
গুরুদাসপুর, নাটোর · হাওর, বিল ও জলাভূমি · লুকানো রত্ন
Bilsha
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলশা গ্রাম মূলত চলনবিলের অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটন আকর্ষণের কারণে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিল চলনবিলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই গ্রামটিকে ‘চলনবিলের হৃদপিণ্ড’ বলা হয়ে থাকে. বিলশা গ্রাম জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো: • মিনি কক্সবাজার বা বিলশা পয়েন্ট: বর্ষাকালে বিলশা গ্রামের চারপাশ দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশিতে পরিণত হয়। বিশাল ঢেউ এবং অন্তহীন পানির কারণে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে এটি ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। • মা জননী সেতু (বিলশা ব্রিজ): বিলশা পয়েন্টে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন দুই লেনের মা জননী সেতু পুরো এলাকার চেহারা বদলে দিয়েছে। এই ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে বর্ষাকালে চলনবিলের উত্তাল রূপ এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে ভিড় করেন। • নৌকা ভ্রমণ ও ভাসমান রিসোর্ট: বিলশাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। পানিতে ভেসে বেড়ানো এবং চলনবিলের মাঝখানে সময় কাটানোর জন্য এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু মনোরম পার্ক ও ভাসমান সুবিধা গড়ে উঠেছে। • ভৌগোলিক অবস্থান: গ্রামটি নাটোরের গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও সিংড়া উপজেলার সীমান্ত বা জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে আশেপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের জন্য এখানে যাতায়াত করা খুবই সহজ। বর্ষা মৌসুমে (বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে) বিলশা গ্রাম তার পূর্ণ রূপ ধারণ করে এবং এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।
কীভাবে যাবেন
• বাসে সরাসরি: ঢাকা (গাবতলী বা কল্যাণপুর) থেকে নাটোর, রাজশাহী বা বনপাড়াগামী যেকোনো দূরপাল্লার বাসে উঠে বনপাড়া বাইপাস অথবা হাটিকুমরুল-বনপাড়া হাইওয়ের কোনো পয়েন্টে নামতে হবে। কিছু সরাসরি বাসও রয়েছে যা সরাসরি গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার পর্যন্ত যায়। • ট্রেনে: ঢাকা বা খুলনা থেকে ট্রেনে আসতে চাইলে নাটোর রেলওয়ে স্টেশন অথবা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে বাস বা সিএনজি নিয়ে গুরুদাসপুর আসতে পারবেন। ২. নাটোর সদর বা বনপাড়া থেকে বিলশা গ্রাম • রুট: নাটোর সদর বা বনপাড়া বাইপাস থেকে প্রথমে সিএনজি, লেগুনা বা লোকাল বাসে করে গুরুদাসপুর উপজেলা সদর অথবা চাঁচকৈড় বাজারে আসতে হবে (দূরত্ব প্রায় ৩০-৩৫ কিমি)। • মূল গন্তব্য: গুরুদাসপুর সদর বা চাঁচকৈড় বাজার থেকে সরাসরি অটো-রিকশা, ইজি বাইক বা মোটরসাইকেল ভাড়া করে বিলশা গ্রামের ‘মা জননী সেতু’ বা বিলশা পয়েন্টে যাওয়া যায়। ৩. নৌপথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (বর্ষাকালে) আপনি যদি গাড়ির বদলে নৌকায় চলনবিল উপভোগ করতে চান, তবে গুরুদাসপুর ঘাটে এসে নৌকা বা ট্রলার রিজার্ভ করতে পারেন। এছাড়া পাবনার চাটমোহর বা সিরাজগঞ্জের তাড়াশের বিভিন্ন ঘাট থেকেও বর্ষাকালে সরাসরি নৌকা নিয়ে বিলশা পয়েন্টে আসা যায়।
কোথায় থাকবেন
উপজেলার কাছাকাছি
কাছে খাবারের ব্যবস্থা
আছে
কাছের দর্শনীয় স্থান
পাটুল
আরও ছবি








ম্যাপে অবস্থান
পাঠিয়েছেন ABM MAHI, নাটোর · ০৭/১০/২০২৬। তথ্যগুলো একজন দর্শনার্থীর পাঠানো, যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে যাচাই করে নিন।
Unseen Bangladesh অ্যাপে খুলুন →