে আসতে হবে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
মসজিদের আশেপাশে ছোটোখাটো স্থানীয় খাবারের দোকান বা চা-নাস্তা পাওয়ার মতো কিছু দোকান রয়েছে। তবে ভালোভাবে দুপুরের বা রাতের খাবার খাওয়ার জন্য শিবগঞ্জ বাজার, কানসাট বাজার কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে যাওয়া সবচেয়ে ভালো।
কাছের দর্শনীয় স্থান
এই জায়গার একেবারে কাছাকাছি বা আশেপাশেই বেশ কিছু দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে, যেগুলোর দূরত্ব খুবই কম: ছোট সোনা মসজিদ: মাত্র ১ থেকে ২ কিলোমিটারের ব্যবধানে অবস্থিত। দারাসবাড়ি মসজিদ ও দারাসবাড়ি মাদ্রাসা: দূরত্ব প্রায় ১-২ কিলোমিটার। শাহ সুজার তাহখানা ও শাহ নেয়ামত উল্লাহ ওয়ালীর মাজার: খনিয়াদীঘি ম
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Anamul Hoque Rasel, ভোলা · ১১/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →