
শাহাবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ · ঐতিহাসিক স্থান · লুকানো রত্ন
ধনিয়াচক মসজিদ
ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি অমূল্য নিদর্শন হলো ধনিয়াচক মসজিদ। প্রাচীন গৌড় রাজ্যের রাজধানী সংলগ্ন এই অঞ্চলটিতে মুসলিম আমলের বহু নিদর্শন ছড়িয়ে আছে, যার মধ্যে এই মসজিদটি অন্যতম। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মুন্সিগঞ্জের বিখ্যাত বাবা আদম মসজিদের (১৪৮৩ খ্রি.) নির্মাণশৈলী ও টেরাকোটার সঙ্গে এর গঠনগত মিল থাকায় এটি আনুমানিক ১৫ শতকের শেষের দিকে সুলতানি আমলের (ইলিয়াস শাহী আমল) শেষের দিকে নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই স্থাপনাটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এখানে গেলে প্রাচীন মধ্যযুগীয় মুসলিম স্থাপত্যকলার চমৎকার নিদর্শন উপভোগ করা যাবে। মসজিদটির ওপর মোট ৬টি গম্বুজ রয়েছে। এর পূর্ব দিকে ৩টি প্রবেশপথ রয়েছে, যার মধ্যে মাঝের দরজাটি সবচেয়ে বড়। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিকে আরও ৪টি দরজা থাকলেও সেগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মসজিদের চার কোণে রয়েছে চারটি আকর্ষণীয় অষ্টকোণাকৃতির মিনার বা টারেট। দেয়ালের গায়ে পোড়ামাটির বা টেরাকোটার চমৎকার কাজ এবং এর ভেতরের প্রাচীন পরিবেশ পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে (দেশ ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস ইত্যাদি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে যাওয়া যায় (ভাড়া প্রায় ৮৩০ থেকে ১৫০০ টাকা)। জেলা শহর বা শিবগঞ্জ থেকে সিএনজি, মাহেন্দ্র বা লোকাল বাহনে সোনামসজিদ এলাকায় পৌঁছাতে হবে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর বা বালিয়াদিঘির দক্ষিণ-পূর্ব পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তা ধরে স্থানীয় ভ্যান বা পায়ে হেঁটে আমবাগানের ভেতর দিয়ে ধনিয়াচক মসজিদে পৌঁছানো যায় (জেলা শহর থেকে যাতায়াত বাবদ স্থানীয় যানে জনপ্রতি ১০০-১৫০ টাকার মতো খরচ হতে পারে)।
কোথায় থাকবেন
ধনিয়াচক মসজিদের আশেপাশে রাত্রিযাপনের সরাসরি কোনো আধুনিক আবাসিক ব্যবস্থা নেই। রাতে থাকার জন্য পর্যটকদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে ফিরে আসতে হবে।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
মসজিদের আশেপাশে বড় কোনো খাবারের হোটেল বা রেস্তোরাঁ নেই,ভালো মানের দুপুরের বা রাতের খাবার খাওয়ার জন্য শিবগঞ্জ বাজার, সোনামসজিদ এলাকা যেতে হবে।
কাছের দর্শনীয় স্থান
এই জায়গাটির অত্যন্ত কাছাকাছি বা সমদূরত্বে আরও বেশ কিছু বিখ্যাত ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে:ছোট সোনা মসজিদ: মাত্র ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের দূরত্ব। খনিয়াদীঘি মসজিদ: প্রায় ১.৫ থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। দারাসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা: দূরত্ব প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার।
আরও ছবি




ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন Anamul Hoque Rasel, ভোলা · ১১/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →