
সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ · গ্রাম ও গ্রামীণ জীবন · লুকানো রত্ন
বেঁতুয়া ব্রীজ
সবুজে বিস্তৃত বিশাল মাঠ— চারদিকে দিগন্তজোড়া জলরাশি আর সেই বিশাল দীঘিগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি ব্রীজ! প্রথম দেখাতেই মনে হবে এ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা কোনো জীবন্ত ছবি। ব্রীজটির দুপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শিমুল, বকুল আর কৃষ্ণচূড়া গাছ। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় এই জায়গাটির রূপ। বর্ষায় যখন চারপাশ পানিতে ভরে ওঠে তখন প্রকৃতি ধারণ করে এক অপরূপ সৌন্দর্য। আর শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর নির্মল বাতাসে যেন হয়ে ওঠে পৃথিবীর এক টুকরো স্বর্গ। সন্ধ্যার দৃশ্য এখানে সবচেয়ে সুন্দর । দিন শেষে যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে অস্ত যেতে থাকে, তখন ধবল বকের সারি, শালিকের দল আর রঙিন মাছরাঙারা তাদের নীড়ে ফিরে যায়। পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ আর চারপাশের নীরবতা মিলেমিশে তৈরি করে এক অন্যরকম অনুভূতি যা চোখে দেখা যায়, কিন্তু ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না। তবে বেঁতুয়া ব্রীজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—হাজার হাজার হাঁস। দীঘির স্বচ্ছ জলে দল বেঁধে ভেসে বেড়ানো অসংখ্য হাঁসের দৃশ্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। কখনো তারা পানিতে সাঁতার কাটে, কখনো দল বেঁধে তীরে উঠে আসে দূর থেকে দেখলে মনে হয়, জলের বুকে যেন সাদা সাদা ফুল ফুটে আছে। শহরের কোলাহল, ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের বাইরে বেঁতুয়া ব্রীজ যেন এক শান্তির জায়গা। এখানে শুধু সবুজ প্রকৃতি নির্মল বাতাস, পাখির ডাক, জলের ঢেউ আর নিস্তব্ধতার এক অপূর্ব মায়া। কিছু জায়গায় গেলে শুধু ছবি তোলা হয়,আর কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে মন ভালো হয়ে যায়। বেঁতুয়া ব্রীজ ঠিক তেমনই একটি জায়গা। প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করতে, কিছুটা সময় নিজের সঙ্গে কাটাতে কিংবা প্রিয় মানুষদের নিয়ে শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে হারিয়ে যেতে একবার ঘুরে আসতেই পারেন আমার প্রিয় বেঁতুয়া ব্রীজে। একবার আসলে মন জুড়িয়ে যাবে, আর প্রকৃতির এই মায়াবী সৌন্দর্য হয়তো আপনাকে বারবার এখানে ফিরে আসার আহ্বান জানাবে।
কীভাবে যাবেন
সিরাজগঞ্জ হাটিকুমরুল চত্ত্বর থেকে অটোরিকশা করে সলঙ্গা বাজারে আসবেন। ২০ টাকা নিবে। সলঙ্গা বাজার মাদ্রাসা রোড থেকে আবার অটোরিকশা করে বেঁতুয়া আসবেন। ২০ টাকা গাড়িভাড়া নিবে, ওখানে এসে যে কাউকে বললে বেঁতুয়া দিয়ার পাড়া ব্রীজে যাবো। সবাই দেখিয়ে দিবে ওটাই মূলত বেঁতুয়া ব্রীজ।
কোথায় থাকবেন
থাকার জায়গা নেই।
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
চায়ের দোকান আছে।
সুবিধা
টয়লেট আছে।
কাছের দর্শনীয় স্থান
হাটিকুমরুল নবরত্ন, ধুবিল জমিদার বাড়ি, জয়সাগর,
নিরাপত্তা পরামর্শ
কোনো সমস্যা নেই! একদম গ্রামীন পরিবেশ।
বৈশাখী মেলা
বেঁতুয়া ব্রীজের পাশেই এলাকা নৈইপাড়া যেখানে প্রতিবছর ১৪ ই এপ্রিল বিশাল পরিসরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। যা সলঙ্গা থানার মধ্য সবচেয়ে জনপ্রিয়।
আরও ছবি









ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন মোঃ কাউসার হোসেন, সিরাজগঞ্জ · ০৭/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →